২ বছর আগে ‘পেট্রোডলার চুক্তি বাতিল’ করে সৌদি, এরপরই ইরানে যুদ্ধ বাধাল আমেরিকা
১৯৭০-এর দশকের গোড়ায় 'গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড' বা স্বর্ণমান ব্যবস্থা লুপ্ত হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু পরের ৫০ বছর নীরবে তার জায়গা দখল করে নেয় অন্য একটি ব্যবস্থা: খনিজ তেল। জন্ম হয় তথাকথিত 'পেট্রোডলার' ব্যবস্থার। সাধারণ মানুষের কাছে দীর্ঘদিন এই ব্যবস্থা খুব একটা পরিষ্কার ছিল না। তবে হেনরি কিসিঞ্জার ও সৌদি আরবের এই গোপন 'চুক্তির' জোরেই বিশ্বের প্রধান রিজার্ভ মুদ্রা হিসেবে ডলারের একাধিপত্য নিশ্চিত হয়েছিল।
কিন্তু ইরান যুদ্ধ আমেরিকার সেই দুর্বল জায়গাকেই প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে। একদিকে চীনের 'পেট্রো-ইউয়ান'-এর উত্থান, অন্যদিকে দু-বছর আগে নিঃশব্দে ওই চুক্তি থেকে সৌদির সরে আসা—সবমিলিয়ে বড়সড় ফাটল ধরেছে ডলারের সাম্রাজ্যে।
ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইসরায়েলের আগ্রাসন বিশ্ব বাণিজ্যে ওয়াশিংটনের আধিপত্যের মূল স্তম্ভ 'পেট্রোডলারের' শক্তিকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। যদিও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরেই এই মুদ্রাব্যবস্থার ভিত ভেতর থেকে ক্ষয় হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৭৪ সালের পর ২০২০-এর এই দশকই হতে চলেছে ডলারের ইতিহাসে সবথেকে বড় পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণ। ইরান যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, পুরনো ব্যবস্থার ফাটল তত চওড়া হচ্ছে। এ কথা ঠিক যে, বিশ্ববাজারে ডলারের দাপট এখনও অমলিন, তবে সে এখন আর অপ্রতিদ্বন্দ্বী নয়।
বর্তমান পরিস্থিতি বুঝতে গেলে কিছুটা পিছিয়ে ফিরে তাকাতে হবে ইতিহাসের পাতায়।
কিসিঞ্জারের সেই গোপন সফর
১৯৭৪ সালে সৌদি আরবের সঙ্গে আমেরিকা চুক্তি করে, সৌদি কেবল ডলারের বিনিময়েই তেল বিক্রি করবে। বিনিময়ে তাদের সামরিক সহায়তা ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা দেবে ওয়াশিংটন। ১৯৭১ সালে স্বর্ণমান ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার পর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের নেতৃত্বাধীন আমেরিকা চেয়েছিল বিশ্ববাজারে ডলারের চাহিদা যেকোনো মূল্যে বজায় রাখতে। ১৯৭৩-এর তেল সংকটের পর আমেরিকার প্রধান লক্ষ্য ছিল নিজের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্ছিদ্র করা।
যেহেতু তেলই—আগেও, এখনও—প্রায় প্রতিটি শিল্পের মূল চালিকাশক্তি, তাই 'পেট্রোডলার' রাতারাতি সর্বব্যাপী হয়ে ওঠে। বিশ্ব অর্থনীতির প্রধান স্তম্ভে পরিণত হয় ডলার। তেলসমৃদ্ধ দেশগুলো তেল বেচে পাওয়া বিপুল ডলার মজুত রাখার নিরাপদ স্থান হিসেবে মার্কিন ট্রেজারিকেই বেছে নিতে শুরু করে। ফলে তেল কিনতে অন্য দেশগুলোকেও ডলার ব্যবহার করতে হয়।
