যুদ্ধবিরতি বা আলোচনার জন্য ইরান ‘কখনো অনুরোধ করেনি’: আরাগচি
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জোর দিয়ে বলেছেন, ওয়াশিংটনের কাছে ইরান কখনো যুদ্ধবিরতির অনুরোধ করেনি কিংবা কোনো আলোচনার কথাও বলেনি।
তিনি এও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যেও ইরান নিজেদের আত্মরক্ষার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে এবং দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে থাকবে।
সিবিএস নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "না, আমরা কখনও যুদ্ধবিরতি চাইনি, এমনকি আমরা কখনও আলোচনাও চাইনি। যতক্ষণ সময় লাগে আমরা আত্মরক্ষায় প্রস্তুত। আমরা এখন পর্যন্ত এটাই করেছি এবং করতেই থাকব যতক্ষণ না প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই পর্যায়ে আসেন যে এটি একটি অবৈধ যুদ্ধ, যেখানে কোনো জয় নেই। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মজা করতে চান বলেই মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। তিনি এটাই বলেছেন।''
আরাগচি আরও বলেন, তাদের সরকার "যথেষ্ট স্থিতিশীল এবং শক্তিশালী" যে তারা আলোচনা ছাড়াই তার জনগণকে রক্ষা করতে পারে।
পশ্চিম ইরানে আইআরজিসি ও বাসিজ বাহিনীর কমান্ড সেন্টারে হামলার দাবি ইসরায়েলের
পশ্চিম ইরানে বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) ও আধা সামরিক মিলিশিয়া বাহিনী বাসিজের কমান্ড সেন্টারে হামলার দাবি করেছে ইসরায়েল।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের বিমান বাহিনী দেশটির পশ্চিমে ইরানি সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
এক্সে এক পোস্টে জানানো হয়েছে, 'বিপ্লবী গার্ড কোর ও বাসিজ ইউনিটের বেশ কয়েকটি কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টারে' হামলা চালানো হয়েছে।
স্থাপনাগুলো ইসরায়েল এবং এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা ও আক্রমণ পরিকল্পনা করার জন্য ব্যবহৃত হতো।
'আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে' যুদ্ধ শেষ হবে: মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী
মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেছেন, তিনি আশা করেন "আগামী কয়েক সপ্তাহের" ইরান যুদ্ধ শেষ হবে।
এবিসি নিউজে প্রচারিত দিস উইক অনুষ্ঠানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন,"আমি মনে করি এই সংঘাত অবশ্যই আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শেষ হবে। এর চেয়েও দ্রুত হতে পারে। তবে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই সংঘাতের অবসান হবে।
অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাহার করলেন ইরান নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক
অস্ট্রেলিয়ায় এশিয়ান কাপ খেলতে গিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করা ইরান নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক জহরা ঘানবারি শেষ পর্যন্ত তার আবেদন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
রোববার (১৫ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা 'ইরনা' -র বরাত দিয়ে এই তথ্য জানা গেছে।
খবরে বলা হয়েছে, জহরা ঘানবারি আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মালয়েশিয়া থেকে ইরানের উদ্দেশে রওনা হবেন। তিনিসহ ইরান দলের মোট পাঁচজন সদস্য তাদের আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাহার করেছেন।
এর আগে গত কয়েক দিনে দলের আরও তিনজন খেলোয়াড় এবং একজন কোচিং স্টাফ সদস্য তাদের আশ্রয়ের আবেদন তুলে নিয়ে মালয়েশিয়ায় পৌঁছান।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, বিদেশে খেলতে যাওয়া ইরানি অ্যাথলেটরা যদি দলত্যাগ করার চেষ্টা করেন বা সরকারের বিরুদ্ধে কোনো অবস্থান নেন, তবে ইরান কর্তৃপক্ষ তাদের পরিবারের সদস্যদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে কিংবা সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার হুমকি দেয়।
