Skip to main content
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
The Business Standard বাংলা

Wednesday
March 25, 2026

Sign In
Subscribe
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
WEDNESDAY, MARCH 25, 2026
বোর্হেস থেকে জেনিফার অ্যানিস্টন: কেন কিছু স্মৃতি মনে থাকে আর কিছু হারিয়ে যায়?

আন্তর্জাতিক

এল পাইস
19 January, 2026, 09:35 pm
Last modified: 19 January, 2026, 09:51 pm

Related News

  • গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি রোধে নীতিমালা করছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন
  • ৪৭ সেকেন্ডেই হয়তো আপনি এই লেখা ছেড়ে যাবেন; মনোযোগ কি আরেকটু ধরে রাখা সম্ভব?
  • বার্ধক্যেও মস্তিষ্ককে তীক্ষ্ণ রাখতে নতুন উপায় খুঁজে পেলেন বিজ্ঞানীরা
  • দুর্নীতি, অতিমূল্যায়িত মেগাপ্রকল্প বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কায় ঋণঝুঁকি বাড়াচ্ছে: গবেষণা
  • শিশুদের দৈনন্দিন কাজ শেখানোর ক্ষেত্রে অভিভাবকেরা যে ভুল করে থাকেন

বোর্হেস থেকে জেনিফার অ্যানিস্টন: কেন কিছু স্মৃতি মনে থাকে আর কিছু হারিয়ে যায়?

কুইরোগা মানুষের মস্তিষ্কে এমন কিছু নিউরন খুঁজে পান যা বিমূর্ত ধারণায় সাড়া দেয়, কিন্তু খুঁটিনাটি উপেক্ষা করে। ‘ফ্রেন্ডস’ সিরিজের অভিনেত্রীর নামানুসারে তিনি এদের নাম দেন ‘জেনিফার অ্যানিস্টন নিউরন’। গবেষণায় তিনি দেখেন, মৃগী রোগীর সামনে অভিনেত্রীর ছবি বা নাম এলেই মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট একটি স্নায়ুবিক নেটওয়ার্ক জ্বলে উঠছে।
এল পাইস
19 January, 2026, 09:35 pm
Last modified: 19 January, 2026, 09:51 pm
কিছু এমআইআই রিপোর্ট। ছবি:সংগৃহীত

মনে রাখাটাই ছিল তার অভিশাপ। 'ফুনেস দ্য মেমোরিয়াস' গল্পে হোর্হে লুইস বোর্হেস এক উরুগুইয়ান ঘোড়সওয়ারের গল্প শুনিয়েছেন, যে এক দুর্ঘটনার পর সব কিছু মনে রাখার এক অদ্ভুত ক্ষমতা পেয়ে যায়। ফুনেস নিমেষেই নানা ভাষা শিখে ফেলত, গড়গড় করে আস্ত বই মুখস্থ বলে দিত। কিন্তু একটি দিনের স্মৃতিচারণ করতে তার পুরো একটা দিন লেগে যেত, কারণ প্রতিটি তুচ্ছ বিবরণ তার মাথায় জমে থাকত। বেচারা ভেবেছিল এটা বুঝি সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদ, কিন্তু গল্প যত এগোতে থাকে, ততই তা অভিশাপ হয়ে ধরা দেয়। কারণ, এত খুঁটিনাটি মনে থাকায় সে আর দরকারি আর ফালতু তথ্যের মধ্যে তফাত করতে পারত না।

স্মৃতি তৈরির জন্য ভুলে যাওয়াটাও সমান জরুরি। বোর্হেস যা সাহিত্যের মাধ্যমে বুঝিয়েছিলেন, স্নায়ুবিজ্ঞানী চরণ রঙ্গনাথ তার 'হোয়াই উই রিমেম্বার' (আমরা কেন মনে রাখি) বইয়ে তথ্যের মাধ্যমে ঠিক সেটাই ব্যাখ্যা করেছেন। এই পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, 'মস্তিষ্ককে এমনভাবেই প্রোগ্রাম করা হয়েছে যাতে সে ভুলে যায়। ভুলে যাওয়ার এত এত কারণ আছে যে, শেষমেশ আমরা যে কিছু মনে রাখতে পারি, সেটাই এক অলৌকিক ব্যাপার।' স্মৃতি নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় সাধারণত আমরা কীভাবে শিখি বা স্বল্পমেয়াদি স্মৃতি কীভাবে দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী হয়, সেদিকেই নজর দেওয়া হয়। কিন্তু আমাদের মস্তিষ্কের যে তথ্য ছেঁটে ফেলার বা ভুলে যাওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা আছে, সেদিকে খুব কমই মনোযোগ দেওয়া হয়।

