মার্কিন-ইরান অবরোধের মাঝেই হরমুজ প্রণালি পার হলো ৩ জাহাজ; হিজবুল্লার হামলায় ১১ ইসরায়েলি সেনা আহত
দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লার ড্রোন হামলায় ১১ ইসরায়েলি সেনা আহত
দক্ষিণ লেবাননের বিনত জবেইল এলাকায় ড্রোন হামলায় অন্তত ১১ জন ইসরায়েলি সেনা আহত হয়েছেন।
সোমবার (১৪ এপ্রিল) রাতে এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো নিশ্চিত করেছে।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হিজবুল্লাহর শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বিনত জবেইল এলাকায় অবস্থানকালে ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে এই ড্রোন হামলা চালানো হয়।
আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে তাদের আঘাতের মাত্রা কতটা গুরুতর সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
মার্কিন-ইরান অবরোধের মাঝেই হরমুজ প্রণালি পার হলো ৩ জাহাজ
সোমবার থেকে কার্যকর হওয়া মার্কিন অবরোধের মধ্যেই মঙ্গলবার অন্তত তিনটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালি দিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছে। নৌ-চলাচল সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণকারী সংস্থা এলএসজিই এবং কেপলার-এর তথ্যে এই চিত্র উঠে এসেছে।
শিপিং তথ্য অনুযায়ী, পানামার পতাকাবাহী 'পিস গাল্ফ' নামের একটি জাহাজ বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের হামরিয়া বন্দরের দিকে যাচ্ছে। জাহাজটি ইরানের লারক এবং হরমুজ দ্বীপের মধ্যবর্তী একটি নতুন রুট ব্যবহার করছে।
ইরানের ইসলামি রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) নির্দেশিত এই নতুন রুটটি বর্তমানে সব ধরনের নৌযানকে ব্যবহারের জন্য বলা হয়েছে।
এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা আরও দুটি ট্যাঙ্কার—'রিচ স্টারি' এবং 'এলপিস'—এই কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ অতিক্রম করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এই তিনটি ট্যাঙ্কারের কোনোটিই ইরানি বন্দরে যাচ্ছিল না। ফলে সোমবার থেকে ইরানের ওপর কার্যকর হওয়া মার্কিন নৌ-অবরোধের আওতায় এই জাহাজগুলো পড়েনি এবং কোনো ধরনের বাধার সম্মুখীন না হয়েই পথ অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে।
মার্কিন অবরোধ মোকাবিলায় ৮ হাজার কিমি সীমান্ত ব্যবহারের ঘোষণা ইরানের
হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন নৌ-অবরোধ ইরানের ওপর কোনো প্রভাব ফেলতে পারবে না বলে দাবি করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এস্কান্দার মোমেনি। ইরানের প্রায় ৮ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি (৫,০০০ মাইল) দীর্ঘ স্থল ও জলপথের সীমান্তই এই অবরোধ মোকাবিলায় প্রধান হাতিয়ার হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ইরানি সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেনি দেশের সীমান্ত সংলগ্ন প্রদেশগুলোর কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির প্রক্রিয়া আরও সহজতর ও ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দেন, যাতে মার্কিন নৌ-অবরোধের 'হুমকি নস্যাৎ' করা যায়।
বিবৃতিতে মোমেনি বলেন, ইরানের বিশাল এবং বৈচিত্র্যময় সীমান্ত ব্যবস্থা থাকার কারণে দেশটি বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হবে না। মূলত স্থলপথের বাণিজ্যিক রুটগুলো ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় সরবরাহ সচল রাখাই এখন তেহরানের মূল লক্ষ্য।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ থাকলেও তুরস্ক, পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর সাথে ইরানের স্থল সীমান্ত বাণিজ্য সচল থাকলে দেশটি বড় ধরনের সংকট এড়িয়ে চলতে সক্ষম হতে পারে।
ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি নবায়ন স্থগিত করল ইতালি
বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির স্বয়ংক্রিয় নবায়ন স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে ইতালি। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।
