ইরান চুক্তি করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে: দাবি ট্রাম্পের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি চুক্তি করতে 'মরিয়া'।
বর্তমান অচলাবস্থা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, মূল বিষয়টি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ঘিরে। তিনি যোগ করেন, ইরানের হাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, 'আমরা অনেক বিষয়ে একমত হয়েছি।' তবে তিনি ইঙ্গিত দেন, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি।
সূত্র: আল জাজিরা
ইরানের সব বন্দর অবরোধ শুরু, ইরানি জাহাজ পাওয়া মাত্র ধ্বংস করার হুমকি ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা (বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা) থেকে এ অবরোধ শুরু হয়।
এদিকে অবরোধ কার্যকর হওয়ায় ইরানি জাহাজগুলোকে হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, 'উপসাগরে আমাদের অবরোধের কাছাকাছি যদি ইরানের কোনো একটি জাহাজও আসে, তবে আমরা তৎক্ষণাৎ সেটি শেষ করে দেব।'
তবে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান হুমকির মুখে 'নতি স্বীকার করবে না'।
পৃথক একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে অন্য দেশে যাতায়াতকারী জাহাজ চলাচলে মার্কিন নৌবাহিনী 'বাধা সৃষ্টি করবে না'।
সূত্র: আল জাজিরা
অবরোধের লক্ষ্য 'ব্ল্যাকমেইল' বা 'বিশ্বের কাছে চাঁদাবাজি করা' থেকে ইরানকে বিরত রাখা: ট্রাম্প
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বন্দরগুলো অবরোধের লক্ষ্য হলো 'ব্ল্যাকমেইল' বা 'বিশ্বের কাছে চাঁদাবাজি করা' থেকে ইরানকে বিরত রাখা।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল নয়। আমরা এই প্রণালি ব্যবহার করি না। তিনি দাবি করেন, তার দেশের কাছে 'সৌদি আরব ও রাশিয়ার চেয়েও বেশি তেল ও গ্যাস রয়েছে।'
ট্রাম্প বলেন, 'অনেক দেশ' এখন 'সবচেয়ে ভালো এবং সবচেয়ে উৎকৃষ্ট' তেলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ঝুঁকছে।
অন্য দেশগুলো এই অবরোধকে সমর্থন করবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, 'আমাদের অন্য দেশের প্রয়োজন নেই। তবে কিছু দেশ সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। এ বিষয়ে বিস্তারিত 'আগামীকাল' প্রকাশ করবেন বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প।
সূত্র: আল জাজিরা
ট্রাম্পের হরমুজ অবরোধ নিয়ে এ পর্যন্ত যা জানা গেল
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা গ্রিনিচ মান সময় ১৪টা থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে প্রবেশ ও প্রস্থানকারী সব সামুদ্রিক যান চলাচল বন্ধ করে দেবে।
এক মার্কিন কর্মকর্তা আল জাজিরাকে বলেছেন, সামরিক বাহিনী অবরোধ আরোপ ও তা বজায় রাখতে প্রস্তুত। তবে অবরোধ লঙ্ঘন করলে কী হবে, সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি আরও বলেন, ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যতদিন প্রয়োজন, এই অবরোধ কার্যকর রাখার জন্য মার্কিন বাহিনী ও যথেষ্ট সরঞ্জাম রয়েছে।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনী আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই নিষেধাজ্ঞাকে 'জলদস্যুতা'র সমতুল্য একটি 'অবৈধ কাজ' বলে অভিহিত করেছে। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সতর্ক করেছে, হরমুজ প্রণালির দিকে যেকোনো যুদ্ধজাহাজ এগিয়ে এলে তা হবে বর্তমান যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন।
যুক্তরাষ্ট্র এমন সময়ে হরমুজ প্রণালি অবরোধের ঘোষণা দিল, যখন বেশ কিছুদিন আগে থেকেই জলপথটি বন্ধ রেখেছে ইরান।
মিত্র দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন তেমন নেই বললেই চলে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, ব্রিটেন এই অবরোধ সমর্থন করে না। অন্যদিকে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেন বলেছেন, নৌচলাচলের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার করা 'সবার আগে'।
সূত্র: আল জাজিরা