ধারণা করা হচ্ছে, পরিবারের নিরাপত্তা বা অন্য কোনো চাপের কারণেই এই ফুটবলাররা শেষ মুহূর্তে তাদের সিদ্ধান্ত বদলেছেন।
ড্রোন হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বৃহত্তম তেল কেন্দ্রে ফের কার্যক্রম শুরু
ড্রোন হামলার শিকার হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বৃহত্তম তেল স্থাপনা সংযুক্ত আরব আমিরাতের 'ফুজাইরা' বন্দরে পুনরায় কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শনিবার এই হামলার পর সাময়িকভাবে সেখানে কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছিল।
শনিবার ফুজাইরা বন্দরে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ফুজাইরা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একটি ড্রোন তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সফলভাবে ভূপাতিত করার পর এর 'ধ্বংসাবশেষ' নিচে পড়লে সেখানে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়।
সংবাদ সংস্থা ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে বন্দরে তেল লোড করার কার্যক্রম এখন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে।
কৌশলগতভাবে এই ফুজাইরা বন্দরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি হরমুজ প্রণালী থেকে মাত্র ৭০ মাইল দূরে অবস্থিত। বর্তমানে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ থাকায় বিকল্প হিসেবে জাহাজগুলো এই বন্দরটি ব্যবহার করছে। এর ফলে জাহাজগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ ওই নৌপথ ব্যবহার না করেই জ্বালানি সংগ্রহ করার সুযোগ দিচ্ছে এই বন্দরটি।
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে জ্বালানি সরবরাহের প্রধান কেন্দ্রগুলোতে এ ধরনের হামলা বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে দ্রুত কার্যক্রম শুরু হওয়ায় সেই উদ্বেগ কিছুটা প্রশমিত হয়েছে।
ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধে 'ভয়াবহ সহিংসতা' বন্ধে পোপ লিও'র যুদ্ধবিরতির ডাক
ভ্যাটিকান সিটি: ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান পাল্টাপাল্টি হামলা এবং ক্রমবর্ধমান প্রাণহানির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মধ্যপ্রাচ্যে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ লিও চতুর্দশ।
রোববার ভ্যাটিকান সিটিতে সাপ্তাহিক 'অ্যাঞ্জেলাস' প্রার্থনা শেষে উপস্থিত ভক্ত ও অনুসারীদের উদ্দেশে তিনি এই আহ্বান জানান। পোপ বলেন, 'মধ্যপ্রাচ্যের খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীসহ বিশ্বের সকল সদিচ্ছাসম্পন্ন মানুষের পক্ষ থেকে আমি এই সংঘাতের জন্য দায়ীদের কাছে বিশেষ আবেদন জানাচ্ছি—অনুগ্রহ করে যুদ্ধ বন্ধ করুন।'
ইতিহাসের প্রথম মার্কিন এই পোপ বলেন, গত দুই সপ্তাহ আগে এই সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ওই অঞ্চলের মানুষ 'যুদ্ধের ভয়াবহ সহিংসতার' মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, 'সহিংসতা কখনোই সেই ন্যায়বিচার, স্থিতিশীলতা এবং শান্তি বয়ে আনতে পারে না, যার জন্য সাধারণ মানুষ দীর্ঘকাল ধরে অপেক্ষা করছে।'
উল্লেখ্য, গত ১৪ দিন ধরে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। পোপের এই আহ্বান এমন এক সময়ে এলো যখন বিশ্বনেতারা এই সংঘাত একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেওয়া ঠেকাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ইসরায়েলে মার্কিন কূটনীতিকদের ভবনে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত
ইসরায়েলে অবস্থানরত মার্কিন কূটনীতিকদের একটি ভবনে ইরানের ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ (শার্পনেল) আঘাত হেনেছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম 'চ্যানেল ১২'-এর বরাতে সিএনএন এই তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, 'চ্যানেল ১২' একটি ছবি প্রকাশ করেছে যাতে একটি ভবনের ছাদের অংশ বিশেষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেখা গেছে। প্রাথমিকভাবে জায়গাটি কোনো পার্কিং এরিয়া বলে মনে হচ্ছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটি ঠিক কোথায় অবস্থিত, ইসরায়েলি ওই সংবাদমাধ্যম তা সুনির্দিষ্টভাবে জানায়নি।