এই চক্রটি এমন একটি মুদ্রা কাঠামো তৈরি করেছে, যা ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিশ্ব অর্থনীতিতে মার্কিন ডলারের আধিপত্যকে একচ্ছত্র করে রেখেছে। ডলারের সঙ্গে নিজেদের মুদ্রার সমতা বা 'পেগ' বজায় রাখতে সৌদি আরব, কাতার, ওমান, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোকে প্রায় ৮০০ বিলিয়ন ডলারের সহায়ক রিজার্ভ রাখতে হয়। গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল-ভুক্ত (জিসিসি) দেশগুলোর রাষ্ট্রীয় সম্পদ তহবিলের মাধ্যমে ২ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ মার্কিন সম্পদে বিনিয়োগ করা রয়েছে।
কিন্তু পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের নতুন সংঘাত 'পেট্রোডলারের' দুর্বলতাকে নতুন করে উন্মোচিত করেছে। আমেরিকা ও ইসরায়েলের প্রথম দফা হামলার পরই ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের ২০ শতাংশই এই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। শিল্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু জাহাজ এখন চীনা মুদ্রা ইউয়ানে অর্থ পরিশোধ করে এই অতি গুরুত্বপূর্ণ সংকীর্ণ জলপথ পার হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদদের তথ্যমতে, বর্তমান সংঘাতের অনেক আগে থেকেই উপসাগরীয় দেশগুলো নীরবে তাদের বাণিজ্য অংশীদারদের তালিকায় বৈচিত্র্য আনতে শুরু করেছিল। ডলারের বাইরে অন্য মুদ্রায় তেল কেনাবেচা করে আদতে তারা 'পেট্রোডলারের' একচেটিয়া আধিপত্যে নীতি ভেঙে দিচ্ছে। ইবিসি ফিন্যান্সিয়াল গ্রুপের বিশ্লেষক মাইকেল হ্যারিস সম্প্রতি এক নোটে লিখেছেন, বিশ্ববাজারে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ হিসেবে ডলারের হিস্যা গত ২৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে—১৯৯৯ সালে যা ছিল ৭১ শতাংশ, বর্তমানে তা নেমে এসেছে প্রায় ৫৭ শতাংশে।
ডলারমুক্তকরণের (ডি-ডলারাইজেশন) এই দৌড়ে চীনই সবচেয়ে বড় লাভবান হতে চলেছে বলে ইঙ্গিত মিলছে। ২০২৪ সালে সৌদি আরব কেবল ডলারের বিনিময়ে তেল বিক্রির পুরনো অঙ্গীকারটি আনুষ্ঠানিকভাবে নবায়ন করেনি। যদিও ১৯৭৪ সালের সেই চুক্তিটি কখনোই আনুষ্ঠানিক বাধ্যবাধকতা ছিল না। গোপনীয় প্রকৃতির কারণে এটি আদৌ কোনো বড় নীতিগত পরিবর্তন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তা সত্ত্বেও, সৌদি আরব যে বাণিজ্য অংশীদারদের তালিকায় বৈচিত্র্য আনার পদক্ষেপ নিয়েছে, সেটি স্পষ্ট। ২০২৩ সালে চীনের সঙ্গে ৭ বিলিয়ন ডলারের একটি 'কারেন্সি সোয়াপ' বা মুদ্রা বিনিময় চুক্তি সই করে সৌদি আরব। একইভাবে, ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম এমব্রিজ-এও গুরুত্বপূর্ণ অংশগ্রহণ রয়েছে সৌদির কেন্দ্রীয় ব্যাংকে। এই প্ল্যাটফর্মে ব্লকচেইন প্রযুক্তির মাধ্যমে সরাসরি মুদ্রা বিনিময় করা যায়।
মাইকেল হ্যারিস লিখেছেন, 'এই বদল আদতে একটি অর্থনৈতিক বাস্তবতারই প্রতিফলন। আমেরিকার বদলে চীনই এখন সৌদি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। ফলে অর্থনীতির স্বাভাবিক টান এখন ইউয়ানের দিকেই, যদিও মুদ্রার বন্দোবস্তে এখনও ডলারেরই দাপট রয়েছে।' সৌদিরা এখনও ডলারেই বেশিরভাগ লেনদেন করছে—এমনকি চীনের সাথেও—তবে এখন বিকল্পের পথও খুলে গেছে।
