বন্দর অবরোধের মাঝেই চলতি সপ্তাহে আলোচনায় বসতে পারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান
যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা পুনরায় শুরু করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচকরা চলতি সপ্তাহেই আবার ইসলামাবাদে ফিরতে পারেন বলে আজ (১৪ এপ্রিল) রয়টার্সকে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। সপ্তাহান্তের আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই অবরোধে তেহরান থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া এলেও কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকতে পারে—এমন আভাস বিশ্ব তেলের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। আজ আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমে ১০০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে।
১৯৭৯ সালের ইরানের ইসলামি বিপ্লবের পর দুই বৈরী দেশের মধ্যে এটিই ছিল সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠক। গত সপ্তাহান্তে পাকিস্তানের রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধান ছাড়াই শেষ হয়। এর ফলে গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা যুদ্ধবিরতি—যার মেয়াদ এখনো এক সপ্তাহ বাকি—সেটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
তবে আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, দুই দেশই চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে পুনরায় আলোচনায় ফিরতে পারে। প্রতিনিধি দল পাঠানোর বিষয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানকে একটি নতুন প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, এখনো কোনো নির্দিষ্ট তারিখ চূড়ান্ত হয়নি, তবে প্রতিনিধি দলগুলো শুক্রবার থেকে রবিবারের সময়টি খোলা রেখেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান সোমবার (১৩ এপ্রিল) যোগাযোগ করেছে এবং তারা একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী। তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে দেয়—এমন কোনো চুক্তিতে তিনি অনুমোদন দেবেন না।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু করার পর, ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিজস্ব জাহাজ ছাড়া প্রায় সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেয়। তেহরান ঘোষণা করেছিল, কেবল তাদের নিয়ন্ত্রণ ও নির্দিষ্ট ফি পরিশোধ সাপেক্ষে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে এর প্রভাব পড়েছে বিশ্বজুড়ে।
পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে সোমবার থেকে ইরানি বন্দরে সব ধরনের জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেয় মার্কিন সামরিক বাহিনী। এর প্রতিক্রিয়ায় তেহরান ওই প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী নৌযান এবং প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর বন্দরে হামলার হুমকি দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই অবরোধ আরোপের এক দিন পার হলেও, কোনো জাহাজের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন সরাসরি ব্যবস্থা নিয়েছে—এমন খবর এখনো পাওয়া যায়নি। শিপিং ডেটা অনুযায়ী, অন্তত তিনটি ইরান-সংশ্লিষ্ট ট্যাঙ্কারকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে দেখা গেছে, যেগুলোর গন্তব্য ইরানি বন্দর ছিল না।
