ইরানকে উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা বন্ধের আহ্বান হামাসের
নিজেদের প্রধান মিত্র ইরানকে প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা বন্ধ করার অনুরোধ জানিয়েছে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। তেহরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে তাদের ঘনিষ্ঠ মিত্রের প্রতি এ ধরনের প্রকাশ্য আহ্বানকে অত্যন্ত বিরল বলে মনে করা হচ্ছে।
শনিবার (১৪ মার্চ) এক বিবৃতিতে হামাস তাদের "ইরানি ভাইদের" প্রতি প্রতিবেশী দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, "ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখতে" অঞ্চলের সকল দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা করা উচিত।
একই সময়ে গাজা উপত্যকা শাসনকারী এই গোষ্ঠীটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার বিরুদ্ধে ইরানের আত্মরক্ষার অধিকারের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছে। বর্তমানে ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আক্রমণ অব্যাহত রয়েছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে যে, তাদের পাল্টা হামলাগুলো প্রতিবেশীদের লক্ষ্য করে নয়, বরং উপসাগরীয় অঞ্চলের মাটিতে থাকা 'মার্কিন স্থাপনাগুলোকে' লক্ষ্য করে চালানো হচ্ছে। তবে বাস্তবে দেখা গেছে, অনেক হামলাই বেসামরিক অবকাঠামোতে আঘাত হেনেছে।
হামাস জানিয়েছে, তারা এই অঞ্চলের যুদ্ধ পরিস্থিতি "গভীর উদ্বেগের" সাথে পর্যবেক্ষণ করছে। গোষ্ঠীটি অবিলম্বে এই যুদ্ধ বন্ধে কাজ করার জন্য সকল রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। তবে হামাসের এই বিবৃতির বিষয়ে ইরান এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।
উল্লেখ্য, গত দুই সপ্তাহে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রভাব তাদের অনেক উপসাগরীয় প্রতিবেশীর ওপর পড়েছে। এখন পর্যন্ত এই অঞ্চলে অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য বা বিদেশি শ্রমিক। নিহতদের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৬ জন, কুয়েতে ৬ জন এবং ওমান, সৌদি আরব ও বাহরাইনে ২ জন করে রয়েছেন।
ইরান হামাসের অর্থায়ন, অস্ত্র ও রাজনৈতিক সমর্থনের সবচেয়ে বড় উৎস। যুদ্ধের প্রথম দিনে অর্থাৎ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির নিহত হওয়ার ঘটনাকে "জঘন্য অপরাধ" বলে নিন্দা জানিয়েছিল হামাস। গোষ্ঠীটি মূলত ইরানের নেতৃত্বাধীন "অ্যাক্সিস অফ রেজিস্ট্যান্স" বা প্রতিরোধ বলয়ের সদস্য, যার লক্ষ্য মার্কিন ও ইসরায়েলি প্রভাব মোকাবিলা করা।
এদিকে তুরস্ক ও কাতারও হামাসকে উল্লেখযোগ্য আর্থিক ও রাজনৈতিক সমর্থন দিয়ে থাকে। তবে সম্প্রতি এই দুটি দেশও ইরানি হামলার শিকার হয়েছে।
গাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে বিবৃতিতে বলা হয়, গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে বিধ্বংসী যুদ্ধ চালিয়েছে হামাস। গত অক্টোবর থেকে সেখানে মার্কিন মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে এবং চুক্তির পরবর্তী ধাপগুলো নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে ইসরায়েল ও হামাস একে অপরের বিরুদ্ধে প্রায় প্রতিদিনই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করে আসছে। হামাস নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় এ পর্যন্ত ৬৪৯ জন নিহত হয়েছেন।