ইতালীয় সংবাদ সংস্থা 'আনসা'-র বরাতে জানা গেছে, ভেরোনায় একটি অনুষ্ঠানের ফাঁকে মেলোনি বলেন, 'বর্তমান পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে সরকার ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির স্বয়ংক্রিয় নবায়ন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।'
সংবাদ মাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আওতায় দুই দেশের মধ্যে সামরিক সরঞ্জাম বিনিময় এবং উন্নত প্রযুক্তিগত গবেষণার কাজ চলত।
ইরানি বন্দরে মার্কিন নৌ-অবরোধ 'বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন': চীন
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধের কড়া সমালোচনা করে একে 'বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ' বলে অভিহিত করেছেন।
এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্র যে সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি করেছে এবং পরিকল্পিতভাবে এই অবরোধ আরোপ করেছে, তা কেবল উত্তেজনাকেই আরও উসকে দেবে। এটি ইতোমধ্যেই ভঙ্গুর অবস্থায় থাকা যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করবে।'
গুও জিয়াকুন আরও বলেন, মার্কিন এই পদক্ষেপ 'হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তাকে আরও ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।'
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
যুদ্ধে ইরানের প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৭০ বিলিয়ন ডলার, চাইবে ক্ষতিপূরণ
ইরান জানিয়েছে, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী তাদের বর্তমান যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে সরকারি এক মুখপাত্র সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, এই অংকটি প্রাথমিক এবং চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, সরকারি মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি রাশিয়ার 'রিয়া নোভোস্তি' সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই হিসাব তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, 'আমাদের প্রতিনিধি দল যে বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছে এবং যা ইসলামাবাদ আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে, তার অন্যতম হলো যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ। ক্ষয়ক্ষতি সাধারণত বিভিন্ন স্তরে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলি হামলার কারণে বর্তমানে ইরানের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৭০ বিলিয়ন ডলার বলে ধারণা করা হচ্ছে।'
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
যুদ্ধেও ইরানের তেল বিক্রি সন্তোষজনক: জ্বালানি মন্ত্রী
ইরানের তেল মন্ত্রী মোহসেন পাকনেজাদ জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানের তেল বিক্রির হার 'সন্তোষজনক' রয়েছে। ফারস নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পাকনেজাদ বলেন, তেল বিক্রির মাধ্যমে অর্জিত সম্পদের একটি অংশ যুদ্ধের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প খাতের পুনর্গঠনে ব্যবহার করা উচিত।
মন্ত্রী গত মাসে জানিয়েছিলেন যে, আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানি অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মধ্যেও ইরানের জ্বালানি খাত বড় অংকের রাজস্ব আয় করতে সক্ষম হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
ইরান ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ফোনালাপ: যুদ্ধবিরতি ও দ্বিপাক্ষিক আলোচনা নিয়ে পর্যালোচনা
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি তার ওমানি সমকক্ষ বদর বিন হামাদ আলবুসাইদির সঙ্গে টেলিফোনে আলাপ করেছেন। মেহের নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, তারা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান 'যুদ্ধবিরতি এবং আলোচনা'র সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন।
আরাগচি এই ফোনালাপে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এই স্থিতিশীলতা অর্জনে অঞ্চলের সব দেশের সহযোগিতা ও অংশগ্রহণ প্রয়োজন এবং একে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের 'ধ্বংসাত্মক হস্তক্ষেপ' থেকে দূরে রাখতে হবে।
ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলবুসাইদি তার পক্ষ থেকে আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই অঞ্চলে খুব দ্রুতই শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কয়েক দফা আলোচনার পরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। এ ক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় থাকা ওমান জানিয়েছিল যে, একটি চুক্তি 'হাতের নাগালে' থাকা সত্ত্বেও যুদ্ধ শুরু হয়েছিল।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
মার্কিন নৌ-অবরোধ উপেক্ষা করে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করল চীনা জাহাজ
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে একটি চীনা ট্যাঙ্কার মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য থেকে এই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। বর্তমানে এই এলাকায় মার্কিন নৌবাহিনীর কঠোর অবরোধ চলা সত্ত্বেও জাহাজটি সফলভাবে এই পথ অতিক্রম করল।
এলএসইজি, মেরিন ট্রাফিক এবং কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, 'রিচ স্টারি' নামের এই জাহাজটিই প্রথম কোনো নৌযান, যা মার্কিন অবরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে সফলভাবে প্রণালিটি পাড়ি দিয়ে পারস্য উপসাগর থেকে বের হতে পেরেছে।
এই বিশেষ ট্যাঙ্কার এবং এর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান 'সাংহাই জুয়ানরুন শিপিং কোম্পানি লিমিটেড' ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক লেনদেনের দায়ে আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য কোম্পানিটির সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, 'রিচ স্টারি' একটি মাঝারি পাল্লার ট্যাঙ্কার। এটি প্রায় ২ लाख ৫০ হাজার ব্যারেল মিথানল বহন করছে। জাহাজটি তার সর্বশেষ গন্তব্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের 'হামরিয়াহ' বন্দর থেকে এই পণ্য বোঝাই করেছিল। এই চীনা মালিকানাধীন জাহাজে ক্রু হিসেবে চীনা নাগরিকরাই রয়েছেন।
এলএসইজি-এর তথ্য আরও জানাচ্ছে যে, 'মুরলীকিষাণ' নামক আরও একটি মার্কিন-নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত জাহাজ মঙ্গলবারই এই প্রণালির দিকে যাত্রা করেছে। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, খালি অবস্থায় থাকা এই 'হ্যান্ডিসাইজ' ট্যাঙ্কারটি আগামী ১৬ এপ্রিল ইরাক থেকে জ্বালানি তেল বোঝাই করার কথা রয়েছে। পূর্বে 'এমকেএ' নামে পরিচিত এই জাহাজটি এর আগে রাশিয়া এবং ইরানের তেল পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হয়েছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
ইরানে নৌ-অবরোধ শুরু: মধ্যপ্রাচ্যে ১৫টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ শুরু করেছে মার্কিন নৌবাহিনী। একজন মার্কিন কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই অভিযানে অংশ নিতে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে একটি বিমানবাহী রণতরী ও ১১টি ডেস্ট্রয়ারসহ অন্তত ১৫টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে।
যদিও প্রতিটি জাহাজের অবস্থান বা কোনোটি সরাসরি এই মুহূর্তে এই অভিযানে যুক্ত আছে তা নির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি, তবে পূর্ববর্তী সামরিক তথ্য অনুযায়ী এগুলোকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের আওতাভুক্ত বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে রাখা হয়েছে।
অবরোধ ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় মোতায়েনকৃত প্রধান জাহাজগুলো হলো:
বিমানবাহী রণতরি:
- ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন
ডেস্ট্রয়ার:
- ইউএসএস বেইনব্রিজ
- ইউএসএস থমাস হুডনার
- ইউএসএস ফ্রাঙ্ক ই. পিটারসেন জুনিয়র
- ইউএসএস ডেলবার্ট ডি. ব্ল্যাক
- ইউএসএস জন ফিন
- ইউএসএস মাইকেল মারফি
- ইউএসএস মিটশার
- ইউএসএস পিঙ্কনি
- ইউএসএস রাফায়েল পেরাল্টা
- ইউএসএস স্প্রুয়েন্স
- ইউএসএস মিলিয়াস
ত্রিপোলি অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি গ্রুপ:
- ইউএসএস ত্রিপোলি
- ইউএসএস নিউ অরলিন্স
- ইউএসএস রাশমোর
অন্যান্য জাহাজের অবস্থান
