বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র কাতারের রাস লাফানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র কাতারের রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় 'ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি' হয়েছে বলে জানিয়েছে কাতার।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে রাস লাফান শিল্প নগরে ইরানের সরাসরি হামলার কঠোর সমালোচনা করেছে। তারা জানিয়েছে, এই হামলায় লাগা আগুনে স্থাপনাটির বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।
বিশ্বের বৃহত্তম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে এক বিবৃতিতে বলেছে, এদিকে কাতারএনার্জি জানিয়েছে, দেশটির রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় ব্যাপক অগ্নিকাণ্ড ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই ওই স্থাপনা খালি করা হয়েছিল। কারণ ইরান আগেই ঘোষণা দিয়েছিল, তাদের গ্যাসক্ষেত্র লক্ষ্য করে চালানো হামলার জবাবে উপসাগরীয় কো-অপরেশন কাউন্সিল (জিসিসি) অঞ্চলের এই স্থাপনাসহ আরও চারটি স্থাপনায় হামলা চালানো হবে।
জ্বালানি স্থাপনায় ইরানের এই হামলাকে বড় ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ কাতারের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত এই স্থাপনাটি বিশ্বের বৃহত্তম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন কেন্দ্র। বিশ্বের মোট এলএনজি উৎপাদনের প্রায় ২০ শতাংশই কাতার উৎপাদন করে। দেশের অর্থনীতির বড় অংশ এই খাতের ওপর নির্ভরশীল।
এদিকে গতকালের হামলার পর আজ বৃহস্পতিবার ভোরে আবারও কাতারের রাস লাফান শিল্পাঞ্চলে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। বিষয়টি নিশ্চিত করে কাতারএনার্জি জানিয়েছে, সর্বশেষ ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে তাদের একাধিক তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) স্থাপনায় 'বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড' ছড়িয়ে পড়েছে।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত রাস লাফানের আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে কাতার। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা রাস লাফান শিল্প এলাকার সব আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছেন। এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে ওই এলাকাগুলোতে শীতলীকরণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজ চলছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনী সেখানে থাকা যেকোনো 'বিপজ্জনক' পদার্থের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। বিবৃতিতে আরও নিশ্চিত করা হয়েছে, পুরো অভিযানে কেউ আহত হয়নি।
