যুদ্ধবিরতি আলোচনার জন্য আজই পাকিস্তান পৌঁছাবে ইরানের প্রতিনিধি দল, ভ্যান্সের নেতৃত্বে যাবে মার্কিন দল
আমেরিকা ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত নিরসনে আলোচনার জন্য আজ বৃহস্পতিবার রাতেই পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছাচ্ছে ইরানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোগাদাম বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানিয়েছেন। অন্যদিকে মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন দেশটির ভাইসপ্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
সমাজমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া পোস্টে ইরানি রাষ্ট্রদূত রেজা মোগাদাম লিখেছেন, 'ইসরায়েলি শাসকরা বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করায় ইরানের জনমানসে সংশয় রয়েছে। তা সত্ত্বেও তেহরানের প্রস্তাবিত ১০ দফা দাবির ভিত্তিতে এই আলোচনায় বসতে আগ্রহী প্রতিনিধিদল।'
অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, ১১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে চলা এই আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
এক ব্রিফিংয়ে লেভিট বলেন, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে বর্তমানে যে যুদ্ধবিরতি চলছে, তা এই অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি স্থাপনের একটি 'সুযোগ তৈরি' করে দিয়েছে।
তবে শান্তি প্রস্তাবের খুঁটিনাটি নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। বিশেষত পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল নিয়ে উত্তেজনা কমেনি। কয়েক দিন আগেই ইরানি বাহিনী হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, অনুমতি ছাড়া ওই জলপথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে যেকোনো জাহাজ 'ধ্বংস' করে দেওয়া হবে।
লেভিটের অবশ্য দাবি, প্রকাশ্যে ইরান যা-ই বলুক না কেন, একান্ত আলোচনায় তাদের সুর যথেষ্ট নরম।
বুধবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সামনে আমেরিকার 'জয়' ঘোষণা করেন তিনি। লেভিট বলেন, অপারেশন এপিক ফিউরি-র মূল সামরিক লক্ষ্যগুলো অর্জিত হয়েছে। ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে ইরানের নৌবাহিনী, ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি।
যুদ্ধবিরতি জারি থাকায় ভ্যান্সের পাশাপাশি বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারও সশরীরে আলোচনায় বসতে পাকিস্তানে যাচ্ছেন।
যদিও কোন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে, তা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে। ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের দাবিকে নস্যাৎ করে দিয়েছেন লেভিট। তার দাবি, ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারির মুখে তেহরান তাদের প্রস্তাবে বদল আনতে বাধ্য হয়।
তবে লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলার জেরে হরমুজ প্রণালি ফের বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। হরমুজ দিয়ে ট্যাঙ্কার চলাচল অব্যাহত রাখা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতির একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।