উল্লেখ্য, ইসরায়েলে মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে অবস্থিত। এ ছাড়া তেল আবিবেও একটি বড় শাখা অফিস রয়েছে, যা আগে মূল দূতাবাস হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
এই ঘটনার বিষয়ে মন্তব্যের জন্য মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে সিএনএন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ইসরায়েলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: ক্লাস্টার বোমার আঘাতে আহত ২
ইসরায়েলে ইরানের সাম্প্রতিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত দুই ব্যক্তি আহত হয়েছেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম 'দ্য টাইমস অব ইসরায়েল' দেশটির জরুরি সেবা সংস্থা মাগেন ডেভিড অ্যাডোমের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আহত দুই ব্যক্তির বয়স ৫০-এর কোঠায় এবং তাদের আঘাত খুব বেশি গুরুতর নয়।
খবরে আরও জানানো হয়, ইরান এবার ক্লাস্টার বোমা বা 'গুচ্ছবোমা' সমৃদ্ধ ওয়ারহেডবাহী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। এই ক্ষেপণাস্ত্র থেকে নিক্ষিপ্ত ছোট ছোট বোমা বা খণ্ডাংশ (সাব-মিউনিশন) ইসরায়েলের সর্বদক্ষিণের শহর ইলাত এবং দেশের মধ্যাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ে।
এর আগে ইলাত শহরের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, তারা ক্লাস্টার বোমাবাহী একটি ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সফলভাবে ভূপাতিত করেছে। তবে ক্ষেপণাস্ত্রটি আকাশে ধ্বংস হলেও এর ভেতরে থাকা ছোট ছোট বোমার অংশগুলো শহরের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে পড়ে।
ইরানকে ফাঁসাতে 'এপস্টিন গ্যাং' ৯/১১-এর মতো নাশকতার ছক কষছে: লারিজানি
কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিন চক্রের সদস্যরা ৯/১১-এর মতো বড় ধরনের কোনো নাশকতামূলক ঘটনা ঘটিয়ে তার দায় ইরানের ওপর চাপানোর ষড়যন্ত্র করছে বলে দাবি করেছেন ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলী লারিজানি।
লারিজানি বলেন, 'আমি জানতে পেরেছি যে, এপস্টিন গ্যাংয়ের অবশিষ্ট সদস্যরা ৯/১১-এর মতো একটি পরিস্থিতি তৈরি করে তার জন্য ইরানকে অভিযুক্ত করার চক্রান্ত করছে।'
তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, 'ইরান এ ধরনের যেকোনো সন্ত্রাসী পরিকল্পনার ঘোর বিরোধী এবং মার্কিন জনগণের সঙ্গে আমাদের কোনো যুদ্ধ নেই।'
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান এই যুদ্ধের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে প্রভাবশালী ও ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের সম্পর্কের বিষয়ে বিপুল পরিমাণ গোপন সরকারি নথি ও ফাইল জনসম্মুখে প্রকাশিত হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদিও এপস্টিনকে 'বিশ্রী লোক' হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তবে অতীতে বিভিন্ন সময়ে তাদের একসঙ্গে অসংখ্য ছবিতে দেখা গেছে। এপস্টিনের বিরুদ্ধে বছরের পর বছর ধরে বহু তরুণী ও কিশোরীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ছিল।
খারগ দ্বীপে আবারও হামলার হুমকি ট্রাম্পের
ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র 'খারগ দ্বীপে' আবারও ভয়াবহ হামলার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের প্রধান রুট 'হরমুজ প্রণালী' নিরাপদ রাখতে মিত্র দেশগুলোকে সেখানে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধ এখন তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, মার্কিন হামলায় খারগ দ্বীপের বড় একটি অংশ এরই মধ্যে 'পুরোপুরি ধ্বংস' হয়ে গেছে।
শনিবার এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি অত্যন্ত কঠোর ও বিতর্কিত সুরে বলেন, 'আমরা স্রেফ মজা করার জন্য সেখানে আরও কয়েকবার হামলা চালাতে পারি।'
ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে সংঘাতের চরম উসকানি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে হোয়াইট হাউজ থেকে বলা হয়েছিল, তারা খারগ দ্বীপের কেবল সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। কিন্তু ট্রাম্পের নতুন এই অবস্থান কূটনৈতিক সমাধানের পথকে আরও সংকীর্ণ করে তুলেছে।
উত্তেজনা না বাড়াতে ফ্রান্সের কূটনীতিককে ইরানের আহ্বান
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও অস্থিরতার পরিস্থিতির মধ্যে ফ্রান্সের শীর্ষ কূটনীতিকের সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ফোনালাপে তিনি দেশগুলোকে উত্তেজনা প্রশমনে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান এবং হুঁশিয়ারি দেন যে, কোনো দেশেরই এই সংঘাতকে আর উসকে দেওয়া উচিত হবে না।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, আরাগচি এবং ফ্রান্সের শীর্ষ কূটনীতিক জঁ-নোয়েল বারোটের মধ্যে এই ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়। এতে তারা ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা এবং এর ফলে আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন।
আরাগচি দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্য এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে ক্রমবর্ধমান অস্থিতিশীলতার 'একমাত্র কারণ' হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড। তিনি বিশ্ব শক্তিগুলোকে এই সংকটে একটি 'দায়িত্বশীল দৃষ্টিভঙ্গি' গ্রহণের আহ্বান জানান এবং এমন কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার পরামর্শ দেন যা পরিস্থিতিকে আরও অবনতির দিকে নিয়ে যেতে পারে।
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও স্পষ্ট করেন যে, তার দেশ জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং নিরাপত্তা রক্ষায় কোনো আপস করবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের সামরিক বাহিনী শুধুমাত্র 'আগ্রাসনকারীদের' সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছে এবং একে পার্শ্ববর্তী অন্য কোনো দেশের ওপর হামলা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে আরাগচি জানান, লেবাননে শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব কেবল তখনই, যখন সেখানে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা বন্ধ হবে।
মোজতবা খামেনি সম্পূর্ণ সুস্থ ও শারীরিক অবস্থা 'পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আছে': ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, দেশটির নবনিযুক্ত শীর্ষ নেতা মোজতবা খামেনি 'সুস্থ আছেন' এবং তিনি 'পুরো পরিস্থিতি নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন'। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম 'আল-আরাবি আল-জাদিদ'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
গত ৮ মার্চ দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে মোজতবা খামেনিকে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। এমনকি গত ১২ মার্চ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে তার প্রথম ভাষণটি তিনি নিজে না দিয়ে একজন সংবাদ উপস্থাপকের মাধ্যমে পাঠ করানো হয়। এরপর থেকেই তার শারীরিক অবস্থা ও অবস্থান নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল।
সাক্ষাৎকারে আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও চলমান যুদ্ধ নিয়ে আরাগচি বলেন, যুদ্ধের একটি 'ন্যায়সঙ্গত অবসান' ঘটাতে পারে এমন যেকোনো আঞ্চলিক উদ্যোগকে ইরান স্বাগত জানাবে। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান যে, যুদ্ধ বন্ধের জন্য এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাব বা উদ্যোগ তাদের সামনে নেই।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী প্রসঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্রদের জাহাজ ছাড়া বাকি সবার জন্য হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত থাকবে।'
