মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পর রাশিয়ান ক্রুডে ফিরছে চীনের তেল জায়ান্টরা
চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানিগুলো—মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে চার মাস আগে অপরিশোধিত রাশিয়ান তেল কেনা বন্ধ করেছিল। তবে ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে, যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ান ক্রুড কেনায় নিষেধাজ্ঞায় ছাড় দিচ্ছে। সেই সুযোগে এই বাজারে বাজারে সক্রিয় হয়েছে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি জায়ান্টরা। চীন হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা জ্বালানি সরবরাহের ঘাটতি পুষিয়ে নিতে এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার জ্বালানি তেল রপ্তানিকারক রসনেফট ও লুকঅয়েল-এর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তবে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র একটি ছাড় ঘোষণা করে, যার আওতায় ১১ এপ্রিল পর্যন্ত ট্যাংকারে ইতোমধ্যে লোড করা রুশ অপরিশোধিত তেল কেনার অনুমতি দেওয়া হয়। বৈশ্বিক তেলবাজারে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সরবরাহ বিঘ্নের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মঙ্গলবার তেল-বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানিগুলো এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ট্যাংকারে থাকা রুশ তেল কেনার চেষ্টা করছে।
সিনোপ্যাক এবং পেট্রোচায়নার ট্রেডিং ইউনিটগুলো রুশ তেল কেনার বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছে। কারণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে তাদের প্রধান জ্বালানি সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
এছাড়া কিছু রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার— নিজ দেশের ছোট ছোট বেসরকারি রিফাইনারিগুলোর মজুত করা ক্রুড কেনার দিকেও ঝুঁকতে পারে। যুদ্ধ শুরুর আগে এসব রিফাইনারি কয়েক সপ্তাহ ধরে রুশ অপরিশোধিত তেল মজুত করেছিল বলে রয়টার্সের সূত্রগুলো জানিয়েছে।
কিছু বেসরকারি রিফাইনারির জন্য এখন এই তেল নিজেদের কারখানায় প্রক্রিয়াজাত করার চেয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলোর কাছে বিক্রি করা বেশি লাভজনক হয়ে উঠতে পারে। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ান ক্রুডের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
চলতি বছরের শুরুর দিকে এশিয়ায় ভাসমান সংরক্ষণে (ফ্লোটিং স্টোরেজ) আটকে থাকা লাখ লাখ ব্যারেল রুশ তেল নিয়ে রাশিয়া ও ভারতের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা দেখা দিতে পারে। তখন চীন ছাড়া অন্য অনেক ক্রেতা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে রুশ তেল এড়িয়ে চলছিল এবং ভারতের ওপরও রুশ তেল আমদানি কমানোর চাপ ছিল।
এখন যুক্তরাষ্ট্র রুশ তেল বিক্রির অনুমতি দেওয়ায় এশিয়ায় এই সরবরাহের জন্য প্রতিযোগিতা বেড়েছে। এর ফলে এক মাস আগেও যেখানে রুশ তেল ব্রেন্টের তুলনায় বড় ছাড়ে বিক্রি হচ্ছিল, এখন তা উল্টো প্রিমিয়ামে বিক্রি হচ্ছে।
তবে ব্রাজিল বা পশ্চিম আফ্রিকার তুলনায় রুশ অপরিশোধিত তেল এখনও তুলনামূলক সস্তা, যা এশিয়ার রিফাইনারিগুলোর কাছে এটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলছে।
চীনে রাশিয়ার দূরপ্রাচ্য থেকে আসা ইএসপিও গ্রেডের তেল, যা এপ্রিলের শেষ দিকে পৌঁছানোর কথা, তা বর্তমানে জুলাইয়ের ব্রেন্ট ক্রুডের দামের তুলনায় প্রতি ব্যারেল প্রায় ৮ ডলার বেশি দামে অফার করা হচ্ছে। অন্যদিকে, এপ্রিলের সরবরাহের জন্য রাশিয়ান ক্রুড ব্রাজিলের টুপি গ্রেডের ব্রেন্ট ক্রুডের তুলনায়, ১২ থেকে ১৫ ডলার প্রিমিয়ামে বিক্রি হচ্ছে বলে রয়টার্সের তথ্য জানিয়েছে।
