তেল সংকটের ধাক্কা ভোক্তাদের ওপর: ভারতে চতুর্থ দফায় বাড়ল জ্বালানির দাম
হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ হওয়ার কারণে তেল ও জ্বালানি সরবরাহে সৃষ্ট সংকটের ধারাবাহিকতায়—ভারতে এক মাসের মধ্যে চতুর্থবারের মতো খুচরা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। দেশটির শীর্ষ রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি বিপণন সংস্থাগুলো পাম্প পর্যায়ে এই মূল্যবৃদ্ধি কার্যকর করেছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের আজ সোমবারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি মাসের শুরু থেকে ভারতে এপর্যন্ত সম্মিলিতভাবে ডিজেলের দাম ৮ দশমিক ৬ শতাংশ এবং পেট্রলের দাম ৭ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।
এর আগে চলতি মে মাসের মাঝামাঝি প্রথম দফায় জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়েছিল। ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন, ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের মতো রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ও বিপণন কোম্পানিগুলো—গত চার বছরের মধ্যে সেবারই প্রথম খুচরা মূল্য ৩ শতাংশের বেশি বাড়িয়েছিল।
ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ভারতের আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের ৪০ শতাংশেরও বেশি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে, যা মূলত কৌশলগত হরমুজ প্রণালি দিয়ে আসত। এর ফলে এশিয়ার অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল এই অর্থনীতির দেশটিতে তেল আমদানি ব্যয় আকাশচুম্বী হয়েছে। এমনকি পুঁজিবাজার থেকে বিনিয়োগকারীরা মূলধন তুলে নিচ্ছেন, আর মার্কিন ডলারের বিপরীতে স্থানীয় মুদ্রা রুপির মান ইতিহাসে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে।
এর ফলে, বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক এই দেশটিতে গত এপ্রিল মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি লাফিয়ে ৮ দশমিক ৩ শতাংশে পৌঁছেছে, যা মার্চে ছিল মাত্র ৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ। বার্ষিক মূল্যস্ফীতির এই তীব্র গতি পাইকারি পর্যায়ে জ্বালানির দাম বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এপ্রিলে পাইকারি বাজারে পেট্রলের দাম ৩২ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ডিজেলের দাম ২৫ দশমিক ১৯ শতাংশ বাড়ে। অথচ মার্চে পেট্রলের মাসিক মূল্যবৃদ্ধির গতি ছিল ২ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ডিজেলের ক্ষেত্রে তা ছিল ৩ দশমিক ৬২ শতাংশ।
এমন পরিস্থিতিতে নয়াদিল্লির কেন্দ্রীয় সরকার জনগণকে জ্বালানি সাশ্রয়ের আহ্বান জানিয়েছে। এর অংশ হিসেবে বাসা থেকে কাজ (ওয়ার্ক ফ্রম হোম), কারপুলিং (একই গাড়িতে একাধিক ব্যক্তির যাতায়াত) এবং ব্যক্তিগত যানবাহনের বদলে গণপরিবহন ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার সাথে সাথে ভারতের আমদানি ব্যয়ও লাফিয়ে বাড়ছে, যা সরাসরি তেল শোধনাগার কোম্পানিগুলোর আর্থিক ভিত্তির ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। ফলে এই সাশ্রয়ী পদক্ষেপগুলো নেওয়া অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
চলতি মাসে আর্থিকখাতের শীর্ষস্থানীয় একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম 'দ্য ব্যাংকার'-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মার্চ মাসে ভারতের তেল ও জ্বালানি আমদানি ব্যয় ছিল ১২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার; যা এপ্রিলে ৫৩ শতাংশ বেড়ে ১৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকায়—চলতি মে মাসে তেল আমদানির এই ব্যয় আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