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় ২০২ শিশুসহ কয়েকশ প্রাণহানির দাবি
ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় অন্তত ২০২ জন শিশু এবং ২২৩ জন নারী নিহত হয়েছেন। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এই তথ্য জানিয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিহত নারীদের মধ্যে তিন জন অন্তঃসত্ত্বা মা রয়েছেন। এ ছাড়া ফার্স নিউজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নিহত শিশুদের মধ্যে ১২ জনের বয়স পাঁচ বছরের কম।
তবে এই হামলা ও হতাহতের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ইসরায়েলের পুলিশ সদরদপ্তর ও স্যাটেলাইট কেন্দ্রে ইরানের ড্রোন হামলার দাবি
ইসরায়েলের একটি বিশেষ পুলিশ ইউনিটের সদরদপ্তর এবং একটি প্রতিরক্ষা স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্রে শক্তিশালী ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান।
আজ সকালে এই হামলা চালানো হয় বলে ইরানের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাদের সামরিক বাহিনী ইসরায়েলের বিশেষ পুলিশ ইউনিট 'লাহাভ ৪৩৩'-এর সদরদপ্তর এবং 'গিলাত' প্রতিরক্ষা স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্র লক্ষ্য করে 'শক্তিশালী ড্রোন হামলা' চালিয়েছে।
তবে তেহরানের পক্ষ থেকে ওই হামলার নির্দিষ্ট অবস্থান কিংবা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ইসরায়েলের পক্ষ থেকেও এই দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ড্রোন ঠেকাতে সাহায্যের বিনিময়ে টাকা ও প্রযুক্তি চায় ইউক্রেন
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে ইরানি ড্রোনের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষায় সহায়তা করার বিনিময়ে অর্থ এবং প্রযুক্তি চায় ইউক্রেন।
কিয়েভ ইততোমধ্যে এই অঞ্চলের চারটি দেশে বিশেষজ্ঞ দল পাঠানোর পর তিনি এই মন্তব্য করেন।
গত রোববার প্রকাশের জন্য অনুমোদিত এক বিবৃতিতে জেলেনস্কি সংবাদকর্মীদের বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো প্রতিটি দল কয়েক ডজন সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত। এই দলগুলো বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন পরিচালনা করতে সক্ষম হবে এবং ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কীভাবে কার্যকরভাবে পরিচালনা করা উচিত, তা হাতে-কলমে প্রদর্শন করবে।
গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলে আহত শতাধিক
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অভ ইসরায়েল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের সঙ্গে সংঘাতের জেরে দেশটিতে মোট ১০৮ জন আহত হয়েছে। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
তবে ঠিক কী কারণে ওই মানুষজন আহত হয়েছে, মন্ত্রণালয়ের তরফে তার কোনো নির্দিষ্ট হিসাব দেওয়া হয়নি। ওই সংবাদমাধ্যমের দাবি, ইরান বা লেবাননের ছোড়া সরাসরি মিসাইল বা রকেটের আঘাতেই যে সবাই জখম হয়েছেন, এমনটা নয়। বরং হামলার সময় প্রাণ বাঁচাতে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে হুড়োহুড়ি করতে গিয়েও অনেকে চোট পেয়ে থাকতে পারেন।
ইসফাহানের কারখানা ও সামরিক ঘাঁটিতে হামলা, মৃত অন্তত কয়েক ডজন
গোটা ইরানজুড়েই চলছে প্রবল বোমাবর্ষণ। হামলার শিকার হওয়া একাধিক শহরের মধ্যে অন্যতম ইসফাহান। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে রাজধানী তেহরান-সহ ২০০-র বেশি শহরকে নিশানা করা হয়েছে।
ইরানের অন্যতম জনবহুল শহর ইসফাহান। এখানে রয়েছে একাধিক শিল্পাঞ্চল ও সামরিক ঘাঁটি। অন্যান্য শহরের মতো ইসফাহানেও কলকারখানা ও সাধারণ অবকাকাঠামোগুলোকে হামলার নিশানা করা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই সব হামলায় এখনও পর্যন্ত বেশ কয়েক ডজন মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