আমরা 'শান্তি স্থাপনকারী', রাজনীতিবিদ নই: ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাবে পোপ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পোপ লিও চতুর্দশের তীব্র সমালোচনা করেছেন। জবাবে পোপ বলেছেন, তিনি শান্তি স্থাপনকারী, কোনো রাজনীতিবিদ নন।
আলজেরিয়া সফরের আগে সাংবাদিকদের পোপ বলেন, 'ট্রাম্প প্রশাসনকে আমার কোনো ভয় নেই, কিংবা সুসমাচারের বাণী উচ্চস্বরে প্রচার করতেও আমার কোনো ভয় নেই, যা করার জন্যই আমি এখানে এসেছি বলে আমি বিশ্বাস করি, যা করার জন্যই গির্জা এখানে রয়েছে।'
পোপ আরও বলেন, 'আমরা রাজনীতিবিদ নই। তিনি (ট্রাম্প) যেভাবে পররাষ্ট্রনীতি বোঝেন, আমরা সেই একই দৃষ্টিকোণ থেকে তা দেখি না। কিন্তু একজন শান্তি স্থাপনকারী হিসেবে আমি সুসমাচারের বাণীতে বিশ্বাস করি।'
এর আগে গতকাল রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে ট্রাম্প পোপের সমালোচনা করে বলেন, তিনি (পোপ) 'অপরাধ দমনে দুর্বল' ও 'পররাষ্ট্র নীতির জন্য ভয়াবহ'।
সূত্র: আল জাজিরা
ইরানি ট্যাঙ্কার আটক করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য 'কঠিন অভিযান': তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক
ইরানের বন্দরগুলো থেকে জাহাজ চলাচল বন্ধ করার যে কোনো মার্কিন পদক্ষেপ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে বলে মন্তব্য করেছেন তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ ফেলো মোহাম্মদ ইসলামি।
তিনি বলেন, এই বিশাল জলপথে তেলবাহী ট্যাঙ্কার এবং সুপারট্যাঙ্কারগুলো থামানো মার্কিন সেনাবাহিনীর জন্য একটি 'কঠিন অভিযান' হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী এই বিশাল জলসীমায় জাহাজগুলো থামানোর সক্ষমতা রাখে কি না, তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
মোহাম্মদ ইসলামি জানান, ইরান বর্তমানে ব্যাপক সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছে। আমেরিকা ও ইসরায়েলের হামলার হুমকির মুখেও দেশটি তাদের প্রয়োজনীয় খাদ্য ও অন্যান্য পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে বদ্ধপরিকর এবং কোনোভাবেই এই পথ বন্ধ হতে দিতে চায় না।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তেহরান বর্তমানে ওয়াশিংটনকে একটি অত্যন্ত জোরালো বার্তা দিতে চাইছে। যদিও সংকটের কূটনৈতিক সমাধানের বিষয়ে বিভিন্ন পক্ষ চিন্তাভাবনা করছে, তবুও হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত উভয় পক্ষের জন্যই একটি চরম এবং বিপজ্জনক পদক্ষেপ হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।
ওমান উপসাগরে সব জাহাজে অবরোধ কার্যকরের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের
ওমান উপসাগর ও আরব সাগরে চলাচলকারী সকল জাহাজের ওপর সামরিক অবরোধ কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, হরমুজ প্রণালীর পূর্ব দিকের এই জলসীমায় জাহাজ চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে যুক্তরাষ্ট্র।
নাবিকদের উদ্দেশে পাঠানো এক সতর্কবার্তায় সেন্টকম জানিয়েছে, পতাকাবাহী দেশ নির্বিশেষে যে কোনো জাহাজ অনুমতি ছাড়া এই অবরুদ্ধ এলাকায় প্রবেশ করলে বা সেখান থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে সেটিকে ইন্টারসেপ্ট (পথরোধ), গতিপথ পরিবর্তন কিংবা সরাসরি জব্দ করা হতে পারে।
তবে এই অবরোধের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ শর্ত জুড়ে দিয়েছে মার্কিন বাহিনী। সেন্টকম স্পষ্ট করেছে যে, ইরান ছাড়া অন্য কোনো গন্তব্যে যাওয়ার পথে হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোনো 'নিরপেক্ষ জাহাজ' চলাচল করলে তাতে বাধা দেওয়া হবে না। অর্থাৎ, এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ইরান সংশ্লিষ্ট সমুদ্রপথের বাণিজ্য বিচ্ছিন্ন করা।
যুদ্ধের ক্ষত কাটিয়ে রেল যোগাযোগ সচল করল ইরান
প্রায় ৪০ দিন ধরে চলা যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির পর ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন ও অবকাঠামো মেরামত করে মূল রুটগুলোতে পুনরায় ট্রেন চলাচল শুরু করেছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানা গেছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুদ্ধের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজ, রেললাইন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পুনর্গঠনের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে।
ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় আজারবাইজান অঞ্চলের রেলওয়ে মহাপরিচালক নিশ্চিত করেছেন যে, তাবরিজ শহর থেকে রাজধানী তেহরান এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মাশহাদ রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
অন্যদিকে, তেহরানের দক্ষিণে অবস্থিত কোম শহরের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ রেল সেতু শনিবার পুনরায় চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। কোম প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর খসরু সামারি জানান, মাত্র ৪০ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে রেকর্ড গতিতে সেতুটির পুনর্গঠন কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
শুক্রবার ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা গেছে কেন্দ্রীয় ইসফাহান প্রদেশের কাশান শহরের ইয়াহিয়া আবাদ সেতু দিয়ে ট্রেন চলাচল করছে।
তবে রেল যোগাযোগ দ্রুত সচল হলেও অন্যান্য অবকাঠামো মেরামতে সময় লাগবে বলে জানিয়েছে ইরান সরকার। সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি রবিবার জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোর পুনর্গঠন কাজ সম্পন্ন করতে তিন মাস থেকে দুই বছর পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।
হরমুজ অবরোধে সমর্থন দেবে না যুক্তরাজ্য: প্রধানমন্ত্রী স্টারমার
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, চাপ যে ধরনেরই হোক না কেন, ব্রিটেনকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে টেনে নেওয়া যাবে না এবং দেশটি হরমুজ প্রণালির কোনো প্রকার অবরোধকে সমর্থন করবে না।
প্রধানমন্ত্রী স্টারমার বলেন, 'আমার দৃষ্টিতে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে আমরা যেন প্রণালিটিকে পুনরায় এবং সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত করতে পারি। গত কয়েক দিন ধরে আমরা সেই লক্ষ্যেই আমাদের সমস্ত প্রচেষ্টা নিয়োজিত করেছি এবং আমরা তা অব্যাহত রাখব।'
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
'৪ ডলারের তেলের জন্য শিগগিরই নস্টালজিক হয়ে পড়বে মার্কিনীরা': ইরানের স্পিকার গালিবাফ
গত সপ্তাহে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে বৈঠক করা ইরানি প্রতিনিধি দলের প্রধান ও দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, আমেরিকানরা খুব শিগগিরই ৪ ডলার প্রতি গ্যালন তেলের কথা ভেবে আফসোস করবেন।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেয়া এক পোস্টে গালিবাফ লেখেন, 'বর্তমানে তেলের পাম্পের মূল্যগুলো উপভোগ করে নিন। তথাকথিত 'অবরোধের' ফলে শিগগিরই আপনারা ৪ থেকে ৫ ডলারের তেলের জন্য নস্টালজিক হয়ে পড়বেন।'
গালিবাফ তার এই পোস্টের সঙ্গে ওয়াশিংটন ডিসিতে 'হোয়াইট হাউসের কাছের পেট্রোল পাম্প' লিখে সার্চ করা একটি স্ক্রিনশটও যুক্ত করেন। এছাড়া তিনি একটি গাণিতিক সমীকরণও পোস্ট করেন, যার মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে সামনে তেলের দাম জ্যামিতিক হারে বাড়বে।
আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ১২ এপ্রিল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ মানের গ্যাসোলিনের গড় খুচরা মূল্য প্রতি গ্যালন ৪.১২ ডলার।
উল্লেখ্য, ইসলামাবাদে দুই দেশের মধ্যকার শান্তি আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হওয়ার পর এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নৌ-অবরোধের ঘোষণার প্রেক্ষিতে এই কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন ইরানি এই নেতা। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে চরম অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের হুমকি দিয়েছিলেন। তারই পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে জ্বালানি তেলের বিশ্ববাজারের সংকটের দিকে ইঙ্গিত করলেন গালিবাফ।
তথ্যসূত্র: সিএনএন
মার্কিন নৌ-অবরোধ 'অবৈধ ও জলদস্যুতা': ইরানের সশস্ত্র বাহিনী