অতীত ঘটনা আমরা কীভাবে মনে রাখি, তা নিয়ে গবেষণায় এমআরআই ব্যবহারে পথিকৃৎ রঙ্গনাথ। তিনি দেখেছেন, আমাদের মনে রাখার ধরনটা মোটেই স্থির নয়, বরং প্রতিনিয়ত বদলাচ্ছে। আমাদের বর্তমান অবস্থা কোনো না কোনোভাবে আমাদের অতীতকে দেখার ভঙ্গি বদলে দেয়। তিনি বলেন, 'প্রতিবার কোনো ঘটনা মনে করার সময় আমরা তা বর্তমানের দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েই দেখি। উদাহরণস্বরূপ, সাম্প্রতিক কোনো ব্রেকআপের স্মৃতি শুরুতে একরকম থাকে, কিন্তু বহু বছর পর তা মনে করলে অনুভূতিটা অন্যরকম হতে পারে। এমনকি কোনো ট্রমাজনিত বা ভয়াবহ ঘটনার স্মৃতিও পরে টিকে থাকার বা সাহসিকতার গল্প হিসেবে উপস্থাপিত হতে পারে।'

ভুলে যাওয়া এবং অভিজ্ঞতার বিকৃতি—বাস্তবতা স্মৃতিতে জমা হওয়ার আগে এই ছাঁকনিগুলোর মধ্য দিয়েই পার হয়। তাছাড়া, স্মৃতি কিন্তু বাস্তবতার হুবহু বা অপরিবর্তনীয় রেকর্ড নয়। স্মৃতি চঞ্চল এবং সর্বদা পরিবর্তনশীল; সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি নিজেকে আপডেট করে। রঙ্গনাথ বলেন, 'প্রতিবার যখন আপনি জটিল কোনো ঘটনা মনে করেন, তখন সেই মনে করার প্রক্রিয়াটিই স্মৃতিটাকে বদলে দিতে পারে। কিছু অংশ হয়তো শক্তিশালী হয়, কিছু অংশ দুর্বল হয়ে যায়, আবার নতুন কিছু ভুলও ঢুকে পড়তে পারে।' কোনো স্মৃতি মনে করা মানে মনের লাইব্রেরি থেকে আগে লেখা কোনো বই বের করা নয়; বরং এটি অনেকটা সেই বই নতুন করে লেখার মতো। স্মৃতি আসলে পুনর্গঠনমূলক। ডিএনএর ডাবল হেলিক্সের অন্যতম আবিষ্কারক নোবেল বিজয়ী ফ্রান্সিস ক্রিক প্রায়ই একটি ধাঁধার কথা বলতেন—যে অণুগুলো স্মৃতি ধরে রাখে সেগুলো মাত্র কয়েক ঘণ্টা, দিন বা বড়জোর কয়েক মাস বাঁচে, অথচ আমরা সারা জীবন স্মৃতি ধরে রাখি কীভাবে? স্মৃতির এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়া সেই ধাঁধার আংশিক উত্তর দেয়।

স্নায়ুবিজ্ঞানী রদ্রিগো কোয়ান কুইরোগা তার 'বোর্হেস অ্যান্ড মেমোরি' বইয়ে ফুনেসের গল্পের সঙ্গে স্মৃতির আধুনিক গবেষণার যোগসূত্র ঘটিয়েছেন। ফুনেস সব খুঁটিনাটি মনে রাখতে পারত, কিন্তু বিমূর্ত ধারণা বা 'কনসেপ্ট' বুঝতে পারত না। কুইরোগা মানুষের মস্তিষ্কে এমন কিছু নিউরন খুঁজে পান যা বিমূর্ত ধারণায় সাড়া দেয়, কিন্তু খুঁটিনাটি উপেক্ষা করে। 'ফ্রেন্ডস' সিরিজের অভিনেত্রীর নামানুসারে তিনি এদের নাম দেন 'জেনিফার অ্যানিস্টন নিউরন'। গবেষণায় তিনি দেখেন, মৃগী রোগীর সামনে অভিনেত্রীর ছবি বা নাম এলেই মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট একটি স্নায়ুবিক নেটওয়ার্ক জ্বলে উঠছে।

