কিডনি চিকিৎসক কামরুলের হাসপাতালে ‘চাঁদাবাজির’ ঘটনায় সাবেক যুবদল নেতা গ্রেপ্তার
ঢাকার শ্যামলীতে আলোচিত কিডনি চিকিৎসক কামরুল ইসলামের হাসপাতালে 'চাঁদাবাজির' ঘটনায় সাবেক যুবদল নেতা মঈন উদ্দিন মঈনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। এই ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় মঈন এক নম্বর আসামি ছিলেন।
আজ সোমবার র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো খুদেবার্তায় মঈনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানানো হয়েছে। মঈন ছাড়া আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও তাদের নাম-পরিচয় জানায়নি র্যাব।
এর আগে মঈনের চার সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করা হয়। ওই চারজন হলেন: মো. ফালান মিয়া (৪২), মো. রুবেল (৪২), মো. সুমন (৩৬) ও মো. লিটন মিয়া (৩৮)।
এর আগে শ্যামলীতে সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (সিকেডি) হাসপাতালে চাঁদা দাবির ঘটনায় সাবেক যুবদল নেতা মঈন প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
সিকেডি হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার ইনচার্জ মো. আবু হানিফ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় মঈন উদ্দিনকে এক নম্বর আসামি এবং অজ্ঞাতনামা আরও সাত থেকে আটজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
রোববার বিকালে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের শেরেবাংলা নগর জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) আক্কাস আলী বলেন, 'হাসপাতালে চাঁদাবাজির ঘটনায় একজনের নাম উল্লেখ ও আরও ৭-৮ জনকে অজ্ঞাত উল্লেখ করে মামলা নেওয়া হয়েছে।'
মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেছেন, 'মঈন ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে ৫ লাখ টাকা দাবি করে আসছে। দাবি করা চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে আসামিরা আমাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১০ এপ্রিল সকালে শেরেবাংলা নগর থানার শ্যামলী ৩ নম্বর রোডে আমার বাসার সামনে এসে দরজা খুলতে বলে। আমার স্ত্রী দরজা খুলে দিলে মঈন আমার স্ত্রীকে বলে, চাঁদাবাবদ এখনই তাদের ৫ লাখ টাকা দিতে হবে। টাকা না দিলে আমিসহ আমার স্ত্রীর বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির হুমকি দেয়। আমার স্ত্রী চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করে।'
এজাহারে আরও বলা হয়, 'এ সময় আমি বাসার অন্য একটি রুমে অবস্থান করি এবং পরিস্থিতির অবনতি আশঙ্কা করে হাসপাতালে অবস্থানরত আমার ছোট ভাই মো. মনির তালুকদারকে (৩৫) বাসায় আসতে ফোন করি। পরে আমার ভাই বাসায় পৌঁছালে মঈনসহ অজ্ঞাত সাত-আট জন ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে আরও লোকজন জড়ো করতে থাকে। এক পর্যায়ে তারা প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন লোক সমবেত করে সিকেডি হাসপাতালের সামনে এসে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করে। তারা হাসপাতালের সামনে অবস্থান নিয়ে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করে, উচ্চস্বরে স্লোগান দেয়, গালাগালি করে এবং পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালায়।'
মামলায় বাদী আরও অভিযোগ করেন, 'এমনকি তারা সিকেডি হাসপাতালের মালিক মো. কামরুল ইসলামকে হুমকিসূচক স্লোগান দিতে থাকে। এছাড়া তারা অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে এবং পুরো ঘটনাটিকে পরিকল্পিতভাবে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে তারা মেডিক্যালের ইমার্জেন্সি ডিপার্টমেন্টের সামনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে। এর ফলে হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।'