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বিত কমান্ড জানিয়েছে যে, পারস্য উপসাগর এবং ওমান সাগরের বন্দরগুলো হয় সবার জন্য খোলা থাকবে, নয়তো কারো জন্যই নয়। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবি এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'ইরান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্র বাহিনী দেশের আইনগত অধিকার রক্ষা করাকে একটি স্বাভাবিক ও আইনি কর্তব্য বলে মনে করে। সেই অনুযায়ী, দেশের জলসীমায় সার্বভৌমত্ব বজায় রাখা ইরানি জাতির প্রাকৃতিক অধিকার।'
বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, 'শত্রু-সংশ্লিষ্ট' কোনো জাহাজকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা তথা হরমুজ প্রণালী দিয়ে যেতে দেওয়া হবে না। তবে অন্যান্য দেশের জাহাজগুলো তেহরানের নির্ধারিত নিয়মকানুন মেনে চলাচলের অনুমতি পাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে ইরান বলেছে, 'আন্তর্জাতিক জলসীমায় চলাচলের ওপর অপরাধী যুক্তরাষ্ট্রের এই বিধিনিষেধ একটি অবৈধ কাজ এবং এটি জলদস্যুতার শামিল।'
যদি ইরানের কোনো বন্দরের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে, তবে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য কোনো বন্দরই 'নিরাপদ থাকবে না' বলে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির শক্তিশালী এই সামরিক কমান্ড।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
হরমুজ প্রণালির কাছে সামরিক জাহাজ এলেই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হিসেবে ধরা হবে: ইরান
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক কঠোর সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, কোনো বিদেশি সামরিক জাহাজ যদি হরমুজ প্রণালির কাছে যাওয়ার চেষ্টা করে, তবে তাকে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হবে। এ ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর ও সিদ্ধান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি বর্তমানে ইরানের নৌবাহিনীর 'স্মার্ট ম্যানেজমেন্ট' এবং পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
বিবৃতিতে আইআরজিসি আরও যোগ করেছে যে, হরমুজ প্রণালি বর্তমানে অসামরিক বা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জন্য খোলা আছে। তবে তাদের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও নিয়মকানুন মেনে চলা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
ইরানে আবারও বিমান হামলার কথা ভাবছেন ট্রাম্প: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল
গত সপ্তাহে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে আবারও বিমান হামলা শুরু করার বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলে জানা গেছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে যে, রোববার ঘোষিত হরমুজ প্রণালির নৌ-অবরোধের পাশাপাশি ট্রাম্প এই বিমান হামলার পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে ভাবছেন। উল্লেখ্য, পাকিস্তানে আয়োজিত আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের কোনো স্থায়ী সমাধান না আসায় এই কঠোর অবস্থানের কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।
এই প্রতিবেদনের বিষয়ে বিবিসির পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, তাদের সামনে সব পথই খোলা রয়েছে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস বলেন, 'প্রেসিডেন্ট ইতিমধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে একটি নৌ-অবরোধের নির্দেশ দিয়েছেন, যা ইরানের জবরদস্তি বন্ধ করবে। তিনি বিচক্ষণতার সঙ্গে অন্যান্য সব বিকল্পও টেবিলে রেখেছেন। যারা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলছেন যে তারা জানেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরবর্তীতে কী করবেন, তারা কেবল জল্পনা করছেন।'
তথ্যসূত্র: বিবিসি
এশীয় শেয়ারবাজারে বড় দরপতন, তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়াল
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়া এবং ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নৌ-অবরোধের নির্দেশের পর এশীয় শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