দীর্ঘদিনে তৈরি হয়েছে পেট্রোডলারের দুর্বলতা
পেট্রোডলারের এই দুর্বলতা তৈরি হয়েছে নীরবে, বছরের পর বছর ধরে। ২০১০-এর দশকের শুরুতে ক্রিমিয়া দখলের জেরে রাশিয়ার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারি হলে মস্কোও ডি-ডলারাইজেশনের পথে হাঁটতে শুরু করে। সেই সময় চীনের সঙ্গে প্রায় ১৫০ বিলিয়ন ইউয়ান বা ২৫ বিলিয়ন ডলারের মুদ্রা বিনিময় চুক্তি করে রাশিয়া। কয়েক দশক ধরেই চীনের কাছে তেল বিক্রি করছে ইরান। তবে ২০১৮ ও ২০১৯ সালে আমেরিকার নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর বেইজিং-তেহরানের সেই সম্পর্ক আরও মজবুত হয়েছে। ইরানের মোট তেল রপ্তানির ৯০ শতাংশই এখন চীন কিনে নেয়।
নর্থ ক্যারোলিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসবিদ ডেভিড উইট বলেন, বর্তমান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর একটি বিষয় আবারও প্রকাশ্যে এসেছে—ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরতা কমাতে এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ইরান বেশ কয়েক বছর ধরেই তাদের তেলের বড় অংশ ইউয়ানের বিনিময়ে বিক্রি করছে। তেহরান এখন বিকল্প ক্রেতা খুঁজছে এবং সেই তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে চীন।
ডয়চে ব্যাংকের অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসন তেহরানের সঙ্গে বেইজিংয়ের ঘনিষ্ঠতা আরও বাড়াবে। এর ফলে ডলারের গুরুত্ব কমবে এবং শক্তিশালী হবে ইউয়ান।
বিশ্লেষকরা গত মাসে এক নোটে লিখেছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি পেতে ইউয়ানে তেলের দাম মেটানোর খবরটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই যুদ্ধ পেট্রোডলারের আধিপত্য খর্ব করতে অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে, যা পেট্রো-ইউয়ান যুগের সূচনা মাত্র।
উইট আরও বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের লাগাতার ইরানবিরোধী হুমকি অন্য দেশগুলোকে বিকল্প মুদ্রা খুঁজতে উৎসাহী করছে। ডয়চে ব্যাংকের রিপোর্ট অনুযায়ী, আমেরিকায় সীমান্ত বাণিজ্যের ৯০ শতাংশ ডলারের মাধ্যমে হলেও এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে তা ৭০ শতাংশ ও ইউরোপে ২০ শতাংশ।
উইট বলেন, 'এর মানে এই নয় যে পুরো ব্যবস্থাটি রাতারাতি ভেঙে পড়বে। তবে আমেরিকার ক্রমবর্ধমান আক্রমণাত্মক নীতি—তা সে নিষেধাজ্ঞাই হোক বা যুদ্ধ—অনেক দেশকে ভাবতে বাধ্য করছে তারা ডলারের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল থাকতে চায় কি না।'
'পেট্রো-ইউয়ান' ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলে সুযোগ নেওয়ার প্রস্তুতি চীনের
গ্লোবাল ইনস্টিটিউট ফর সাস্টেইনেবল প্রসপারিটি-র প্রেসিডেন্ট ফাদেল কাবুব মনে করেন, ডলারের এই টালমাটাল পরিস্থিতির ফায়দা তুলতে চীন আগেভাগেই প্রস্তুত। বিশ্বে তেলের মোট চাহিদার ১৫ থেকে ১৬ শতাংশই চীনের। দৈনিক প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি ৬৬ লাখ ব্যারেল তেল ব্যবহার করে তারা। সেই বিশাল চাহিদাকেই হাতিয়ার করে বিশ্ববাজারে ইউয়ানের ভিত শক্ত করতে চাইছে বেইজিং।