এই পরীক্ষা প্রমাণ করে যে, হিপোক্যাম্পাস (স্মৃতির জন্য মস্তিষ্কের মূল অংশ) এলাকায় এমন কিছু নিউরন আছে যা ধারণা এবং অনুষঙ্গে সাড়া দেয়। এগুলোই স্মৃতির কঙ্কাল বা ভিত্তি। এটি আমাদের হুবহু বাস্তবতা নকল করার বদলে কল্পনার ওপর ভর করে অভিজ্ঞতাগুলো নথিবদ্ধ করতে সাহায্য করে।

ঘোড়া থেকে পড়ে ফুনেসের দুর্ভাগ্য শুরু হয়েছিল। আর এইচ.এম.-এর দুর্ভাগ্য শুরু হয় সাইকেল থেকে পড়ে। সালটা ১৯৩৬, মস্তিষ্কে আঘাতের ফলে তার মারাত্মক মৃগী রোগ দেখা দেয়। চিকিৎসার জন্য ডাক্তাররা তার হিপোক্যাম্পাস ফেলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, কিন্তু অস্ত্রোপচারের ফলে তার গুরুতর 'অ্যান্টেরোগ্রেড অ্যামনেশিয়া' বা নতুন কিছু মনে রাখতে না পারার রোগ দেখা দেয়। এইচ.এম. আর দীর্ঘমেয়াদি স্মৃতি তৈরি করতে পারতেন না। সদ্য পরিচিত মানুষকেও তিনি চিনতেন না, নতুন কোনো দক্ষতা বা জ্ঞানও অর্জন করতে পারতেন না। তিনি যেন নয় বছরের সেই শিশুটিতেই আটকে ছিলেন এবং ৮২ বছর বয়সে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তেমনই ছিলেন। তিনি বাস করতেন ক্রমশ দূরে সরে যাওয়া এক অতীতে। নতুন কোনো তথ্য জমা রাখার জায়গা ছিল না বলে তিনি নতুন কিছুই শিখতেন না। এইচ.এম. স্নায়ুবিদ্যার ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি গবেষণাকৃত রোগী হয়ে ওঠেন। দশকের পর দশক তাকে নিয়ে গবেষণায় স্মৃতি গঠন ও শেখার ক্ষেত্রে হিপোক্যাম্পাসের গুরুত্ব জানা গেছে। ২০০৮ সালে মৃত্যুর পরই তার পুরো নাম প্রকাশ করা হয়—হেনরি মোলাইসন।

একটি মানব মস্তিষ্কের খুটিনাটি যেভাবে পরীক্ষা হয়। ছবি :সংগৃহীত

বাস্ক সেন্টার অন কগনিশন, ব্রেইন অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ-এর গবেষণা দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন কেপা পাজ-আলোনসো। মানুষ যখন কিছু মনে করে তখন মস্তিষ্ক কীভাবে কাজ করে, তা দেখতে তিনি বহু বছর ধরে এমআরআই (MRI) ব্যবহার করছেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন: 'যদি আপনি কোনো অভিজ্ঞতা বারবার মনে করেন, তবে তা মস্তিষ্কে দানা বাঁধে বা ক্রিস্টালাইজড হয়। যখন এমনটা ঘটে, তখন একটি নতুন সিন্যাপস তৈরি হয়। আর ওটাই হলো একটি স্মৃতির শুরু।' সিন্যাপস হলো নিউরনের মধ্যে যোগাযোগের প্রক্রিয়া; এটি এমন এক স্নায়ুবিক সংকেত যার মাধ্যমে নিউরোট্রান্সমিটার এক নিউরন থেকে আরেক নিউরনে তথ্য পৌঁছে দেয়।

