শত্রু ছাড়া টিকতে পারবে না ইসরায়েল, ইরানের পর তুরস্ক লক্ষ্যবস্তু হতে পারে: হাকান ফিদান
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, ইরানের পর ইসরায়েল সম্ভবত তুরস্ককে তাদের পরবর্তী আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উপস্থাপন করার দিকে কৌশলগত দৃষ্টি নিবদ্ধ করতে পারে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ইসরায়েলি নীতি দিন দিন বহিঃশত্রু চিহ্নিত করার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।
ইসরায়েলের আঞ্চলিক অবস্থান নিয়ে সতর্ক করে ফিদান বলেন, ''আমরা দেখছি, ইরানের পর তুরস্ককে নতুন শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করতে পারে ইসরায়েল। কারণ কোনো শত্রু ছাড়া তারা টিকে থাকতে পারবে না।'
সোমবার (১৩ এপ্রিল) তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় আনাদোলু এজেন্সি আয়োজিত 'এডিটর'স ডেস্ক' অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি বিভিন্ন আঞ্চলিক ইস্যুতে তুরস্কের অবস্থান তুলে ধরেন।
হাকান বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালির সুরক্ষায় কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়াটা হবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই কৌশলগত এই জলপথ দিয়ে নিরবচ্ছিন্ন সামুদ্রিক বাণিজ্য নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক উদ্যোগ প্রয়োজন।
উপসাগরীয় অঞ্চলে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে আন্তর্জাতিক নৌপথ খোলা রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে ফিদান বলেন, 'পুরো বিশ্ব চায় আন্তর্জাতিক যাতায়াত অবাধ থাকুক এবং তা যেন বাধাগ্রস্ত না হয়।'
তিনি বলেন, বলপ্রয়োগের মাধ্যমে এই নৌপথে স্থিতিশীলতা আনা সম্ভব নয়। 'আমাদের অবস্থান হলো শান্তিপূর্ণভাবে পুনরায় এটি চালু করা।
তিনি আরও বলেন, 'এখানে আন্তর্জাতিক সশস্ত্র শান্তিরক্ষী বাহিনী দিয়ে হস্তক্ষেপ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।'
ফিদান জানান, উত্তেজনা কমানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরান অনেকটা একমত।
তিনি বলেন, 'দুই পক্ষই (যুক্তরাষ্ট্র-ইরান) যুদ্ধবিরতির বিষয়ে আন্তরিক এবং এর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতন।'
সিরিয়ার পরিস্থিতিকে তুরস্কের জন্য বড় নিরাপত্তা উদ্বেগ হিসেবে উল্লেখ করে ফিদান বলেন, 'আমরা সিরিয়ায় একটি বড় সমস্যার ক্ষেত্র দেখছি। এটি আমাদের জন্য বড় ঝুঁকি।'
তিনি আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের কারণে ইসরায়েল এখন এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত থাকতে পারে, তবে ভবিষ্যতে এর আশঙ্কা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। 'ইরানে চলমান যুদ্ধের কারণে তারা (সিরিয়ার বিরুদ্ধে) কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না, কিন্তু এর মানে এই নয় যে তারা কোনোদিনই এমন কিছু করবে না। সময় এলেই তারা এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে।'
গ্রিস, গ্রিক সাইপ্রাস প্রশাসন এবং ইসরায়েলকে নিয়ে গঠিত আঞ্চলিক সহযোগিতা কাঠামোরও সমালোচনা করেন ফিদান।
তার মতে, এসব উদ্যোগ উত্তেজনা কমানোর বদলে আরও বাড়ায়।
তিনি বলেন, 'তাদের সহযোগিতা আস্থা বাড়ায় না, বরং অবিশ্বাস বাড়ায়। এটি আরও সমস্যা ও যুদ্ধ ডেকে আনে।'
মধ্যপ্রাচ্যে সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে একটি বিস্তৃত আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলারও আহ্বান জানান তিনি।
