ভারতে সহকর্মীদের ওপর বিএসএফ জওয়ানের এলোপাতাড়ি গুলি, নিহত ২
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মালদহ জেলায় বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) এক জওয়ানের গুলিতে তার দুই সহকর্মী নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আরও একজন জওয়ান গুরুতর আহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে মালদহের বৈষ্ণবনগর থানার অন্তর্গত ১৭ মাইল এলাকায় ৭১ এবং ১১৯ নম্বর ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তরে এই ঘটনা ঘটে।
মালদহের পুলিশ সুপার অনুপম সিং জানান, ঘটনাটি ঘটে বিকেল ৪টার দিকে। অভিযুক্ত জওয়ান শিবম কুমার মিশ্র সদর দপ্তরের প্রবেশপথে কর্তব্যরত সেন্ট্রিকে কাবু করে তার সার্ভিস রাইফেলটি ছিনিয়ে নেন এবং জোরপূর্বক ভেতরে ঢুকে পড়েন।
পুলিশ সুপার বলেন, 'সদর দপ্তরে ঢুকে তিনি ব্যারাকের কাছে গিয়ে গুলি চালাতে শুরু করেন। সে সময় অনেক জওয়ান ডিউটি শেষ করে সেখানে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। গুলিতে তিনজন জওয়ান আহত হন এবং তাদের দ্রুত মালদহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।'
হাসপাতালের চিকিৎসকরা আহতদের মধ্যে দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন। তৃতীয় জন বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহতরা হলেন— ৫১ বছর বয়সী অজয় কুমার সিং (বাড়ি বিহারের সারান জেলায়) এবং ৩৬ বছর বয়সী সুরেশ দুর্গু আম্বেদকর (বাড়ি মহারাষ্ট্রের গড়চিরোলি জেলায়)।
আহত জওয়ানের নাম বিকাশ ব্রহ্মা (৪৪)। তিনি বিএসএফের হেড কনস্টেবল এবং পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার বাসিন্দা। তার পায়ে গুলির আঘাত লেগেছে।
চিকিৎসার জন্য স্থানান্তরের সময় জখম জওয়ান বিকাশ ব্রহ্মা সাংবাদিকদের জানান, তিনি ডিউটি শেষ করে ব্যারাকে ফেরার পরপরই গুলির শব্দ শুনতে পান। তিনি বলেন, 'আমি ডিউটি থেকে ফিরে ব্যারাকে বিশ্রাম নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। হঠাৎ টানা গুলির শব্দ শুনে খাটের নিচে আশ্রয় নিই। ৭১ নম্বর ব্যাটালিয়নের আমার দুই সহকর্মী গুরুতর আহত হন এবং আমার গায়েও গুলি লাগে। পরে জানতে পারি তারা মারা গেছেন। শিবম কুমার মিশ্র নামের যে জওয়ান গুলি চালিয়েছেন, তিনি ১১৯ নম্বর ব্যাটালিয়নের সদস্য।'
সূত্র জানিয়েছে, অভিযুক্ত শিবম কুমারের বাড়ি ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যে।
মালদহের পুলিশ সুপার জানান, বিএসএফ কর্মকর্তাদের দেওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী— শিবম কুমার মিশ্র এর আগে কোর্ট-মার্শালের মুখোমুখি হয়েছিলেন এবং বিএসএফ হেফাজতে ছিলেন। সম্প্রতি তিনি মুক্তি পান।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত শিবমকে আটক করা হয়েছে। কেন তিনি নিজের সহকর্মীদের ওপর এভাবে হামলা চালালেন এবং ঘটনার নেপথ্যে প্রকৃত কারণ কী, তা জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। বিএসএফ সদর দপ্তরে বর্তমানে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশের ধারণা, কোর্ট-মার্শালের মাধ্যমে নেওয়া শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থার প্রতিশোধ নিতেই হয়তো শিবম এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন। তবে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয় এবং ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিএসএফের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, 'এই গুলিবর্ষণের ঘটনায় আমরা একটি বিভাগীয় তদন্ত শুরু করেছি। নিহত ও আহত জওয়ানদের পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।'
