ডিসির নতুন সুপারহিরো মুভি জন ওয়েনের অস্কারজয়ী সিনেমার রিমেক, ২০২৬-এ আসছে ‘সুপারগার্ল’
২০২৬ সালে ডিসি ইউনিভার্সের পরবর্তী বড় ধামাকা হিসেবে রূপালি পর্দায় আসতে যাচ্ছে 'সুপারগার্ল'। টম কিং এবং বিলকুইস এভেলির বিখ্যাত কমিক বুক সিরিজ 'সুপারগার্ল: ওম্যান অব টুমরো' অবলম্বনে নির্মিত হচ্ছে সিনেমাটি। সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত 'সুপারম্যান' সিনেমায় সুপারগার্লের সংক্ষিপ্ত উপস্থিতি দেখে যারা তার ব্যক্তিত্ব ও সুপারপাওয়ার নিয়ে কিছুটা দ্বিধায় ছিলেন, তার সব উত্তর হয়ত খুঁজে পাবেন এই সোলো মুভিতে। সুপারগার্ল এবং সুপারম্যানের ব্যক্তিত্বের মধ্যে কেন এত বড় পার্থক্য—তার একটি যৌক্তিক ব্যাখ্যা পাওয়া যাবে এই সিনেমায়।
'সুপারগার্ল'-এর প্রথম ট্রেলারটি দর্শকদের মধ্যে বেশ কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। এর কিছু দৃশ্য যেমন সায়েন্স ফিকশন বা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর মতো, তেমনি অনেক দৃশ্যে ফুটে উঠেছে 'ওয়েস্টার্ন' বা পশ্চিমা ঘরানার চলচ্চিত্রের আবহ। এর কারণ হলো, সুপারগার্লের এই গল্পটি মূলত কিংবদন্তি অভিনেতা জন ওয়েনের কালজয়ী সিনেমা 'ট্রু গ্রিট'-এর ছায়া অবলম্বনে তৈরি।
'সুপারগার্ল: ওম্যান অব টুমরো'-তে কারা জোর-এলকে দেখানো হয়েছে একজন হতাশ ও জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণ এক সুপারহিরো হিসেবে। অতীত আর বর্তমানের লড়াইয়ে তিনি কিছুটা ক্লান্ত। ঠিক এই সময়েই তার সঙ্গে দেখা হয় রুথি মারিয়ে নল নামের এক ভিনগ্রহী কিশোরীর। 'ক্রেম অব দ্য ইয়েলো হিলস' নামের এক ব্যক্তি রুথিয়ের বাবাকে হত্যা করেছে। রুথি এখন সেই খুনিকে খুঁজে বের করে প্রতিশোধ নিতে চায়।
রুথি তখন সুপারগার্লকে ভাড়া করে সেই খুনিকে খুঁজে বের করার জন্য। এই পুরো বিষয়টি 'ট্রু গ্রিট' সিনেমার কথা মনে করিয়ে দেয়। সেখানে ম্যাটি নামের এক কিশোরী রুস্টার কগবার্ন (জন ওয়েন অভিনীত) নামের একজন একচোখা, বয়স্ক এবং মদ্যপ ইউএস মার্শালের সাহায্য চেয়েছিল তার বাবার খুনিকে খুঁজে বের করতে।
লেখক টম কিং এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তিনি যখন এই কমিক সিরিজের গল্পটি উপস্থাপন করেন, তখন সুপারগার্লকে কিশোরী ম্যাটির চরিত্রে এবং 'লোবো'কে রুস্টার কগবার্নের চরিত্রে ভেবেছিলেন। কিন্তু এডিটরের পরামর্শে তিনি গল্পে পরিবর্তন আনেন। ফলে সুপারগার্ল নিজেই হয়ে ওঠেন অভিজ্ঞ ও রুক্ষ 'রুস্টার কগবার্ন'-এর মতো এক চরিত্র, আর রুথি হয়ে ওঠে ম্যাটির ছায়া। এখানে ভিলেন 'ক্রেম' মূলত ট্রু গ্রিট-এর 'টম চ্যানি' চরিত্রের একটি সংস্করণ।
সুপারম্যান এবং সুপারগার্লের বেড়ে ওঠার গল্প সম্পূর্ণ ভিন্ন। সুপারম্যান যখন ক্রিপ্টন থেকে পৃথিবীতে আসেন, তখন তিনি ছিলেন নেহাতই এক শিশু। কিন্তু কারা জোর-এল তার শহরটি ধ্বংস হওয়া পর্যন্ত সেখানেই বড় হয়েছেন। তিনি নিজের চোখের সামনে তাঁর প্রিয়জনদের তেজস্ক্রিয় বিষক্রিয়ায় ধুঁকে ধুঁকে মরতে দেখেছেন। তার হৃদয়ে যে অন্ধকার এবং ঘৃণা কাজ করে, সুপারম্যান তা কখনোই দেখেননি। ফলে সুপারগার্ল এই পৃথিবী বা মহাবিশ্বের নিষ্ঠুরতাকে খুব কাছ থেকে চেনেন, ঠিক যেমনটা রুস্টার কগবার্ন চিনতেন।
গার্ডিয়ানস অব দ্য গ্যালাক্সি নাকি ফায়ারফ্লাই?
ট্রেলার দেখে অনেকে একে 'গার্ডিয়ানস অব দ্য গ্যালাক্সি'র সাথে তুলনা করেছেন, যা মোটেও সঠিক নয়। বরং বাস স্টপেজের দৃশ্য বা মদের দোকানের দৃশ্যগুলো ইঙ্গিত দেয় যে এটি মহাকাশের পটভূমিতে নির্মিত একটি 'স্পেস-ওয়েস্টার্ন' সিনেমা। এর মেজাজ এমসিইউ-এর মহাকাব্যিক স্পেস মুভির চেয়ে বিখ্যাত সিরিজ 'ফায়ারফ্লাই'-এর বেশি কাছাকাছি। এমনকি সুপারগার্লের ক্ষোভ এবং ভেঙে পড়া অবস্থা জন ওয়েনের সেই ক্লাসিক চরিত্রের কথাই মনে করিয়ে দেয়।
টম কিং তার গল্পের অনুপ্রেরণা হিসেবে 'ট্রু গ্রিট'-এর চেয়ে ভালো কোনো ওয়েস্টার্ন মুভি বেছে নিতে পারতেন না। দীর্ঘ ৪০ বছরের অভিনয় জীবনে জন ওয়েন তার একমাত্র অস্কারটি পেয়েছিলেন এই সিনেমার জন্যই। এমনকি ২০১০ সালে কোয়েন ব্রাদার্স যখন এর রিমেক করেন, সেটিও ১০টি অস্কার মনোনয়ন পেয়েছিল।
সুপারহিরো ঘরানার এই নতুন রূপান্তরে যদি 'সুপারগার্ল' সেই ক্লাসিক সিনেমাগুলোর উচ্চতা স্পর্শ করতে পারে, তবে ২০২৬ সালে ডিসি ভক্তদের জন্য এক অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা অপেক্ষা করছে।
