শান্তি আলোচনার মধ্যেই ইউক্রেনে ভয়াবহ হামলা রাশিয়ার; নিহত ১, আহত অন্তত ২১
সংযুক্ত আরব আমিরাতে যখন যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন ও রাশিয়ার প্রতিনিধিরা শান্তি আলোচনায় বসেছেন, ঠিক তখনই ইউক্রেনের দুই বড় শহর কিয়েভ ও খারকিভে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। আজ শনিবার ভোরের এই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা।
কিয়েভের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শনিবার সকাল পর্যন্ত চলা এই হামলায় অন্তত একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ২০ জনেরও বেশি। হামলার কারণে বিদ্যুৎ ও পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। শহরের বহু এলাকা এখন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন।
যুদ্ধের প্রায় চার বছর পর এই প্রথম তিন পক্ষ (যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউক্রেন) বৈঠকে বসেছে। কিন্তু আলোচনার মধ্যেই হামলার ঘটনা মস্কোর শান্তির সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। রাশিয়া এখনো ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দনবাস এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার দাবিতে অনড়।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎস্কো জানান, ড্রোন হামলায় শহরের বিভিন্ন ভবনে আগুন ধরে যায়। তিনি বলেন, 'এখন পর্যন্ত একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।'
তীব্র শীতের মধ্যে এই হামলায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। মেয়র জানান, শুক্রবারের হামলার পর রাজধানীতে প্রায় ১ হাজার ৯৪০টি আবাসিক ভবনে কোনো হিটিং বা ঘর গরম রাখার ব্যবস্থা নেই। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, 'সামনে হয়তো আরও কঠিন সময় আসছে।'
ক্লিৎস্কোর কার্যালয়ের তথ্যমতে, বিদ্যুৎ–সংকটের কারণে পুরো শহর অন্ধকারে নিমজ্জিত হওয়ায় জানুয়ারি মাসে প্রায় ৬ লাখ মানুষ সাময়িকভাবে শহর ছেড়েছেন। বর্তমানে সেখানে তাপমাত্রা মাইনাস ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। জরুরি কর্মীরা বিদ্যুৎ ও হিটিং ব্যবস্থা সচল করতে দিনরাত কাজ করছেন।
এদিকে রুশ সীমান্তের ৩০ কিলোমিটার দূরের শহর খারকিভেও হামলা হয়েছে। শহরের মেয়র ইহর তেরেখভ জানান, মাত্র আড়াই ঘণ্টায় অন্তত ২৫টি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এতে ১৪ জন আহত হয়েছেন।
টেলিগ্রামে এক বার্তায় তিনি জানান, বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়কেন্দ্র, হাসপাতাল ও প্রসূতি সেবাকেন্দ্রেও আঘাত হেনেছে রুশ ড্রোন।
প্রায় চার বছর ধরে চলা এই যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে তিন দেশের প্রতিনিধিদের বৈঠকের দ্বিতীয় দিনে এই হামলার ঘটনা ঘটল।
