চট্টগ্রামে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও লুটপাট, গ্রেপ্তার ৮
চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার থানার চন্দনপুরা-বাকলিয়া এক্সেস সড়কে অবস্থিত ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন)-এর কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ইতিমধ্যে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) সিএমপি দামপাড়া পুলিশ লাইনের কমিশনার কার্যালয়ের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ।
তিনি জানান, পুলিশ কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলীর নির্দেশনায় চকবাজার থানা, সিএমপির একাধিক বিশেষ টিম এবং র্যাব-৭ যৌথভাবে মঙ্গলবার রাতভর মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই আটজনকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশের তথ্যমতে, গত ১১ জুলাই ডিডিএনের স্বত্বাধিকারীর হোয়াটসঅ্যাপে কল করে নিজেকে 'ডেভিড ইমন' পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি এককালীন দুই কোটি টাকা এবং পরবর্তীতে প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এই দাবি প্রত্যাখ্যান করায় প্রতিষ্ঠানটিকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৩ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ৩০ থেকে ৪০ জন দেশীয় অস্ত্রধারী ব্যক্তি চন্দনপুরা-বাকলিয়া এক্সেস সড়কের মরিয়ম হাইটস ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত ডিডিএন কার্যালয়ে প্রবেশ করে। তারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেশিন, আসবাবপত্র ও কাচের দরজাসহ বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করে। এতে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া হামলাকারীরা অফিসের ড্রয়ারে থাকা নগদ ৪৭ হাজার টাকা, তিনটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও একটি ক্যানন প্রিন্টার নিয়ে যায়। প্রতিষ্ঠানের পরিচালক আরিফুল ইসলামের কাঁধের ব্যাগে কর্মচারীদের বেতন দেওয়ার জন্য রাখা প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ছিল, যা হামলাকারীরা লুটে নিয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এই ঘটনায় চকবাজার থানায় অবৈধ সমাবেশ, দাঙ্গা, অনধিকার প্রবেশ, ভাঙচুর, চাঁদাবাজির চেষ্টা, চুরি ও ফৌজদারি ভয়ভীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— মোহাম্মদ ইউনুস, ইমরান হোসেন চ্যাং, আকবর হোসেন, মোহাম্মদ সুমন, মনির প্রকাশ কেহেরমান, মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, মোহাম্মদ নয়ন এবং মোহাম্মদ আবদুল নাহিদ ওরফে ফরহাদ।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মানবপাচার, অস্ত্র, মাদক, ছিনতাই, চোরাচালান ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, 'গ্রেপ্তার আটজনের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের মধ্যে মোহাম্মদ ইউনুসের বিরুদ্ধে পাঁচটি, ইমরান হোসেন চ্যাংয়ের বিরুদ্ধে ১২টি, আকবর হোসেনের বিরুদ্ধে ছয়টি, মোহাম্মদ সুমনের বিরুদ্ধে ছয়টি, মনির প্রকাশ কেহেরমানের বিরুদ্ধে সাতটি এবং মোহাম্মদ নয়নের বিরুদ্ধে আটটি মামলা রয়েছে।'
হামলার সময় পুলিশ কমিশনারের নাম ব্যবহার করে কথিত হুমকি এবং 'ডেভিড ইমন'-এর সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) বলেন, 'এটি ডেভিড ইমন কি না, সেটি আমরা এখনো নিশ্চিত হতে পারিনি। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। গ্রেপ্তারদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের পর প্রকৃত ঘটনা আরও স্পষ্ট হবে।'
'ডেভিড ইমন' কোথায় আছে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'ডেভিড ইমন কোথায় আছে পুলিশের কাছে তথ্য নেই। সে দেশে-বিদেশে যেখানেই থাকুক, আমরা তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি।'
পুলিশ কমিশনারের নাম ব্যবহার করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের বিষয়ে তিনি বলেন, 'কেউ কোনো কথা বললেই সেটির দায় পুলিশের নয়। আমরা তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করব।'
গ্রেপ্তার আটজনকে সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্ত করা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'লোকাল সোর্স, সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার করে আমরা মোটামুটি নিশ্চিত হয়েছি যে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ঘটনাস্থলে ছিল। তদন্তে আরও তথ্য পাওয়া যাবে।'
