পশু হাটের ইজারাদারের অফিসে গুলি: গ্রেপ্তার ৫, বিদেশি অস্ত্র-গুলি উদ্ধার
রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় চাঁদাবাজি ও ইজারাদারের অফিসে গুলিবর্ষণের ঘটনায় শ্যুটার তানিম রেজা ওরফে বাপ্পি (৪৬) ও তার চার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাপ্পির অফিস থেকে তিনটি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও সাত রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ বলছে, দক্ষিণ কমলাপুরে কোরবানির পশুর হাটের এক ইজারাদারের অফিস লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনা ও বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবিতে প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সন্মেলনে এসব কথা জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এস্টেট, ডেভেলপমেন্ট ও আইসিটি) এবং অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ ওসমান গণি।
গ্রেপ্তার বাকি চারজন হলেন মোহাম্মদ জুয়েল (৪৮), শাকিল (২৭), মো. মানিক কাজী (৫০) ও রাকিবুল ইসলাম ভূঁইয়া ওরফে রিজন (৩৫)।
ওসমান গণি বলেন, গত ১৯ মে দক্ষিণ কমলাপুরে কোরবানির পশুর হাটের এক ইজারাদার ব্যবসায়ীর অফিস লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীরা গুলিবর্ষণ করে। ১৫ মে একই ব্যবসায়ীর কাছে বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় মামলা দায়ের হওয়ার পর তদন্তে তানিম রেজা বাপ্পি ও তার সহযোগীদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকায় তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও বলেন, শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে হোটেল পূর্বাণী সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে করে তানিম রেজা ওরফে বাপ্পিকে গ্রেপ্তার করে মতিঝিল বিভাগ। এ সময় তার সঙ্গে থাকা আরও তিন সহযোগী জুয়েল, শাকিল ও মানিক কাজীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় মতিঝিলের উত্তর কমলাপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আরেক সহযোগী রাকিবুল ইসলাম ভূঁইয়া ওরফে রিজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিএমপির এই কর্মকর্তা আরও বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৭ জুলাই দিবাগত রাতে দক্ষিণ কমলাপুরে বাপ্পির অফিসে অভিযান চালানো হয়। সেখানে একটি বিদেশি রিভলভার, দুটি বিদেশি পিস্তল, পাঁচ রাউন্ড রিভলভারের গুলি, দুই রাউন্ড পিস্তলের গুলি, দুইটি ম্যাগাজিন, একটি ইলেকট্রিক শক গান ও একটি বিদেশি চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় অস্ত্র আইনে পৃথক একটি মামলা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ওসমান গণি আরও বলেন, তানিম রেজা ওরফে বাপ্পি একজন অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন গুলিবর্ষণের ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার তথ্য রয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে মতিঝিল এলাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে। বাপ্পির বিরুদ্ধে ডিএমপির বিভিন্ন থানায় চাঁদাবাজি, দস্যুতা, অপহরণ, হত্যা চেষ্টা, নারী ও শিশু নির্যাতন, মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে মোট সাতটি মামলা রয়েছে।
সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের সঙ্গে তানিমের কোনো সম্পর্ক আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ওসমান গণি বলেন, তানিম কার সহযোগী ও কার অধীনে কাজ করেছেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এটা সময়সাপেক্ষ বিষয়। এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাকে আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ড চাওয়া হবে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