শিল্প ও সামরিক দিক থেকে ইসফাহান ইরানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, জনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলিতেও নির্বিচারে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। বেশ কিছু আবাসন আংশিক বা সম্পূর্ণ রূপে ধ্বংস হয়ে গেছে। ফলে যুদ্ধের প্রভাব কেবল আর সামরিক বা শিল্পাঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। গোটা দেশজুড়ে হাসপাতাল, স্কুল, এমনকি রেড ক্রিসেন্টের ভবনও হামলার শিকার হচ্ছে।
'শিশু হত্যাকারী' নেতানিয়াহু বেঁচে থাকলে 'খুঁজে বের করে হত্যা' করা হবে: আইআরজিসি
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে নিশানা করে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।
ইরানের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইআরজিসি বলেছে: 'শিশু-হত্যাকারী এই অপরাধী যদি এখনও বেঁচে থাকে, তবে সর্বশক্তি দিয়ে তাকে খুঁজে বের করে হত্যা করা হবে।'
মধ্য ইসরায়েলে সাইরেন ও 'জোরালো বিস্ফোরণের' শব্দ
ইসরাইলের মধ্যাঞ্চলে সাইরেন বেজে উঠেছে এবং 'জোরালো বিস্ফোরণের' শব্দ শোনা গেছে।
ইসরাইলের টেলিভিশন চ্যানেল চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে অঞ্চলজুড়ে বিমান হামলার সতর্কতা সাইরেন বেজে ওঠে। এ সময় দেশটির মধ্যাঞ্চলে বেশ কয়েকটি 'জোরালো বিস্ফোরণের' শব্দ শোনা যায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্য ইসরাইলের বিভিন্ন স্থানে আকাশ থেকে ধ্বংসাবশেষ পড়ে থাকার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার সময় আহত হওয়া চারজনকে চিকিৎসা দিয়েছে ইসরাইলের অ্যাম্বুলেন্স সেবা।
ইসরাইলের হোম ফ্রন্ট কমান্ড জানিয়েছে, ঘটনাটি এখন শেষ হয়েছে। পরিস্থিতি আপাতত স্বাভাবিক রয়েছে বলে তারা জানিয়েছে।
মিসাইল হামলায় বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত, মার্কিনীদের মাথার মূল্য লাখ ডলার ঘোষণা
ইরাকের সার্বিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। এর একটি বড় উদাহরণ হলো, শনিবার সকালে বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। জানা গেছে, হামলায় সেখানকার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কেবল এই হামলাই নয়, পুরো ইরাকজুড়েই মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন সতর্কতা জারি করে আমেরিকান নাগরিকদের অবিলম্বে ইরাক ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছে।
এছাড়া ইরাকের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী দেশটিতে অবস্থানরত আমেরিকানদের তথ্য দিতে পারলে এক লাখ ডলার পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বলেও খবর পাওয়া গেছে।
এসব হামলার মাত্রা স্পষ্টভাবে বাড়ছে এবং তা কেবল রাজধানী বাগদাদেই সীমাবদ্ধ নেই। পুরো ইরাক ও উত্তর ইরাকের কুর্দি অঞ্চলে অবস্থিত বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি ও বিমানবন্দরে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলা চালানো হয়েছে। একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলার ঘটনায় একজন ফরাসি সেনা নিহত হয়েছেন।
সংঘাত আরও ব্যাপক আকার ধারণ করার বিষয়ে এখন জোরালো শঙ্কা তৈরি হয়েছে। আর এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে ইরাক।
ইসরায়েল ও কুয়েত-ইরাকের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দাবি ইরানের
ইসরায়েল এবং ইরাক ও কুয়েতে অবস্থিত তিনটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে বড় ধরনের হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। আজ রোববার এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে সংস্থাটি।
আইআরজিসির পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েলে 'অ্যাম্বুলেন্স সাইরেনের অবিরাম শব্দ' এবং 'নিহত ও আহতের সংখ্যা বাড়ছে' বলে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের স্বীকারোক্তিই তেল আবিবের শিল্পাঞ্চলগুলোতে ইরানের 'ভারী ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের গভীরতা' প্রকাশ করে। ইরানের দাবি, তাদের এই হামলায় ইসরায়েলের শিল্প ও সামরিক খাত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে।
বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয় যে, ইরাকের এরবিলে অবস্থিত হারির বিমান ঘাঁটি এবং কুয়েতে মার্কিন সেনাদের অবস্থানস্থল আলী আল সালেম ও আরিফজান ঘাঁটিতে সফল অভিযান চালানো হয়েছে। আইআরজিসির মতে, এই ঘাঁটিগুলো ইরানের 'শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের আঘাতে ধ্বংস হয়ে গেছে'।
শর্ত 'যথেষ্ট ভালো নয়', ইরানের সঙ্গে এখনই সমঝোতা নয়: ট্রাম্প
গত শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য এই মুহূর্তে প্রস্তুত নন।
সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, 'ইরান একটি সমঝোতা করতে চায়, কিন্তু আমি তা করতে চাই না। কারণ শর্তগুলো এখনও যথেষ্ট ভালো নয়।' তিনি আরও যোগ করেন যে, যেকোনো চুক্তি হতে হলে তা হতে হবে 'অত্যন্ত মজবুত'। তবে সেই চুক্তিতে কী কী শর্ত থাকতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি। তিনি বলেন, 'আমি এটি আপনাদের কাছে বলতে চাই না।'
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সম্পর্কে ট্রাম্প তার সন্দেহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে মোজতবা কেন জনসমক্ষে আসছেন না, সেই প্রশ্ন তুলে ট্রাম্প বলেন, 'আমি জানি না তিনি আদৌ বেঁচে আছেন কি না। এখন পর্যন্ত কেউ তাকে দেখাতে পারেনি।'
তিনি আরও যোগ করেন, 'আমি শুনছি তিনি বেঁচে নেই। আর যদি তিনি বেঁচে থাকেন, তবে তাঁর দেশের জন্য খুব বুদ্ধিমানের মতো একটি কাজ করা উচিত, আর তা হলো আত্মসমর্পণ করা।' তবে খামেনির মৃত্যুর খবরকে তিনি একটি 'গুজব' হিসেবেও বর্ণনা করেন।
ইরানের ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবে তিনি কাকে সমর্থন করবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প কোনো সুনির্দিষ্ট নাম উল্লেখ করেননি। তিনি শুধু বলেন, 'আমাদের কাছে এমন কিছু মানুষ আছেন যারা বেঁচে আছেন এবং দেশটির ভবিষ্যতের জন্য তারা দারুণ নেতা হতে পারবেন।'
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হতে থাকায় রাশিয়ার ওপর থাকা কিছু নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করার সিদ্ধান্তের বিষয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, 'আমি বিশ্বের জন্য তেল নিশ্চিত করতে চাই। আমি তেল চাই।' তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, ২০২২ সালে ইউক্রেনে রুশ আক্রমণের পর আরোপিত এই নিষেধাজ্ঞাগুলো 'সংকট শেষ হওয়ার সাথে সাথেই আবার বহাল করা হবে।'
চলমান এই সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইউক্রেনের কাছ থেকে সম্ভাব্য সহায়তা নেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্প বেশ কঠোর মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, 'আমাদের যার সাহায্য সবচেয়ে শেষে প্রয়োজন, তিনি হলেন ভলোদিমির জেলেনস্কি।'
উল্লেখ্য, রুশ ড্রোন প্রতিহত করার সামরিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এর আগে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানি ড্রোন মোকাবিলায় সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছিলেন জেলেনস্কি। গত মঙ্গলবার তিনি জানিয়েছিলেন যে, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিজেদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য বিশেষ প্রতিনিধি দল পাঠাচ্ছে ইউক্রেন।
নিজের নাগরিকদের মধ্যপ্রাচ্য ছাড়তে বলল যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের হামলার প্রেক্ষাপটে মার্কিন নাগরিকদের প্রায় ১২টি দেশ ছাড়তে বলেছে ওয়াশিংটন।
বাগদাদের মার্কিন দূতাবাসে মিসাইল হামলার পর দেশটিতে অবস্থান্রত মার্কিন নাগরিকদের দ্রুত ইরাক ছাড়তে বলা হয়েছে।
এছাড়া শনিবার যুক্তরাষ্ট্র সরকার বলেছে, জরুরি নয়, এমন সব সরকারি কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের ওমান থেকে দেশে ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
