ধ্বংসপ্রাপ্ত স্থাপনা থেকেও ইউরেনিয়াম সংগ্রহ করতে পারে ইরান: আইএইএ
ইরান চাইলে, যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলায় ধ্বংসপ্রাপ্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর নিচে চাপা পড়া প্রায় 'অস্ত্র তৈরির যোগ্য' (নিয়ার অয়েপন-গ্রেড) ইউরেনিয়ামের মজুত উদ্ধার করতে পারবে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা–আইএইএ এই তথ্য জানিয়েছে।
বুধবার ব্লুমবার্গ টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইএইএ প্রধান রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসি বলেন, "যদি তারা সেখানে যেতে চায়, তবে সেই মজুত তাদের নাগালের মধ্যেই রয়েছে।"
আইএইএ পরিদর্শকরা গত ১০ মাস ধরে ওই স্থাপনাগুলো পরিদর্শন করতে পারেননি। তবে গ্রোসি জানিয়েছেন, স্যাটেলাইট ইমেজ বা কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে পাওয়া ছবি অনুযায়ী, ইরানের ইসফাহান শহরের কাছে অবস্থিত স্থাপনায়—যেখানে শেষবার এই তেজস্ক্রিয় উপাদানের মজুত দেখা গিয়েছিল, তার বড় অংশই এখনো সেখানে মাটির নিচে চাপা পড়ে আছে।
আইএইএ প্রধান এমন এক সময়ে এই মন্তব্য করলেন, যখন ওয়াশিংটন ও তেহরান যুদ্ধ বন্ধে পুনরায় আলোচনা শুরু করতে হিমশিম খাচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ যে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো, যুদ্ধের কারণে বর্তমানে তা প্রায় অবরুদ্ধ হয়ে আছে। গ্রোসি জানান, তিনি হোয়াইট হাউসের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনার বিষয়ে গ্রোসি বলেন, "কথা হচ্ছে, তবে কখনো তা চলছে, আবার কখনো থেমে যাচ্ছে।" তিনি আরও যোগ করেন, যেকোনো সমঝোতার ক্ষেত্রে তার সংস্থার পরিদর্শকদের ভূমিকা হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গ্রোসির ভাষায়, ইরানের ইউরেনিয়াম মজুতের "যাচাইকরণ বা ভেরিফিকেশন ছাড়া যেকোনো চুক্তিই হবে একটি মরীচিকা।"
এদিকে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ইরান একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে। যেখানে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে ওয়াশিংটনকে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে জটিল আলোচনাগুলো আপাতত স্থগিত রাখার প্রস্তাব করেছে তেহরান।
সোমবার হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তারা ইরানের সাম্প্রতিক প্রস্তাবটি নিয়ে আলোচনা করছেন। তবে আট সপ্তাহ ধরে চলা এই যুদ্ধ বন্ধের ক্ষেত্রে তারা কিছু 'রেড লাইন' বা চূড়ান্ত সীমা বজায় রেখেছেন, যার মধ্যে অন্যতম হলো তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা। যদিও ইরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির লক্ষ্য অস্বীকার করে আসছে।