জাপানের প্রধান শেয়ার বাজার সূচক নিক্কেই ২২৫ আজ ০.৮৪ শতাংশ এবং টপিক্স ০.৪২ শতাংশ কমেছে। একইভাবে দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক ১.৮৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
রোববার দুই দেশের মধ্যে কোনো সমঝোতা ছাড়াই আলোচনা শেষ হওয়ায় জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা বেড়ে যায়। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দাম ৮.৫৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৪.৮৪ ডলার এবং ব্রেন্ট ক্রুড ৮.৬১ শতাংশ বেড়ে ১০৩.৩৮ ডলারে পৌঁছেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই বিশ্ববাজারে অস্থিরতা চলছে। বিশেষ করে ইরান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় এই সংকট ঘনীভূত হয়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
মার্কিন নৌ-অবরোধ ব্যর্থ হতে বাধ্য: ইরান
ইরানের এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিলের সদস্য মোহসেন রেজায়ি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পিত নৌ-অবরোধকে তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, এই পরিকল্পনা 'ব্যর্থ হতে বাধ্য'।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবি-এর প্রতিবেদনে রেজায়িকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, 'হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার ক্ষেত্রে যেমন আমেরিকা ইরানের কাছে ঐতিহাসিক পরাজয় বরণ করেছে, তেমনি এই নৌ-অবরোধের ক্ষেত্রেও তারা পরাজিত হতে চলেছে।'
রেজায়ি আরও সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী 'আমেরিকাকে এই কাজ (অবরোধ) করতে দেবে না' এবং একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, এ ধরনের পদক্ষেপ মোকাবিলায় ইরানের কাছে 'অব্যবহৃত শক্তিশালী কৌশল' রয়েছে।
তিনি যোগ করেন, 'ইরান এমন কোনো জায়গা নয় যে যাকে স্রেফ কিছু টুইট বা কাল্পনিক পরিকল্পনা দিয়ে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলা যাবে।'
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
ইরানের সব সমুদ্রবন্দরে অবরোধের ঘোষণা মার্কিন সামরিক বাহিনীর
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত দীর্ঘ ম্যারাথন শান্তি আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হওয়ার পর তেহরানের ওপর চাপ বাড়াতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির সামরিক বাহিনী সোমবার থেকে ইরানের সব সমুদ্রবন্দরে অবরোধ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড রবিবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই অবরোধ আজ ১৩ এপ্রিল সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হবে। এই ঘোষণা অনুযায়ী, পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরসহ ইরানের সব বন্দরে প্রবেশকারী এবং সেখান থেকে ছেড়ে আসা সব ধরণের নৌযান এই অবরোধের আওতায় থাকবে।
সেন্টকম স্পষ্ট করেছে যে, ইরানের যে কোনো বন্দরে বা উপকূলীয় এলাকায় যাতায়াতকারী যে কোনো দেশের জলযানের ক্ষেত্রেই এই কড়াকড়ি প্রযোজ্য হবে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
ইরান আলোচনায় ফিরে আসুক বা না আসুক, কিছু যায় আসে না: ট্রাম্প
ফ্লোরিডা থেকে ফেরার পর ওয়াশিংটন ডিসির অদূরে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান আলোচনার টেবিলে ফিরে না আসলেও তিনি বিচলিত নন।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার শান্তি আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হওয়ার একদিন পর ট্রাম্প এই মন্তব্য করলেন। তেহরানের পুনরায় আলোচনায় বসা প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, 'ওরা আলোচনার টেবিলে ফিরে আসুক বা না আসুক, তাতে আমার কিছু যায় আসে না। ওরা না ফিরলেও আমি ঠিক আছি।'
পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত দুই দেশের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক কোনো ফলাফল বয়ে না আনলেও, বর্তমান যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি এখন পর্যন্ত 'বেশ ভালোভাবেই বজায় রয়েছে'।
তথ্যসূত্র: বিবিসি
