ভারতে ‘অস্বাভাবিক জনবিন্যাস পরিবর্তন’ খতিয়ে দেখতে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন, লক্ষ্য অনুপ্রবেশ বন্ধ করা
গত বছর ভারতের স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, অনুপ্রবেশের কারণে সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোর জনবিন্যাস বদলে যাচ্ছে। সেই ঘোষণার ধারাবাহিকতায় এবার ভারতে 'অস্বাভাবিক জনবিন্যাস পরিবর্তন' খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।
এই কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নাওলেকরকে। সদস্য হিসেবে আছেন— ভারতের জনগণনা কমিশনার, সাবেক আইএএস কর্মকর্তা দুর্গাশঙ্কর মিশ্র, সাবেক আইপিএস কর্মকর্তা বালাজি শ্রীবাস্তব এবং অর্থনীতিবিদ শমিকা রবি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের 'ফরেনার্স-ওয়ান' বিভাগের যুগ্মসচিব কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, অনুপ্রবেশ এবং অন্যান্য কারণে জনসংখ্যার অস্বাভাবিক পরিবর্তন যে কোনো দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তার মতে, বিষয়টি শুধু সার্বভৌমত্বের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; জাতীয় নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা, সামাজিক কাঠামো এবং আদিবাসী সমাজের অস্তিত্বের সঙ্গেও এটি জড়িত।
তিনি বলেন, 'জনসংখ্যার পরিবর্তন শুধুমাত্র আমাদের সার্বভৌমত্বের সঙ্গেই যুক্ত নয়, এটি দেশের নিরাপত্তা, আইন-শৃঙ্খলা, সামাজিক কাঠামোর গভীর পরিবর্তন এবং আদিবাসী সমাজকে রক্ষা করার মতো গুরুতর বিষয়গুলির সঙ্গেও জড়িত।'
অমিত শাহ জানান, সারা দেশে জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের একটি বিস্তারিত মূল্যায়নের দায়িত্ব এই কমিটিকে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, 'অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং অন্যান্য অস্বাভাবিক কারণে যে পরিবর্তনগুলি ঘটছে, তা এই কমিটি খতিয়ে দেখবে। এছাড়া ধর্মীয় ও সামাজিক স্তরে জনসংখ্যার অস্বাভাবিক পরিবর্তনের ধরন বিশ্লেষণ করে একটি পরিকল্পিত ও সময়োপযোগী সমাধান খুঁজে বের করবে।'
তিনি আরও জানান, গত বছরের ১৫ আগস্ট লালকেল্লা থেকে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি 'হাই-লেভেল কমিটি অন ডেমোগ্রাফিক চেঞ্জ'-এর কথা ঘোষণা করেছিলেন। সেই ঘোষণার ভিত্তিতেই এবার আনুষ্ঠানিকভাবে কমিটি গঠন করা হলো।
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে বেআইনি অনুপ্রবেশের কারণে জনসংখ্যার ভারসাম্যে বড় প্রভাব পড়ছে। এ কারণেই সমস্যাটির দীর্ঘমেয়াদি ও সময়বদ্ধ সমাধান খুঁজতে চায় কেন্দ্র।
জানা গেছে, কমিটি দেশটির বিভিন্ন রাজ্যের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সুপারিশ জমা দেবে।
উল্লেখ্য, বিজেপি দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে, পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও আসামে বিরোধী দলগুলোর সরকার থাকাকালে রাজ্য সরকারের সহযোগিতা যথাযথভাবে না পাওয়ায় অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সমস্যা হচ্ছিল। বর্তমানে এই রাজ্যগুলোতে বিজেপির সরকার রয়েছে। ফলে পরিস্থিতি এখন তাদের অনুকূলে। সে কারণেই কেন্দ্র এখন জনবিন্যাস পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে চাইছে।