২০১৮ সালে সাংহাই ফিউচার এক্সচেঞ্জ-এর অধীনে সাংহাই ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এক্সচেঞ্জ চালু করে চীন। আন্তর্জাতিক লগ্নিকারীদের কাছে পেট্রোডলারের বাইরে লেনদেনের একটি বিকল্প মুদ্রাব্যবস্থা পৌঁছে দেওয়াই ছিল এর মূল লক্ষ্য।
কাবুব ফরচুনকে বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে ইউয়ানে বাণিজ্য করা কোনো ভূরাজনৈতিক চুক্তি নয়। 'এই পদক্ষেপের নেপথ্যে কোনো নিরাপত্তা চুক্তি নেই। এটি স্রেফ যৌক্তিক বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন ব্যবসায়িক লেনদেন। আর চীনের দৃষ্টিতে, আগামী ৫০ বছরে বিশ্ব অর্থনীতিতে নিজেদের অবস্থান কোথায় দেখতে চায় বেইজিং, এটি তারই প্রাথমিক ধাপ।'
কাবুবের মতে, আমেরিকা একসময় যে কৌশলে পেট্রোডলারের ভিত শক্ত করেছিল, চীন এখন সেই পথেই হাঁটছে। ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে তারা উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোকে 'নিরাপত্তার ছাতা' ও বিকল্প মুদ্রার আশ্বাস দিচ্ছে।
তবে চীন কেবল তেলের ওপর ভরসা করে বসে নেই। নবায়নযোগ্য জ্বালানিতেও তারা বিপুল বিনিয়োগ করেছে। বর্তমানে আমেরিকার তুলনায় চীনে প্রায় চারগুণ বেশি সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়। বেইজিং জানে, ভবিষ্যতে বিশ্ব যখন তেলের ওপর নির্ভরতা কমাবে, তখনও অর্থনৈতিক আধিপত্য ধরে রাখতে এই প্রস্তুতি জরুরি। ঠিক সেই সময়েই আমেরিকা তাদের সেকেলে গ্রিড ব্যবস্থা রক্ষণাবেক্ষণে হিমশিম খাচ্ছে, যা তাদের এআই উচ্চাভিলাষের লক্ষ্যপূরণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কাবুব বলেন, চীন জানে, তাদের এমন এক শিল্প ও হাইটেক-নির্ভর শক্তিতে পরিণত হতে হবে, যারা গোটা বিশ্বের ওপর নিজেদের মুদ্রা ও আর্থিক ব্যবস্থা চাপিয়ে দিতে পারবে।
ইরান যুদ্ধ এখন পেট্রোডলারের ভাগ্য নির্ধারণের সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে। কাবুব বলেন, ইরান যদি মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ বজায় রাখতে পারে, তবে তা বিশ্ব অর্থনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। ইরান তুলনামূলকভাবে ছোট দেশ হলেও হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে তারা বাকি বিশ্বকে এই বার্তাই দিচ্ছে যে, পেট্রোডলারের বাইরেও একটি কার্যকর আর্থিক কাঠামো থাকা সম্ভব। উল্টোদিকে, আমেরিকা যদি হরমুজ প্রণালির দখল নিতে পারে, তবে ডলারের একাধিপত্য বজায় থাকার সম্ভাবনাই প্রবল।
অবশ্য পেট্রোডলারের ভিতে ফাটল ধরলেও তার প্রাসঙ্গিকতা এখনই শেষ হয়ে যাচ্ছে না।
কাবুব বলেন, 'পেট্রোডলারের মৃত্যু হয়েছে—এমনটা বলা ভুল হবে। আন্তর্জাতিক লেনদেনে এখনও ডলারের একচ্ছত্র দাপট রয়েছে। আবার পেট্রো-ইউয়ান এখনই কোনো উদীয়মান মহাশক্তি হয়ে উঠেছে, এমন দাবি করার সময়ও আসেনি।'
তার মতে, ইউয়ান কেবল একটি জোরালো বিকল্প হিসেবে উঠে আসছে, তবে ডলারের সমকক্ষ হয়ে উঠতে তাকে এখনও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে।
