পোল্যান্ডে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ, দায় নিচ্ছে না মস্কো
ইউক্রেনের সীমান্তবর্তী দেশ পোল্যান্ডে ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরণের ঘটনায় দুই নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ নভেম্বর) রাতে ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ১৫ মাইল দূরের একটি পোলিশ গ্রামে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে হয়। দাবি করা হচ্ছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি রাশিয়ার তৈরি। খবর অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ার ছোড়া মিসাইল লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে ন্যাটোভুক্ত দেশটির সীমান্তবর্তী গ্রাম প্রজেওডো-তে এ বিস্ফোরণ ঘটায়। আর এরপরই 'হাই অ্যালার্টে' (উচ্চ সতর্কতা) চলে যায় পোলিশ বাহিনী।
পোল্যান্ডে বিস্ফোরণের ঘটনায় আমেরিকাসহ অন্যান্য ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে জানানো হয়েছে গণমাধ্যমে। তবে পোল্যান্ডে হামলা হলে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে পশ্চিমা মিত্ররা। এমন পরিস্থিতিতে ন্যটো প্রধান জেনস স্টোল্টেনবার্গ জানান বিস্ফোরণের বিষয়ে পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট অ্যান্দ্রেজ দুদার সঙ্গে কথা হয়েছে তার।
ন্যাটোপ্রধান বলেন, "নিহতদের প্রতি আমার সমবেদনা। পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং মিত্রদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে পরামর্শ করছে ন্যাটো। এখানে সব তথ্যের সত্যতা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।"
এদিকে, বর্তমানে জি২০ সম্মেলনে যোগ দিতে বালিতে থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন পোল্যান্ডে মিসাইল হামলা সম্পর্কে অবগত। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তিনি জি২০-র মঞ্চে উপস্থিত একাধিক বিশ্বনেতার সঙ্গে এ নিয়ে জরুরি বৈঠক করেছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনার তদন্তে নেমেছে পেন্টাগনও।
ঘটনার প্রসঙ্গে পেন্টাগন মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল প্যাট্রিক রাইডার বলেন, "ইউক্রেন সীমান্তের কাছে পোল্যান্ডের একটি গ্রামে দুটি রুশ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার যে অভিযোগ আনা হয়েছে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে, সে বিষয়ে আমরা অবগত। আমি আপনাদের বলতে পারি, এই সংবাদগুলোকে সমর্থন করার মতো এখনও কোনো তথ্য-প্রমাণ আমাদের কাছে নেই। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।'
বিস্ফোরণের ঘটনায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, "যেভাবে রুশ মিসাইল পোল্যান্ডে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, তা পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তুলবে। একটি ন্যাটোভুক্ত দেশে রুশ মিসাইল হামলা! এটি সম্মিলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর হামলা। এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।"
এদিকে পোল্যান্ডে রুশ মিসাইল বিস্ফোরণের দাবি খারিজ করে দিয়েছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রণালয়। রাশিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, "পোলিশ মিডিয়া রুশ মিসাইল বিস্ফোরণ সম্পর্কে যে দাবি করছে, তা উস্কানিমূলক।"
অন্যদিকে, এই ঘটনার পরই পোল্যান্ডের নিরাপত্তা কাউন্সিল বৈঠকে বসে। এরপরই দেশটির সেনা সদস্যদের হাই অ্যালার্টে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