এই বিশেষজ্ঞ দীর্ঘমেয়াদি স্মৃতিকে দুই ভাগে ভাগ করেন: এপিসোডিক (ব্যক্তিগত ঘটনার স্মৃতি) এবং সিম্যান্টিক (অর্থবোধক বা ধারণাগত স্মৃতি)। তিনি বলেন, সিম্যান্টিক স্মৃতি হলো 'জগত সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান'। এটি তথ্য ও ধারণার স্মৃতি। অন্যদিকে এপিসোডিক স্মৃতিতে থাকে আমাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা।

এই দুটির পার্থক্য বুঝতে হলে আমাদের আরেক অ্যামনেশিয়া বা স্মৃতিভ্রম রোগীর গল্প জানতে হবে। ১৯৮৫ সালে মনোবিজ্ঞানী এন্ডেল তুলভিং এন.এন. নামের এক অদ্ভুত রোগীর কথা লিখেছিলেন। লোকটি এলোমেলো সংখ্যার সারি মুখস্থ করতে পারতেন। অর্থাৎ তার সিম্যান্টিক স্মৃতি বা বিমূর্ত তথ্য মনে রাখার ক্ষমতা ছিল। সমস্যাটা ছিল তার এপিসোডিক স্মৃতিতে: তিনি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা মনে করতে পারতেন না। তুলভিং লিখেছিলেন: 'এন.এন.-এর নিজের অতীত সম্পর্কে জ্ঞান আর বাকি জগত সম্পর্কে জ্ঞানের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, দুটোই আবেগহীন।' তার স্মৃতি ছিল উইকিপিডিয়া পেজের মতো: শুধুই তথ্যের সমাহার। নিজের জন্মদিনের পার্টি, প্রেম বা ছুটির দিনের মতো কোনো ঘটনার বিবরণ তার মনে থাকত না। তার অতীত ছিল মূল্যবোধ বা আবেগবর্জিত এক তথ্যের ভাণ্ডার।

তুলভিংয়ের গবেষণার মূল বিষয় ছিল দুই ধরনের স্মৃতির এই বিচ্ছিন্নতা। কিন্তু এন.এন.-এর রোগের আরেকটি দিকও লক্ষণীয় ছিল: তিনি নিজের ভবিষ্যৎ কল্পনা করতে পারতেন না। তুলভিং তাকে জিজ্ঞেস করতেন, 'কাল কী করবেন?' তিনি 'জানি না' ছাড়া কিছু বলতে পারতেন না। এক বা দশ বছর পর নিজেকে কোথায় দেখেন—এমন প্রশ্নেও তিনি কোনো উত্তর দিতে পারতেন না। এটি থেকে ধারণা করা হয় (যা পরে নিউরোইমেজিংয়ে প্রমাণিত হয়েছে) যে মনে রাখা এবং ভবিষ্যৎ কল্পনা করা—দুটোই আসে একই জায়গা থেকে, আর তা হলো কল্পনাশক্তি। অথবা, যেমনটা সেন্ট অগাস্টিন তার আত্মজীবনীতে বলেছিলেন, 'অতীত এবং ভবিষ্যৎ কেবল আত্মাতেই বিরাজ করে।'

কিন্তু কেন আমরা কিছু ঘটনার প্রাণবন্ত স্মৃতি ধরে রাখি আর কিছু ভুলে যাই? মস্তিষ্কে সব স্মৃতি একইভাবে জমা হয় না। ৯/১১-এর সময় আপনি কোথায় ছিলেন? চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে, সঙ্গী যখন বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল, বা কোনো আত্মীয়ের মৃত্যুর খবর পাওয়ার সময় আপনি কী করছিলেন? বেশিরভাগ মানুষই এই প্রশ্নের উত্তর নিখুঁতভাবে দিতে পারবেন। পাজ-আলোনসো বলেন, 'আমাদের দৈনন্দিন জীবনে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো বিচ্ছিন্নভাবে ঘটে না। এগুলো প্রতিদিনের অভিজ্ঞতার স্রোতের অংশ।' তার দল ১০টি পরীক্ষার মাধ্যমে দেখিয়েছে যে, তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনাগুলো তার আশপাশের সাধারণ বা নিরপেক্ষ স্মৃতিকেও প্রভাবিত করে। এগুলো স্মৃতিকে মস্তিষ্কে গভীরভাবে গেঁথে দেয়। এভাবেই আমাদের মস্তিষ্ক আপাতদৃষ্টিতে তুচ্ছ বা প্রাসঙ্গিকহীন স্মৃতি দিয়ে ভরে ওঠে।

