ইরানের হুমকির পর দুবাইয়ের অর্থনৈতিক কেন্দ্রে ড্রোন হামলা
একটি ইরানি ড্রোন আকাশে প্রতিহত করার পর এর ধ্বংসাবশেষ থেকে আগুন লেগে দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সিয়াল সেন্টার (ডিআইএফসি) ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শুক্রবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের আর্থিক অঞ্চলের ওই ভবন থেকে ঘন ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়।
দুবাইয়ের মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, 'কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, সফলভাবে প্রতিহত করা একটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে মধ্য দুবাইয়ের একটি ভবনের সম্মুখভাগে ছোট একটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।'
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার জবাবে উপসাগরীয় দেশগুলোর 'ব্যাংক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলোতে' হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছিল ইরান। এর পরপরই ওই এলাকার বেশ কয়েকটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মীদের অফিসে যেতে নিষেধ করে।
গত বুধবার ইরানের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় অপারেশনাল কমান্ড 'খাতাম আল-আম্বিয়া'র একজন মুখপাত্র বলেন, 'গত রাতে আমেরিকান ও জায়নবাদী সন্ত্রাসী সেনাবাহিনী তাদের সামরিক উদ্দেশ্য পূরণে ব্যর্থ হওয়ার পর দেশের একটি ব্যাংকে হামলা চালিয়েছে। এ অঞ্চলের লোকজনের উচিত ব্যাংকগুলোর এক কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে না থাকা।'
আধা-সরকারি মেহের বার্তা সংস্থার মতে, এর কয়েক ঘণ্টা আগে রাজধানী তেহরানে ইরানের অন্যতম বড় সরকারি ব্যাংক 'ব্যাংক সেপাহ'-এর সাথে যুক্ত একটি প্রশাসনিক ভবনে বিমান হামলা হয়। এতে ঠিক কতজন কর্মী নিহত হয়েছেন তা জানা যায়নি।
এএফপিকে এ বিষয়ে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে, 'নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায়' মার্কিন আর্থিক পরিষেবা গ্রুপ 'সিটি' গত বুধবার তাদের দুবাই কর্মীদের অফিস খালি করার নির্দেশ দেয়। দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সিয়াল সেন্টার (ডিআইএফসি) এবং উদ মেথা এলাকার 'সিটি' অফিসগুলো থেকে কর্মীদের নিরাপদে সরে যেতে বলা হয়।
এএফপিকে অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যের অন্যতম বড় পরামর্শক প্রতিষ্ঠান পিডব্লিউসি 'সতর্কতামূলক ব্যবস্থা' হিসেবে চলতি সপ্তাহের বাকি দিনগুলোর জন্য সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতে তাদের অফিসগুলো বন্ধ করে দিয়েছে।
আরেক ব্রিটিশ পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ডেলয়েট তাদের কর্মীদের ডিআইএফসি অফিস খালি করতে বলেছে। ডিআইএফসিতে থাকা আরও দুটি কোম্পানির কর্মীরা এএফপিকে জানিয়েছেন, সতর্কতা হিসেবে তাদের অফিসও খালি করা হয়েছে। এদিকে কাতারে গ্রাহকদের কাছে পাঠানো এক ক্ষুদে বার্তায় জানানো হয়েছে, কর্মী ও গ্রাহকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এইচএসবিসি-এর সব শাখা বন্ধ থাকবে।
দুই সপ্তাহ আগে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র পুরো ইরানজুড়ে ব্যাপক বিমান হামলার মাধ্যমে যুদ্ধ শুরু করার পর, তেহরান এর জবাবে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় সব দেশে পাল্টা হামলা চালায়।
এতে সংযুক্ত আরব আমিরাত সবচেয়ে বেশি হামলার শিকার হয়েছে, দেশটিতে ১,৮০০-এরও বেশি ড্রোন ও মিসাইল নিক্ষেপ করা হয়েছে।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে আমিরাতের বেশ কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে পাম জুমেইরাহ এলাকার ফেয়ারমন্ট দ্য পাম হোটেল এবং বুর্জ আল আরব হোটেল রয়েছে।
দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছেও ড্রোন আঘাত হেনেছে।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৬ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে পাকিস্তান, নেপাল ও বাংলাদেশের নাগরিক রয়েছেন।
ইরান হরমুজ প্রণালিও বন্ধ করে দিয়েছে। এটি জ্বালানি পরিবহনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ, যেখান দিয়ে বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেলের এক-পঞ্চমাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) এক-তৃতীয়াংশ পরিবহন করা হয়।
