হরমুজে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ‘বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’: চীনের তীব্র প্রতিক্রিয়া
চীন হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বন্দরগুলোকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অবরোধকে "বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন" পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। বেইজিং বলেছে, এই পদক্ষেপ উক্ত অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলবে।
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার জানায়, সোমবার পূর্বাঞ্চলীয় সময় সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হওয়া এই লক্ষ্যভিত্তিক অবরোধ এবং একই সঙ্গে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো—ইতোমধ্যে "ভঙ্গুর" অবস্থায় থাকা যুদ্ধবিরতিকে দুর্বল করে দিতে পারে।
মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গাও জিয়াকুন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, পরিস্থিতি শান্ত করতে হলে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি ছাড়া বিকল্প নেই। তিনি আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে বেইজিং চেষ্টা চালিয়ে যাবে।
তেহরানের সরকারকে দীর্ঘদিন ধরে সমর্থন দিয়ে আসা চীনের জন্য হরমুজ প্রণালি খোলা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বেইজিং ইরানের অপরিশোধিত তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হওয়ায়, এই অবরোধ সরাসরি সেই সরবরাহ বন্ধ করে দিচ্ছে এবং এর ফলে চীনের অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে।
গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্র এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে ইরানের বন্দরগুলোতে জাহাজ প্রবেশ ও বের হওয়া বন্ধ করা শুরু করে। এর লক্ষ্য ছিল ইরানকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলতে বাধ্য করা। এর আগে ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে প্রথম দফার শান্তি আলোচনা ভেস্তে যায়।
৭ এপ্রিল ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পরও– যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের এই পদক্ষেপকে পরিস্থিতির বড় ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধির নিদর্শন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইরানকে তার দেশের অস্ত্র সরবরাহের খবর নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, এসব প্রতিবেদন "সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন"।
তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, "চীন বিশ্বাস করে, কেবল একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি ও যুদ্ধের অবসানই (হরমুজ) প্রণালি অঞ্চলের পরিস্থিতি মৌলিকভাবে স্বাভাবিক করার পরিবেশ তৈরি করতে পারে।"
তিনি আরও বলেন, "সব পক্ষকে যুদ্ধবিরতির শর্ত মেনে চলতে, সংলাপ ও শান্তি আলোচনার দিকে মনোযোগ দিতে এবং বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে কাজ করতে চীনের আহ্বান রয়েছে। একই সঙ্গে দ্রুত প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌচলাচল পুনরায় চালুর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।"
এদিকে ছয় সপ্তাহের এই সংঘাত কূটনৈতিকভাবে সমাধানের সম্ভাবনার খবরে আজ মঙ্গলবার তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের নিচে নেমে আসে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রাথমিক লেনদেনে প্রায় ১% কমে ৯৮ দশমিক ৪৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আর মে মাসের ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ২ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৬ দশমিক ৪৮ ডলারে নেমে আসে।