ইউএসএনআই নিউজের পাবলিক ট্র্যাকার অনুযায়ী, 'ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড' বিমানবাহী রণতরীটি, যেটি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিচ্ছিল, সেটি গত মাসে মেরামতের জন্য গ্রিসে পাঠানো হয়েছিল। বর্তমানে এটি পূর্ব ভূমধ্যসাগরে অবস্থান করছে। এর সাথে বেশ কিছু ডেস্ট্রয়ার এবং অন্যান্য সহায়ক জাহাজ রয়েছে। তবে এই মুহূর্তে নৌ-অবরোধে যোগ দিতে হলে এই বহরটিকে সুয়েজ খাল পার হয়ে অথবা পুরো আফ্রিকা মহাদেশ ঘুরে আসতে হবে।
তথ্যসূত্র: সিএনএন
আলোচনা সফল করতে ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের 'অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ' শর্তগুলো মেনে নিতে হবে : জেডি ভ্যান্স
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরান সরকারের বিরুদ্ধে 'অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ'-এর অভিযোগ তুলেছেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে ইরান এই কাজ করছে।
ফক্স নিউজের ব্রেট বেয়ারকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেখিয়ে দিয়েছেন যে 'এই খেলাটি দুই পক্ষই খেলতে পারে।' তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান যদি এভাবে 'অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদে' লিপ্ত থাকে, তবে যুক্তরাষ্ট্রও পাল্টা ব্যবস্থা নেবে এবং নিশ্চিত করবে যে 'ইরানের কোনো জাহাজও যেন বের হতে না পারে।'
গত সপ্তাহান্তে ইরানের সঙ্গে হওয়া আলোচনা প্রসঙ্গে ভ্যান্স জানান, সেখানে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, 'এখন বল পুরোপুরি ইরানের কোর্টে।'
ভ্যান্সের মতে, আলোচনা সফল করতে হলে ইরানকে নমনীয় হতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া 'অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ' শর্তগুলো মেনে নিতে হবে। এই প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং ইরান যাতে ভবিষ্যতে আর কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করার জন্য একটি শক্তিশালী তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
তথ্যসূত্র: বিবিসি
মার্কিন নৌ-অবরোধ সার্বভৌমত্বের 'গুরুতর লঙ্ঘন': ইরান
ওয়াশিংটন ও তেহরানের উত্তপ্ত বাদানুবাদে যখন একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি নড়বড়ে হয়ে পড়েছে, ঠিক তখন ইরান তার বন্দরগুলোর চারপাশে মার্কিন নৌ-অবরোধকে তার সার্বভৌমত্বের 'গুরুতর লঙ্ঘন' বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এএফপি-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি এ বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে একটি চিঠি লিখেছেন। এএফপির দেখা ওই চিঠিতে ইরাভানি লিখেছেন, 'একটি সামুদ্রিক অবরোধ আরোপ করা ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার এক গুরুতর লঙ্ঘন।'
ইরাভানি চিঠিতে আরও উল্লেখ করেছেন যে, এই 'বেআইনি অবরোধ আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের মৌলিক নীতিগুলোরও একটি গুরুতর লঙ্ঘন।'
উল্লেখ্য, সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর নতুন করে চাপ প্রয়োগের লক্ষে দেশটির বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধের ঘোষণা দেন। এরপর থেকেই দুই দেশের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, যা গত সপ্তাহে কার্যকর হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
তথ্যসূত্র: ডন
ইরানকে ২০ বছর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখার প্রস্তাব দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনায় ইরানকে ২০ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখার প্রস্তাব দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। সংশ্লিষ্ট এক মার্কিন সূত্র এবং একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
এদিকে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাল্টা প্রস্তাবে ইরান এই সময়সীমা ৫ বছরের কম রাখার কথা বলেছে।
মূলত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েই দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে তেহরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ এবং মজুত করা ইউরেনিয়াম ধ্বংস করতে রাজি হবে কি না, সেটাই প্রধান বিবেচ্য বিষয় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে। সূত্রগুলো বলছে, এ কারণেই কোনো চুক্তি ছাড়াই আলোচনা শেষ হয়েছে।