তবে এই পুরো প্রক্রিয়ায় আমরা কি শুধুই দর্শক? বিশেষজ্ঞ বলছেন, না। ইচ্ছাশক্তিরও কিছু ভূমিকা আছে। তিনি বলেন, 'আমরা হয়তো গ্যারান্টি দিতে পারি না যে স্মৃতি চিরকাল থাকবে, তবে আমরা পাল্লাটা ভারী করতে পারি। গভীর মনোযোগ দেওয়া, ঘটনার ব্যক্তিগত অর্থ খোঁজা, ঘটনার পরপরই তা নিয়ে কথা বলা বা ডায়েরিতে লিখে রাখা এবং পর্যাপ্ত ঘুম—এসবই স্মৃতি ধরে রাখতে সাহায্য করে।' আর এই লক্ষ্যে আমাদের অন্যতম করণীয় হলো মোবাইল ফোন দূরে রাখা। প্রযুক্তি আমাদের বর্তমান অভিজ্ঞতার বারোটা বাজাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আমরা তা কীভাবে মনে রাখব, সেটাও বদলে দিচ্ছে।

মোবাইল ফোন এবং সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে মানুষ অভিজ্ঞতা অর্জনের চেয়ে তা নথিবদ্ধ করতেই বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। এরা সেই সব মানুষ যারা গানের তালে না নেচে কনসার্ট ভিডিও করে, সূর্যাস্ত উপভোগ না করে ছবি তোলে, ছুটিতে গিয়ে ফোনের ক্যামেরার লেন্স দিয়ে সব দেখে। এভাবে তারা বাস্তবতা আর নিজেদের মাঝখানে একটা দেয়াল তুলে দেয়। প্রতিটি মুহূর্ত রেকর্ড করতে গিয়ে তারা অভিজ্ঞতার গভীরে ডুব দিতে পারে না, ফলে স্মৃতিটাও ঠিকমতো তৈরি হয় না। তারা হাজার হাজার ভিডিও আর ছবি জমায়, যেন একবিংশ শতাব্দীর ফুনেস—অতীতের হুবহু নকল তাদের কাছে আছে। কিন্তু ফুনেসের মতোই, তারা আসল নির্যাসটুকু নিতে এবং অপ্রয়োজনীয়টুকু বাদ দিতে অক্ষম।

রাইনহার্ট ভাবছেন, 'আমরা তথ্য মনে রাখার দায়িত্ব এখন ফোন বা ক্লাউডের ওপর ছেড়ে দিচ্ছি, ফলে মনে রাখার চাপ কমছে। কিন্তু একই সঙ্গে আমরা প্রতিনিয়ত পুরোনো ছবি বা মেসেজ দেখছি, যা স্মৃতিকে আবার জাগিয়ে তোলে এবং নতুন রূপ দেয়। আমরা কী বারবার দেখছি—তার ওপর ভিত্তি করেই হয়তো ঠিক হচ্ছে কোন স্মৃতিটা স্থায়ী হবে। আমার মনে হয় এটি একটি খুব জরুরি এবং কৌতুহলজাগানিয়া প্রশ্ন, যা নিয়ে বাস্তব জগতেই গবেষণা হওয়া উচিত।'

যখন এসব ঘটছে, তখন বিশেষজ্ঞরা স্মৃতির রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন—যা আমাদের মস্তিষ্কের অন্যতম সাধারণ অথচ অজানা এক প্রক্রিয়া। বিষয়টি বৈজ্ঞানিকের চেয়ে বেশি দার্শনিক হতে পারে, কিন্তু স্মৃতিই আসলে বলে দেয় আমরা কে। আমরা কে ছিলাম। আমরা কীভাবে নিজেকে বুঝি এবং বর্ণনা করি। রাইনহার্ট সারসংক্ষেপ করে বলেন, 'মস্তিষ্ক যে বিশেষ অভিজ্ঞতাগুলোকে ধরে রাখার এবং হাইলাইট করার জন্য বেছে নেয়, তা দিয়েই আমাদের পরিচয় বা আইডেন্টিটি গড়ে ওঠে। তাই যেসব স্মৃতি আমাদের মনে স্থায়ী হয়, সেগুলো বদলে গেলে আমাদের নিজেদের সম্পর্কে নিজেদের গল্পটাও বদলে যেতে পারে।'

Related Topics

টপ নিউজ

স্মৃতি / মস্তিষ্ক / গবেষণা

Comments

While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.

