বাংলাদেশে মাত্র ৫০% জন্ম, ৪৭% মৃত্যু নিবন্ধিত হচ্ছে: গবেষণা
বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৫০ শতাংশ জন্ম এবং ৪৭ শতাংশ মৃত্যু নিবন্ধিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা। এ পরিস্থিতিতে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪ সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
তারা বলেন, বিদ্যমান আইনের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা সঠিক ও সর্বজনীন নিবন্ধন নিশ্চিত করার প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে। একই সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে সর্বজনীন নিবন্ধন নিশ্চিত করার সরকারি লক্ষ্য অর্জনেও এসব সীমাবদ্ধতা বাধা সৃষ্টি করছে।
জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস ২০২৬-এর আগে এ আহ্বান জানানো হয়েছে। আগামীকাল (৬ অক্টোবর) 'নির্ভুল নিবন্ধন, নিশ্চিত হবে সুশাসন' প্রতিপাদ্যে দিবসটি পালিত হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, সঠিকভাবে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন নাগরিক অধিকার সুরক্ষা এবং কার্যকর উন্নয়ন পরিকল্পনা, জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, ন্যায্য বাজেট বরাদ্দ ও সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রজ্ঞার মতে, নিবন্ধনের হার কম হওয়ায় দেশের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ মৌলিক অধিকার ও বিভিন্ন সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন।
সংগঠনটি আরও সতর্ক করেছে, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনে বিলম্ব বা ভুল তথ্য থাকলে শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ, মানব পাচার ও অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
নিবন্ধনবিহীন মৃত্যুও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উত্তরাধিকার ও সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে।
প্রজ্ঞা জানায়, গ্রামীণ, উপকূলীয় চর, পার্বত্য এলাকা ও শহরের বস্তি সম্প্রদায়ের মধ্যে নিবন্ধনের হার বিশেষভাবে কম।
এই পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪ সংশোধন এবং জন্ম নিবন্ধনের দায়িত্ব সরাসরি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।
বাংলাদেশে প্রায় ৬৭% শিশু স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে জন্ম নেয়। ফলে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে জন্ম নিবন্ধনের দায়িত্ব দেওয়া হলে বিপুলসংখ্যক জন্ম স্বয়ংক্রিয়ভাবে এবং আরও নির্ভুলভাবে নিবন্ধন করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রস্তাবিত এ সংস্কার তথ্যের বিকৃতি ও জাল নিবন্ধন কমানোর পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। একই সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে জন্ম নিবন্ধনসহ সবার জন্য আইনগত পরিচয় নিশ্চিত করার টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) ১৬.৯ অর্জনে বাংলাদেশের অগ্রগতিও ত্বরান্বিত হতে পারে।
জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস ২০২৬ সামনে রেখে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের বলেন, সঠিক ও সর্বজনীন নাগরিক তথ্য সুশাসনের পূর্বশর্ত।
তিনি বলেন, 'সুশাসন নিশ্চিত করার প্রাথমিক পূর্বশর্ত হলো সব নাগরিকের সঠিক ও সর্বজনীন তথ্য সংরক্ষণ করা।'
জুবায়ের আরও বলেন, 'স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর বাধ্যতামূলক নিবন্ধনের দায়িত্ব দিয়ে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪ সংস্কার করা হলে ২০৩০ সালের মধ্যে সর্বজনীন নিবন্ধন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশের অগ্রগতি আরও ত্বরান্বিত হবে।'
