ইরান যুদ্ধের কভারেজ এবং মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলায় নিউ ইয়র্ক টাইমসের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের ক্ষোভ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও নিউ ইয়র্ক টাইমসের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, কারণ পত্রিকাটির প্রধান হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা তার মানসিক স্বাস্থ্য ও স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
সোমবার সন্ধ্যায় ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, 'তাদের কি কোনো লজ্জা নেই? তাদের কি কোনো শালীনতা বোধ নেই?
নিউ ইয়র্ক টাইমসের অভিজ্ঞ রাজনৈতিক প্রতিবেদক পিটার বেকার ট্রাম্পের 'অস্থির আচরণ ও উগ্র মন্তব্য' নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করার পর তিনি এ মন্তব্য করেন।
বেকারের নিবন্ধের সরাসরি জবাব না দিয়ে ট্রাম্প ইরান যুদ্ধ নিয়ে পত্রিকাটির কভারেজের সমালোচনা করেন।
এর আগে একটি নিবন্ধে তার স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলায় ট্রাম্প নিউ ইয়র্ক টাইমসকে 'রাষ্ট্রদ্রোহী, এমনকি দেশদ্রোহীও হতে পারে' বলে আখ্যা দিয়েছিলেন।
সোমবার ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, 'যারা এখনো এই ব্যর্থ নিউ ইয়র্ক টাইমস পড়েন, ইরান সামরিকসহ অন্যান্য দিক থেকে পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পরও তারা মনে করবেন যেন ইরানই জিতছে, অথবা অন্তত বেশ ভালো অবস্থায় রয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'কিন্তু এটি সত্য নয় এবং নিউ ইয়র্ক টাইমস জানে এটি ভুয়া খবর। এই দুর্নীতিগ্রস্ত গণমাধ্যমটি আমার, আমার সমর্থকদের এবং আমাদের দেশের বিরুদ্ধে তাদের মিথ্যা ও ভয়াবহ কর্মকাণ্ডের জন্য কবে ক্ষমা চাইবে!'
তবে সোমবারের পোস্টে ট্রাম্প ঠিক কোন প্রতিবেদনকে লক্ষ্য করে মন্তব্য করেছেন, তা স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।
গত বছরের শেষের দিকে নিউ ইয়র্ক টাইমসের আরেকটি প্রতিবেদনের জন্য ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হন। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষমতায় ফেরার পর প্রথম ১০ মাসে তার কার্যক্রমের মাত্রা প্রথম মেয়াদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম ছিল।
সেই প্রতিবেদনে ট্রাম্পের সরকারি সময়সূচি বিশ্লেষণ করে প্রথম ও দ্বিতীয় মেয়াদের কার্যক্রম তুলনা করা হয় এবং দেখা যায়, তার সরকারি সম্পৃক্ততা প্রায় ৪০ শতাংশ কমে গেছে।
ট্রাম্প অভিযোগ করেন, জনসম্মুখে তার উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও তাকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে নিউ ইয়র্ক টাইমস এই বানোয়াট বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সংবাদপত্রটির জ্যেষ্ঠ হোয়াইট হাউস প্রতিবেদক কেটি রজার্সকে 'শুধু তার সম্পর্কে নেতিবাচক কথা লিখতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে'। কেটি রজার্সকে তিনি 'নিম্নমানের প্রতিবেদক, যিনি ভেতরে ও বাইরে উভয় দিক থেকেই কুৎসিত' বলে অভিহিত করেন।
সোমবার প্রকাশিত পিটার বেকারের প্রতিবেদনটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর আগে ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের অস্থির আচরণ, অদ্ভুত বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়া, ক্ষুব্ধ মন্তব্য এবং প্রতিহিংসাপরায়ণ অপমানকে 'স্বাভাবিকভাবে উপস্থাপন' করার অভিযোগ উঠেছিল পত্রিকাটির বিরুদ্ধে।
সোমবারের প্রতিবেদনে শুধু ডেমোক্র্যাট বা ট্রাম্পবিরোধীদের নয়, অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল, কূটনীতিক ও বিদেশি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি রিপাবলিকান এবং প্রেসিডেন্টের সাবেক মিত্রদের উদ্বেগও তুলে ধরা হয়।
ট্রাম্পের একসময়ের অন্যতম কট্টর সমর্থক সাবেক রিপাবলিকান প্রতিনিধি মার্জোরি টেইলর গ্রিন তার দেওয়া ইরানকে ধ্বংস করার হুমকিকে 'পাগলামি' বলে উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে ডানপন্থী প্রভাবশালী ক্যান্ডেস ওয়েন্স তাকে 'গণহত্যাপ্রবণ উন্মাদ' বলে অভিহিত করেন।
ট্রাম্পের সাবেক হোয়াইট হাউস আইনজীবী টাই কব তাকে 'স্পষ্টতই পাগল' বলে মন্তব্য করেন।
সিআইএ'র সাবেক পরিচালক জন ব্রেনান বলেন, সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী ট্রাম্পের মতো ব্যক্তিদের কথা মাথায় রেখেই তৈরি করা হয়েছে।
অন্তত ৮৭ জন ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেস সদস্য তার মন্ত্রিসভাকে ওই সংশোধনী প্রয়োগের আহ্বান জানান এবং প্রেসিডেন্টকে 'বিভ্রান্ত' ও 'অস্থিতিশীল' বলে অভিহিত করেন।
হাউস জুডিশিয়ারি কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট জেমি রাসকিন হোয়াইট হাউসের চিকিৎসকের কাছে অবিলম্বে একটি পূর্ণাঙ্গ মানসিক সক্ষমতা পরীক্ষা করার অনুরোধ জানান এবং ট্রাম্পকে 'ক্রমশ অসংলগ্ন, অস্থির, অশালীন ভাষা ব্যবহারকারী, বিভ্রান্ত ও হুমকিস্বরূপ' হিসেবে বর্ণনা করেন।
অন্যদিকে বেকার তার প্রতিবেদনে লেখেন, 'বিচ্ছিন্ন, দুর্বোধ্য এবং কখনো কখনো তার ধারাবাহিকভাবে অশালীন বক্তব্য দেওয়া … অনেকের মধ্যেই এমন ধারণা তৈরি করেছে যে তিনি ক্ষমতার নেশায় উন্মত্ত এক স্বৈরাচারী শাসক।'
এদিকে অনলাইনে অনেক বিশ্লেষক নিউ ইয়র্ক টাইমসের এ প্রতিবেদনকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করেন।
ওয়াশিংটন পোস্টের বৈশ্বিক অর্থনীতি প্রতিবেদক ডেভিড জে. লিঞ্চ এক্স-এ লেখেন, 'প্রেসিডেন্টের ৮০তম জন্মদিনের কয়েক মাস আগে দেশের প্রধান সংবাদমাধ্যম প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলছে তিনি [ট্রাম্প] মানসিকভাবে সুস্থ কি না।'
স্বাধীন আইনি সাংবাদিক ক্রিস গেইডনার ব্লুস্কাইতে লেখেন, 'তিনি পিটার বেকারকে (সমর্থন) হারিয়েছেন। আমি আবার বলছি, তিনি পিটার বেকারকে হারিয়েছেন।'