ওই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে তাদের দেশ থেকে সব উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে ফেলতেও বলেছে। তবে ইরান জানিয়েছে, এর বদলে তারা নজরদারির মধ্য দিয়ে ইউরেনিয়ামের মাত্রা কমানোর প্রক্রিয়ায় (ডাউন-ব্লেডিং) রাজি আছে।
তথ্যসূত্র: অ্যাক্সিওস
আলোচনা অনেকটা এগিয়েছে, 'বড় চুক্তি' হতে পারে, কিন্তু বল এখন ইরানের কোর্টে: ভ্যান্স
ইরানের সঙ্গে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র 'অনেকটা অগ্রগতি' অর্জন করেছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ফক্স নিউজের 'স্পেশাল রিপোর্ট উইথ ব্রেট বেয়ার' অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
সামনে আরও আলোচনা হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ভ্যান্স বলেন, এখন সিদ্ধান্ত ইরানের হাতে। গত সপ্তাহে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত আলোচনা ছেড়ে আসার কারণও ব্যাখ্যা করেন তিনি। ভ্যান্স দাবি করেন, 'সেখানে থাকা ইরানি প্রতিনিধিদল কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারছিল না। আমাদের দেওয়া শর্তগুলোর অনুমোদন নিতে তাদের তেহরানে ফিরে যেতে হতো। এই অনুমোদন আসতে হবে তাদের সর্বোচ্চ নেতা বা অন্য কারও কাছ থেকে।'
সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, 'এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, ইরানিরা যথেষ্ট নমনীয়তা দেখাবে কি না। চুক্তি চূড়ান্ত করার জন্য যেসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আমাদের নিশ্চিত করা প্রয়োজন, তারা সেগুলো মেনে নেবে কি না।' তিনি আরও বলেন, 'সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অবশ্যই ইরান থেকে সরিয়ে নিতে হবে। পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে তাদের চূড়ান্ত প্রতিশ্রুতিও আমাদের পেতে হবে।'
তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র-ইরান দ্বিতীয় দফার আলোচনা হতে পারে, আয়োজক হতে চায় পাকিস্তান
ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এবং অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) তাদের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তা এবং কূটনীতিকদের বরাত দিয়ে এপি জানিয়েছে, দুই পক্ষ আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যেই 'দ্বিতীয় দফার আলোচনায়' বসতে পারে।
এপি আরও জানিয়েছে, বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার দ্বিতীয় দফার আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে পাকিস্তান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাকিস্তানের দুজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থাটি এই তথ্য জানিয়েছে।
ওই কর্মকর্তারা বলেছেন, প্রস্তাবটি কার্যকর হওয়া নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো অন্য কোনো স্থানে আলোচনার অনুরোধ জানায় কি না তার ওপর।
রয়টার্স জানিয়েছে, ইসলামবাদ বৈঠকের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতাকারীদের সাথে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রেখেছে এবং পাকিস্তান বর্তমানে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বার্তার আদান-প্রদান করছে। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক একজন কূটনীতিক এবং আলোচনার সাথে জড়িত একটি সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী—প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের সূত্র ধরে একজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ সচল রয়েছে এবং একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর প্রক্রিয়া সামনের দিকে এগোচ্ছে।
এপি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহে বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ছয় সপ্তাহের এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসান ঘটাতে দুই পক্ষ পুনরায় সরাসরি বৈঠকে বসার বিষয়টি বিবেচনা করছে।
মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর একজন কূটনীতিক জানিয়েছেন, আলোচনার ভেন্যু হিসেবে আবারও ইসলামবাদের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, জেনেভাতেও এই বৈঠক হতে পারে। আলোচনার স্থান ও সময় এখনো চূড়ান্ত না হলেও আগামী বৃহস্পতিবারই তা অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
