ভারতে ৫৫ হাজার ডলার সমমূল্যের হীরা খুঁজে পেলেন দুই বাল্যবন্ধু
ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের পান্না জেলা। হীরার খনির জন্য বিখ্যাত এই জনপদে এক শীতের সকালে দুই বাল্যবন্ধু এমন এক রত্ন খুঁজে পেলেন, যা তাদের জীবন চিরতরে বদলে দিতে পারে। মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে ইজারা নেওয়া এক টুকরো জমিতে তারা ১৫.৩৪ ক্যারাটের একটি বিশাল হীরা আবিষ্কার করেছেন।
সৌভাগ্যবান ওই দুই বন্ধুর নাম সতিশ খাটিক এবং সাজিদ মোহাম্মদ। মাটি খুঁড়তে গিয়ে হঠাৎই তাদের চোখে পড়ে বড় ও চকচকে একটি পাথর। পাথরটি নিয়ে তারা শহরের সরকারি হীরা পরীক্ষকের কাছে গেলে জানা যায়, এটি সাধারণ কোনো পাথর নয়, বরং অত্যন্ত উন্নত মানের প্রাকৃতিক হীরা।
হীরা পরীক্ষক অনুপম সিং বিবিসি হিন্দিকে জানিয়েছেন, পাথরটির আনুমানিক বাজারমূল্য ৫০ থেকে ৬০ লাখ রুপি (৫৫ হাজার থেকে ৬৬ হাজার মার্কিন ডলার)। শীঘ্রই এটি সরকারি নিলামে তোলা হবে। ডলারের বিনিময় হার এবং আন্তর্জাতিক র্যাপাপোর্ট রিপোর্টের মানদণ্ড অনুযায়ী এর চূড়ান্ত দাম নির্ধারিত হবে বলে জানান তিনি।
হীরা পাওয়ার খবরে খুশি খাটিক ও মোহাম্মদ। তারা বলেন, 'এখন আমরা আমাদের বোনদের বিয়ে দিতে পারব।'
দরিদ্র পরিবারের সন্তান ২৪ বছর বয়সী সতিশ খাটিক পেশায় মাংস বিক্রেতা এবং ২৩ বছর বয়সী সাজিদ মোহাম্মদ ফল বিক্রি করেন। তারা দুজনেই পরিবারের কনিষ্ঠ সন্তান। পান্না জেলার অধিকাংশ বাসিন্দার মতো তাদের পরিবারও প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মাটি খুঁড়ে হীরা পাওয়ার চেষ্টা করে আসছে।
মধ্যপ্রদেশের পান্না জেলাটি ভারতের অন্যতম অনুন্নত এলাকা হিসেবে পরিচিত, যেখানে দারিদ্র্য, পানির সংকট ও বেকারত্ব নিত্যসঙ্গী। তবে ভারতের অধিকাংশ হীরার মজুদ রয়েছে এই জেলাতেই। বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় এখানে হীরার মজুদ কম হলেও ঐতিহাসিকভাবে এর গুরুত্ব অনেক।
এখানকার অধিকাংশ খনি কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও রাজ্য কর্তৃপক্ষ প্রতি বছর নামমাত্র মূল্যে স্থানীয়দের কাছে ছোট ছোট জমি ইজারা দেয়। ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে স্থানীয়রা হাড়ভাঙা পরিশ্রম করলেও অধিকাংশকেই ফিরতে হয় খালি হাতে।
সাজিদ মোহাম্মদ জানান, তার বাবা ও দাদা দশকের পর দশক ধরে মাটি খুঁড়েছেন, কিন্তু ধুলো আর কোয়ার্টজ পাথর ছাড়া কিছুই পাননি। ছেলের এই সাফল্যে বাবা নাফিস বলেন, 'অবশেষে সৃষ্টিকর্তা তাদের কঠোর পরিশ্রম আর ধৈর্যের প্রতিদান দিয়েছেন।'
সাজিদ মোহাম্মদ আরও জানান, অভাবের তাড়নাতেই তারা হীরার খোঁজে জমিটি ইজারা নিয়েছিলেন। তাদের সামান্য আয়ে সংসার চালানোই কঠিন, সেখানে বোনের বিয়ের খরচ জোগানো ছিল অসম্ভব।
হীরা খোঁজা মোটেও সহজ কাজ নয়। দিনের কাজ শেষে সন্ধ্যায় কিংবা ছুটির দিনে দুই বন্ধু কোদাল হাতে নেমে পড়তেন। অন্য স্থানীয়দের মতোই সনাতন পদ্ধতিতে গর্ত খোঁড়া, মাটি ও পাথর তোলা এবং চালনি দিয়ে ধুয়ে হাজার হাজার পাথরের মধ্য থেকে হীরা খুঁজে বের করার কঠিন কাজটি তারা হাতেই করেছেন।
পান্না জেলার খনি কর্মকর্তা রবি প্যাটেল বলেন, এই দুই বন্ধু অবিশ্বাস্য রকম ভাগ্যবান। তিনি বলেন, 'তারা গত ১৯ নভেম্বর জমিটি ইজারা নিয়েছিল। মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তারা এত উন্নত মানের হীরা পেয়ে গেছে। এটা তাদের ভাগ্য।'
নিলামের টাকা এখনো হাতে না পেলেও দুই বন্ধু বেশ আশাবাদী। তারা বলেন, 'আমরা এখনই জমি কেনা, ব্যবসা বাড়ানো বা বড় শহরে চলে যাওয়ার কথা ভাবছি না। আপাতত আমাদের একটাই লক্ষ্য, আমাদের বোনদের বিয়ে দেওয়া।'