MOST VIEWED

  • ইরানের একটি পুলিশ স্টেশনের ধ্বংসস্তুপের ওপর দেশটির পতাকা। ফাইল ছবি: এপি
    মধ্যস্থতার প্রচেষ্টার মাঝেই কঠোর অবস্থান ইরানের, ট্রাম্পের জন্য একগুচ্ছ কঠিন শর্ত
  • ছবি: সংগৃহীত
    'যাকে হত্যা করতে চেয়েছিল তিনিই এখন প্রধানমন্ত্রী': মাসুদ চৌধুরীর রিমান্ড শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ
  • ফাইল ছবি: টিবিএস
    সরকারি চাকরির বয়স ৩২ করার অধ্যাদেশের সঙ্গে সংসদীয় বিশেষ কমিটি একমত
  • তারেক রহমান। ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
    বিদেশগামী শিক্ষার্থীদের ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা দিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ
  • ফাইল ছবি
    জেট ফুয়েলের দাম লিটারপ্রতি ৯০ টাকা বাড়ল, মধ্যরাত থেকে কার্যকর
  • ছবি: সংগৃহীত
    আদালত প্রাঙ্গণে মাসুদ চৌধুরীর গায়ে পচা পানি-ডিম নিক্ষেপ 

Related News

  • গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি রোধে নীতিমালা করছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন
  • ৪৭ সেকেন্ডেই হয়তো আপনি এই লেখা ছেড়ে যাবেন; মনোযোগ কি আরেকটু ধরে রাখা সম্ভব?
  • বার্ধক্যেও মস্তিষ্ককে তীক্ষ্ণ রাখতে নতুন উপায় খুঁজে পেলেন বিজ্ঞানীরা
  • দুর্নীতি, অতিমূল্যায়িত মেগাপ্রকল্প বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কায় ঋণঝুঁকি বাড়াচ্ছে: গবেষণা
  • শিশুদের দৈনন্দিন কাজ শেখানোর ক্ষেত্রে অভিভাবকেরা যে ভুল করে থাকেন

Most Read

1
ইরানের একটি পুলিশ স্টেশনের ধ্বংসস্তুপের ওপর দেশটির পতাকা। ফাইল ছবি: এপি
আন্তর্জাতিক

মধ্যস্থতার প্রচেষ্টার মাঝেই কঠোর অবস্থান ইরানের, ট্রাম্পের জন্য একগুচ্ছ কঠিন শর্ত

2
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ

'যাকে হত্যা করতে চেয়েছিল তিনিই এখন প্রধানমন্ত্রী': মাসুদ চৌধুরীর রিমান্ড শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ

3
ফাইল ছবি: টিবিএস
বাংলাদেশ

সরকারি চাকরির বয়স ৩২ করার অধ্যাদেশের সঙ্গে সংসদীয় বিশেষ কমিটি একমত

4
তারেক রহমান। ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
বাংলাদেশ

বিদেশগামী শিক্ষার্থীদের ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা দিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

5
ফাইল ছবি
বাংলাদেশ

জেট ফুয়েলের দাম লিটারপ্রতি ৯০ টাকা বাড়ল, মধ্যরাত থেকে কার্যকর

6
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ

আদালত প্রাঙ্গণে মাসুদ চৌধুরীর গায়ে পচা পানি-ডিম নিক্ষেপ 

EMAIL US
contact@tbsnews.net
FOLLOW US
WHATSAPP
+880 1847416158
The Business Standard
  • About Us
  • Contact us
  • Sitemap
  • Privacy Policy
  • Comment Policy
Copyright © 2026
The Business Standard All rights reserved
Technical Partner: RSI Lab

Contact Us

The Business Standard

Main Office -4/A, Eskaton Garden, Dhaka- 1000

Phone: +8801847 416158 - 59

Send Opinion articles to - oped.tbs@gmail.com

For advertisement- sales@tbsnews.net