ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনায় হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিল যুক্তরাজ্য
যুক্তরাজ্যের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনায় হামলা চালানোর অনুমতি দিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। শুক্রবার (২০ মার্চ) এক ঘোষণায় জানানো হয়, হরমুজ প্রণালীতে চলাচলকারী জাহাজে হামলা চালানো ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করতে মার্কিন বাহিনী এখন থেকে ব্রিটিশ ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করতে পারবে।
ডাউনিং স্ট্রিটের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ব্রিটিশ মন্ত্রীরা শুক্রবার ইরান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালীতে তেহরানের তৈরি করা প্রতিবন্ধকতা নিয়ে বৈঠক করেছেন। বিবৃতিতে বলা হয়, "অঞ্চলের সামষ্টিক আত্মরক্ষার চুক্তির অংশ হিসেবে মার্কিন বাহিনীকে যুক্তরাজ্যের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর আওতায় হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে হামলা চালাতে ব্যবহৃত ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্র ও সামরিক সক্ষমতা কমিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রতিরক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।"
যুক্তরাজ্যের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে তিনি বলেন, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার "ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের জন্য ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে নিজ দেশের মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলছেন।" তিনি আরও যোগ করেন, "ইরানও তার নিজের আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করবে।"
উল্লেখ্য, চলতি সপ্তাহের শুরুতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছিলেন, ব্রিটেন ইরানের এই যুদ্ধে জড়াবে না। যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের আইনি বৈধতা নিয়ে নিশ্চিত হতে চেয়ে তিনি শুরুতে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের মার্কিন অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তবে মধ্যপ্রাচ্যে ব্রিটেনের মিত্র দেশগুলোর ওপর ইরান হামলা চালানোর পর প্রধানমন্ত্রী তার অবস্থান পরিবর্তন করেন। তিনি জানিয়েছেন, মার্কিন বাহিনী এখন থেকে ব্রিটেনের 'আরএএফ ফেয়ারফোর্ড' এবং ভারত মহাসাগরে অবস্থিত যৌথ ব্রিটিশ-মার্কিন ঘাঁটি 'ডিয়েগো গার্সিয়া' ব্যবহার করতে পারবে।
সংঘাত শুরুর পর থেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর ওপর বারবার ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিলেন। ট্রাম্পের অভিযোগ ছিল, স্টারমার তাকে যথেষ্ট সাহায্য করছেন না। গত সোমবার ট্রাম্প বলেন, "কিছু দেশ আমাকে চরম হতাশ করেছে।" এ সময় তিনি ব্রিটেনের নাম উল্লেখ করে বলেন, এক সময় তাদের "মিত্রদের মধ্যে রোলস রয়েস" (সেরাদের সেরা) মনে করা হতো।
এদিকে, ডাউনিং স্ট্রিটের বিবৃতিতে অবিলম্বে উত্তেজনা প্রশমন এবং যুদ্ধের দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে খোদ যুক্তরাজ্যেই এই যুদ্ধ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সংশয় রয়েছে। ইউগভ-এর এক সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ৫৯ শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই হামলার বিরোধিতা করছেন।
