জোহরান মামদানির সঙ্গে শীঘ্রই বৈঠকে বসবেন, ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প
ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তিনি শীঘ্রই নিউইয়র্ক সিটির নির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানির সঙ্গে দেখা করতে পারেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, 'মামদানি আমাদের সঙ্গে দেখা করতে চান', এবং 'আমরা কিছু একটা সমাধান করবো।' যদিও এর আগে দুজনই একে অপরের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোববার রাতে বলেন, ৩৪ বছর বয়সী এই ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট এবং সাবেক স্টেট অ্যাসেম্বলি মেম্বার ওয়াশিংটনে এসে দেখা করতে চান এবং 'আমরা কিছু একটা সমাধান করবো।'
তিনি আরও বলেন, 'আমরা চাই সবকিছু নিউইয়র্কের জন্য ভালোভাবে এগিয়ে যাক।'
সোমবার বিকেলে মামদানি নিশ্চিত করেন যে তার দল হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তিনি বলেন, প্রচারণার সময়ই আমরা নিউ ইয়র্কবাসীর প্রতি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি তা রক্ষা করতেই আমরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তিনি সেইসব ৮৫ লাখ মানুষকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যারা নিউ ইয়র্ককে নিজেদের বাড়ি মনে করে। তাদের ডাকে সাড়া দিতে তিনি যেকোনো ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করতে প্রস্তুত বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মামদানি। মানুষের উপকারে এবং অত্যাধিক ব্যয়ের কারণে যাদের শহর ছেড়ে যেতে হচ্ছে তিনি তাদের সহায়তা করবেন।
মামদানি আরও বলেন, "ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট এবং তার প্রশাসনের কর্মকাণ্ড আমরা দেখছি। এসব নিউইয়র্কবাসীর উপর উল্টো প্রভাব ফেলছে। আমি সেখানে গিয়ে প্রেসিডেন্টকে, এবং সত্যি বলতে যে কারো কাছে, বোঝাব যে এসব নীতির পরিবর্তন জরুরি। আমরা চাই নিউইয়র্কবাসী ও আমেরিকানদের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আরও সহজে কেনার সামর্থ্য থাকে।"
গত সপ্তাহে এনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মামদানি বলেন, তিনি দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তুতি হিসেবে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরিকল্পনা করছেন, "কারণ এই সম্পর্কটি শহরের সাফল্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।"
মামদানি বলেন, "আমি আমার কাজের ক্ষেত্রে সক্রিয়ভাবে উদ্যোগ নেব। আর আমার মনে হয় এটি জরুরি, কারণ ৮৫ লাখ মানুষের মেয়র হিসেবে আমার যে দায়িত্ব, তাতে যেকোনো ব্যক্তির সঙ্গে কাজ করতে উন্মুক্ত থাকা গুরুত্বপূর্ণ—আপনার যত মতপার্থক্য থাকুক না কেন।"
ট্রাম্পকে তিনি কী বলবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে মামদানি বলেন, তিনি বলবেন: "আমি এখানে এসেছি এই শহরকে নিজের বাড়ি মনে করা মানুষগুলোর কল্যাণে কাজ করতে, এবং যেখানে সেই লক্ষ্য পূরণে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ আছে, আমি প্রস্তুত। আর যদি তা নিউইয়র্কবাসীর ক্ষতির কারণ হয়, আমি তার বিরুদ্ধে লড়ব।"
ট্রাম্প ও মামদানির সম্ভাব্য সাক্ষাৎ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে কারণ নির্বাচনী প্রচারের সময় ট্রাম্প বারবার মামদানিকে আক্রমণ করেছিলেন। তিনি তাকে 'কমিউনিস্ট উন্মাদ' বলে আখ্যা দিয়েছিলেন, মামদানি জিতলে শহরটির ওপর থেকে ফেডারেল অর্থায়ন বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন, এমনকি উগান্ডায় জন্ম নেওয়া এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়া মামদানির নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন।
মামদানি এই হুমকির তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, এটি শুধু 'আমাদের গণতন্ত্রের ওপর আক্রমণ নয়, বরং প্রত্যেক নিউইয়র্কবাসীর উদ্দেশে একটি বার্তা: যদি আপনি মুখ খুলেন, তারা আপনার পেছনে লাগবে।'
ট্রাম্প মামদানির প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ড্রু কুমোকেও সমর্থন দিয়েছিলেন। নিউইয়র্কের সাবেক গভর্নর কুমো ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে মামদানির কাছে হেরে যাওয়ার পর মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়েছিলেন।
পুরো নির্বাচনী প্রচারের সময় মামদানি ট্রাম্প ও তার নীতিগুলোর, বিশেষ করে প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন দমন নীতির, তীব্র সমালোচনা করেন।
তবে মামদানি বারবার বলেছেন, তিনি নির্বাচিত হলে নিউইয়র্কবাসীর জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে সহায়তা করলে তিনি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।
তার বিজয় ভাষণে মামদানি বলেন, "ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে প্রতারিত একটি জাতিকে যদি কেউ দেখাতে পারে কীভাবে তাকে পরাজিত করতে হয়, তবে তা সেই শহরই পারে—যেখান থেকে তার উত্থান ঘটেছে।"
তিনি আরও বলেন, "যদি কোনো স্বৈরাচারীকে ভয় দেখানোর কোনো পথ থাকে, তবে তা হলো সেই পরিবেশ ব্যবস্থা ভেঙে ফেলা, যা তাকে ক্ষমতা অর্জনে সাহায্য করেছে।"
তিনি আরও বলেন, "এভাবেই আমরা শুধু ট্রাম্পকে থামাব না; এভাবেই আমরা পরের জনকেও থামাব।"
এরপর ট্রাম্পের উদ্দেশে মামদানি বলেন, "ডোনাল্ড ট্রাম্প, আমি জানি আপনি দেখছেন, আপনাকে শুধু চারটি কথা বলব: টার্ন দ্য ভলিউম আপ।"
ভাষণের পরের অংশে তিনি বলেন, "তাই আমাকে শোনো, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প—আমাদের কারও কাছে পৌঁছাতে চাইলে, আপনাকে আমাদের সবার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।"
মামদানি ১ জানুয়ারি নিউইয়র্ক সিটির ১১১তম মেয়র হিসেবে শপথ নেবেন।
