শুল্কবিরোধে বোয়িংয়ের বিমান যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত পাঠাচ্ছে চীন
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার বাণিজ্যিক উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে অর্ডার করা বিমান ফেরত পাঠিয়েছে চীন। এ তথ্য জানিয়েছেন বোয়িংয়ের প্রধান নির্বাহী কেলি ওর্টবার্গ। খবর বিবিসির।
তিনি জানান, বোয়িং ইতোমধ্যেই দুটি বিমান ফেরত পেয়েছে এবং তৃতীয়টি ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য উত্তেজনা বৃদ্ধির জেরেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে বেইজিং।
সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওর্টবার্গ জানান, চলতি বছরে চীনের জন্য বোয়িংয়ের তৈরি ৫০টি বিমান সরবরাহের কথা ছিল। কিন্তু ক্রেতারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তারা সেগুলোর ডেলিভারি নেবেন না।
যুক্তরাষ্ট্র চীনা পণ্যের ওপর ১৪৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করলে পাল্টা জবাবে চীনও মার্কিন পণ্যের ওপর ১২৫ শতাংশ কর বসায়। এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করেই বোয়িংয়ের বিমান ফেরত পাঠানো শুরু হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার ওভাল অফিসে এক বক্তব্যে বলেন, তিনি চীনের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক উন্নয়নে আশাবাদী। তার ভাষায়, 'শুল্কের হার অনেকটাই কমানো হবে, তবে তা শূন্যে নামবে না।'
তবে ওর্টবার্গ বলেন, 'চীন বাস্তবেই বিমান গ্রহণ বন্ধ করে দিয়েছে এই শুল্ক পরিস্থিতির কারণে।'
বোয়িং যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় রপ্তানিকারক কোম্পানি। তাদের বানিজ্যিক বিমানের প্রায় ৭০ শতাংশই দেশের বাইরে বিক্রি হয়।
তিনি জানান, চীন যেসব বিমান নিচ্ছে না, সেগুলোর ৪১টি ইতোমধ্যেই প্রস্তুত হয়ে গেছে এবং এখন সেগুলোর জন্য বিকল্প ক্রেতা খোঁজা হচ্ছে। অন্যান্য দেশ থেকে বিমানের চাহিদা থাকায় তা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তিনি।
এছাড়া, আরও নয়টি বিমান এখনও উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ঢোকেনি বলে জানান ওর্টবার্গ। তিনি বলেন, 'আমরা জানতে চাই এই গ্রাহকদের প্রকৃত ইচ্ছা কী। যদি প্রয়োজন হয়, আমরা সেগুলো অন্য ক্রেতাদের জন্য নির্ধারণ করব।'
তার বক্তব্য, 'যে ক্রেতা বিমান নেবে না, তাদের জন্য আমরা আর বিমান তৈরি করব না।'
ওইদিন পরে এক ইনভেস্টর কলে ওর্টবার্গ বলেন, 'প্রতিদিনই আমরা হোয়াইট হাউজের মন্ত্রিসভা সদস্য কিংবা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গেও সরাসরি যোগাযোগ রাখছি চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যযুদ্ধ নিয়ে।'
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, 'আমরা খুব শিগগিরই আলোচনা শুরু করতে পারব।'
এদিকে বুধবার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) এক সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি 'বৃহৎ চুক্তির' সম্ভাবনা রয়েছে।
চীনের সঙ্গে আসন্ন বৈঠক সম্পর্কে তিনি বলেন, 'চীন যদি সত্যিই তাদের অর্থনীতি রপ্তানিনির্ভরতা থেকে সরে আনতে আগ্রহী হয়, তাহলে এটি হবে একটি অসাধারণ সুযোগ।'
ওর্টবার্গ আরও জানান, বোয়িংয়ের সাপ্লাই চেইনের অন্যান্য অংশ যেমন জাপান ও ইতালিও এখন শুল্কের আওতায় পড়েছে, যেখানে ১০ শতাংশ হারে সাধারণ শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে।
বোয়িংয়ের চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার ব্রায়ান ওয়েস্ট বলেন, 'মুক্ত বাণিজ্য নীতিই আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।' তিনি জানান, সরবরাহ চেইনে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বোয়িং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিচ্ছে।
চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটি কম ক্ষতির খবর দিয়েছে। ২০২৪ সালে একাধিক সঙ্কট এবং ৩০ হাজার শ্রমিকের ধর্মঘটের কারণে উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে গিয়েছিল।
২০২৫ সালে ৭৩৭ ম্যাক্স জেট বিমানের উৎপাদন বাড়িয়ে প্রতি মাসে ৩৮টি করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বোয়িং।
