যুদ্ধ কি ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির বাস্তবায়ন? মার্কিন জনগণের উদ্দেশে পেজেশকিয়ানের খোলা চিঠি
ইরানের বিরুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধ কি সত্যিই "আমেরিকা ফার্স্ট" নীতিকে এগিয়ে নিচ্ছে? যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের উদ্দেশে এক খোলা চিঠিতে এই প্রশ্ন রেখেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় সামাজিক মাধ্যম 'এক্সে' (সাবেক টুইটার) তিনি এই চিঠি প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, "এই যুদ্ধের মাধ্যমে ঠিক কোন আমেরিকান জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা হচ্ছে?"
ওই একই দিনে কয়েক ঘণ্টা পরই ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রথম জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
পেজেশকিয়ান প্রশ্ন তোলেন, "আজকের দিনে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় কি সত্যিই 'আমেরিকা ফার্স্ট' (সবার আগে আমেরিকা নীতি) রয়েছে?"
চিঠিতে তিনি বলেন, আধুনিক ইতিহাসে ইরান কখনোই আগ্রাসন, সম্প্রসারণবাদ, উপনিবেশবাদ বা আধিপত্যের পথ বেছে নেয়নি এবং কোনো যুদ্ধও শুরু করেনি। তার ভাষায়, ইরানকে হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে "ক্ষমতাবানদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক খামখেয়ালির ফল।"
উপসাগরীয় অঞ্চলে বেসামরিক ও সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইরানের প্রতিদিন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মতো পদক্ষেপকে তিনি "বৈধ আত্মরক্ষা" হিসেবেও উল্লেখ করেছেন।
এই চিঠি প্রণয়নে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের অন্য কোনো অংশ জড়িত ছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়। ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর এক মাসেরও বেশি সময় ধরে জনসমক্ষে আসেননি বা কোনো বক্তব্য দেননি।
চিঠিতে পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও জনগণের মধ্যে পার্থক্যের ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, ইরানকে ভুলভাবে বোঝা হয়েছে এবং "ইরানের জনগণ অন্য কোনো জাতির প্রতি—যার মধ্যে আমেরিকা, ইউরোপ বা প্রতিবেশী দেশগুলোও রয়েছে—কোনো শত্রুতা পোষণ করে না।"
তিনি আরও বলেন, "এটি ইরানি সংস্কৃতি ও সামষ্টিক চেতনার গভীরে প্রোথিত একটি নীতি—কোনো সাময়িক রাজনৈতিক অবস্থান নয়।"
অন্যদিকে, চিঠি প্রকাশের পর দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প ইরানের নেতৃত্বকে "পৃথিবীর সবচেয়ে সহিংস ও সন্ত্রাসী প্রবণতাসম্পন্ন শাসনব্যবস্থা" বলে আখ্যা দেন এবং সতর্ক করেন, দেশটি যদি পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করে, তবে তা "অসহনীয় হুমকি" হয়ে উঠবে।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরান যুদ্ধ "শেষ পর্যায়ের দিকে এগোচ্ছে" এবং ইরানের অধিকাংশ সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস হয়ে গেছে।
এদিকে নিজের চিঠিতে পেজেশকিয়ান বিশ্ব এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে বলে সতর্ক করেন। তিনি বলেন, "সংঘাতের পথে এগিয়ে যাওয়া এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি ব্যয়বহুল এবং নিষ্ফল।"
