কুতুবদিয়ায় কয়লাবাহী লাইটার জাহাজে বাল্ক ক্যারিয়ারের ধাক্কা, দুমড়েমুচড়ে গেছে সামনের অংশ
বঙ্গোপসাগরের কুতুবদিয়া উপকূলে কয়লাবাহী একটি লাইটার জাহাজের সঙ্গে একটি বাল্ক ক্যারিয়ারের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে ঘটা এই দুর্ঘটনায় ছোট আকারের লাইটার জাহাজটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
ভেসেল অপারেটর ও লাইটার জাহাজ সানি-৫-এর মালিকের দেওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে কুতুবদিয়া আলফা অ্যাঙ্কোরেজের দিকে যাওয়ার সময় বাল্ক ক্যারিয়ার এমভি এইচজি সিডনির সঙ্গে এমভি সানি-৫ এর সংঘর্ষ হয়।
এর আগে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ভেসেল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের (ভিটিএমআইএস) দেওয়া তথ্যে বলা হয়েছিল, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নোঙর করার জন্য যাওয়ার সময় এমভি এপিজে শিরিন এবং এমভি এইচজি সিডনি—এই দুটি বাল্ক ক্যারিয়ারের মধ্যে সামান্য সংঘর্ষ হয়।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (সিপিএ) সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, দুটি জাহাজই ভিটিএমআইএস-এ দুর্ঘটনার কথা জানায় এবং পরবর্তীতে নিজেদের অবস্থান স্থিতিশীল করে। প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে এইচজি সিডনির পোর্ট সাইড হালের ক্ষতির মূল্যায়ন চলছে এবং সংশ্লিষ্ট শিপিং এজেন্টদের বিষয়টি জানানো হয়েছে।
তবে এমভি সানি-৫-এর মালিকানা প্রতিষ্ঠান হোসেন এন্টারপ্রাইজের দেওয়া একটি চিঠিতে ঘটনার ভিন্ন বিবরণ দেওয়া হয়েছে। মালিক মো. জামাল হোসেন অভিযোগ করেন, এইচজি সিডনি সানি-৫ এর সামনের অংশে বেশ জোরে ধাক্কা দেয়। এতে লাইটার জাহাজটির নিচের অংশ থেকে ওপরের ডেক পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
মালিকের দাবি, লাইটার জাহাজটি সম্প্রতি ডকিং করা হয়েছিল এবং পণ্য বোঝাইয়ের পর এটিই ছিল এর প্রথম ট্রিপ। তখনই এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
জাহাজের সঙ্গে বাল্ক ক্যারিয়ারের সংঘর্ষের সময়ের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এইচজি সিডনি'র প্রচণ্ড ধাক্কায় লাইটার জাহাজটির সামনের উপরিভাগ পুরোপুরি দুমড়েমুচড়ে যায়। তবে আঘাতের পরপরই লাইটারটি দ্রুত সরে যাওয়ায় দুই বিশাল জাহাজের মাঝে পিষ্ট হওয়ার হাত থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পায় এটি।
ঘটনার সময় মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন কয়েকজন শ্রমিক, যেখানে তাদের কণ্ঠে আতঙ্ক শোনা যায়। 'এইচজি সিডনি'কে লাইটার জাহাজের দিকে ধেয়ে আসতে দেখে এক শ্রমিককে আর্তনাদ করে বলতে শোনা যায়, 'লাইটার শেষ, আল্লাহরে!'
ভিটিএমআইএস-এর প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার পর দুটি জাহাজই নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে। কোনো প্রাণহানি বা সামুদ্রিক দূষণের খবর পাওয়া যায়নি।
চলমান ক্ষতির মূল্যায়ন ও যৌথ জরিপের মাধ্যমেই সম্ভবত ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এবং এই সংঘর্ষের জন্য কে দায়ী, তা নির্ধারণ করা হবে।
যোগাযোগ করা হলে চট্টগ্রাম বন্দরের হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন জহিরুল ইসলাম টিবিএসকে বলেন, 'ভিটিএমআইএস প্রতিবেদন অনুযায়ী, কুতুবদিয়া অ্যাঙ্কোরেজে দুটি মাদার ভেসেলের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষে কোনো লাইটার জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য আমাদের কাছে নেই।'
