ট্রাম্পের ‘পুরো সভ্যতা ধ্বংস’ করার হুমকিকে যুদ্ধাপরাধ বললেন জর্জ ক্লুনি
অস্কারজয়ী অভিনেতা জর্জ ক্লুনি এবং হোয়াইট হাউসের মধ্যকার দীর্ঘদিনের কথার লড়াই নতুন করে উসকে উঠেছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানকে হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, 'আজ রাতে একটি আস্ত সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে।'
বুধবার ইতালির কুনিও শহরে তিন হাজার হাইস্কুল শিক্ষার্থীর সামনে দেওয়া এক বক্তব্যে ক্লুনি বলেন, এই ধরনের হুমকি দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট একটি যুদ্ধাপরাধ করেছেন।
ক্লুনি ফাউন্ডেশন ফর জাস্টিস আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে ৬৪ বছর বয়সী এই অভিনেতা শিক্ষার্থীদের বলেন, 'অনেকেই বলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ঠিক আছেন। কিন্তু যদি কেউ বলে যে সে একটি আস্ত সভ্যতা ধ্বংস করতে চায়, তবে সেটি একটি যুদ্ধাপরাধ। আপনি চাইলেই রক্ষণশীল মতাদর্শকে সমর্থন করতে পারেন, কিন্তু শালীনতার একটি সীমা থাকা উচিত। আমাদের কখনোই সেই সীমা অতিক্রম করা উচিত নয়।'
এর জবাবে হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চিউং দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টকে বলেন, 'তার বাজে সিনেমা এবং জঘন্য অভিনয়ের কারণে একমাত্র জর্জ ক্লুনিই যুদ্ধাপরাধ করছেন।'
বুধবার ডেডলাইন-কে দেওয়া এক বিবৃতিতে ক্লুনি বলেন, 'পরিবারগুলো তাদের প্রিয়জনদের হারাচ্ছে। শিশুদের পুড়িয়ে মারা হচ্ছে। বিশ্ব অর্থনীতি এখন খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে আছে। এটি এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে জোরদার বিতর্কের সময়, কোনো শিশুসুলভ গালিগালাজ বা নাম ধরে ডাকার সময় নয়। আমি শুরু করছি। জেনোসাইড কনভেনশন এবং রোম সংবিধি অনুযায়ী, "যখন কোনো জাতিকে শারীরিকভাবে ধ্বংস করার উদ্দেশ্য থাকে", তখনই যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ ওঠে। এর স্বপক্ষে প্রশাসনের যুক্তি কী? [আমাকে একজন ব্যর্থ অভিনেতা বলা ছাড়া, যা আমি সানন্দেই মেনে নিচ্ছি। কারণ আমি তো "ব্যাটম্যান অ্যান্ড রবিন"-এ অভিনয় করেছিলাম]।'
ডেমোক্র্যাটদের দীর্ঘদিনের সমর্থক
জর্জ ক্লুনি দীর্ঘদিন ধরেই ডেমোক্র্যাট দলের সমর্থক এবং দাতা। তিনি কয়েক দশক ধরেই নিজের রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়ে বেশ সোচ্চার।
সাংবাদিক বাবার কাছে বড় হওয়া এবং মানবাধিকার আইনজীবী আমাল ক্লুনির সঙ্গে বিয়ের কারণে তিনি এই স্পষ্টবাদিতাকে তার নৈতিক দায়িত্ব হিসেবেই মনে করেন।
২০২৪ সালে তিনি নিউইয়র্ক টাইমসে একটি নিবন্ধ লিখে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে শিরোনাম হয়েছিলেন।
তাদের রাজনৈতিক মতাদর্শের মধ্যে বিস্তর ফারাক থাকলেও, ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে তার সঙ্গে ক্লুনির ভালো সম্পর্ক ছিল।
গত বছর ভ্যারাইটি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্লুনি বলেছিলেন, 'আমি তাকে খুব ভালো করে চিনতাম। সে আমাকে অনেক ফোন করত। একবার সে আমাকে একজন মেরুদণ্ডের সার্জনের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য হাসপাতালেও সাহায্য করার চেষ্টা করেছিল। বিভিন্ন ক্লাব বা রেস্তোরাঁতেও তার সঙ্গে আমার দেখা হতো। সে আসলে একটা মস্ত বড় আহাম্মক। মানে, সে আগে এমনটাই ছিল। এখন তো সব বদলে গেছে।'
ট্রাম্প তার কড়া মেজাজের জন্য বেশ পরিচিত। হলিউড থেকে আসা যেকোনো সমালোচনার কড়া জবাব দিতেও তিনি ভোলেন না।
কারণ একসময় তিনি নিজেই ক্যামিও চরিত্র এবং রিয়েলিটি শোর মাধ্যমে হলিউডে ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন। গত কয়েক বছর ধরে ক্লুনির সমালোচনার কড়া জবাব দিয়ে আসছেন ট্রাম্প।
তিনি ক্লুনিকে 'দ্বিতীয় শ্রেণির চলচ্চিত্র তারকা', 'তৃতীয় শ্রেণির অভিনেতা', 'ভুয়া অভিনেতা' বলে আখ্যা দিয়েছেন। এমনকি তিনি বলেছেন যে, ক্লুনি 'কখনোই একটি ভালো সিনেমা বানানোর ধারেকাছেও যেতে পারেননি' এবং তিনি একজন 'বিশ্বাসঘাতক'।
গত জানুয়ারিতে ক্লুনি এবং তার পরিবারকে ফ্রান্সের নাগরিকত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তিনি ক্লুনি দম্পতিকে 'সর্বকালের সবচেয়ে বাজে রাজনৈতিক ভবিষ্যদ্বক্তাদের অন্যতম' বলে আখ্যা দেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও যোগ করেন, 'ক্লুনি তার হাতে গোনা কয়েকটি এবং একেবারেই সাধারণ মানের সিনেমার চেয়ে রাজনীতির কারণেই বেশি প্রচার পেয়েছেন। সে কোনোভাবেই একজন বড় মাপের চলচ্চিত্র তারকা ছিল না। সে ছিল নিতান্তই একজন সাধারণ মানুষ, যে সারাক্ষণ রাজনীতিতে সাধারণ জ্ঞানের অভাব নিয়ে অভিযোগ করে বেড়াত।'
এর জবাবে ৩ নভেম্বরের যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে ক্লুনি দ্য হলিউড রিপোর্টারকে বলেছিলেন, 'আমি বর্তমান প্রেসিডেন্টের সঙ্গে পুরোপুরি একমত। আমাদের আমেরিকাকে আবারও মহান করে তুলতে হবে। আর আগামী নভেম্বরেই আমরা সেই কাজ শুরু করব।'
