আদাবরে বাড়ি দখলের চেষ্টা, হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় আরো ৪ জন গ্রেপ্তার, অভিযানে গুলিবিদ্ধ ২
রাজধানীর আদাবরে শ্যামলী হাউজিং এলাকায় একটি বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করে দখলের চেষ্টার ঘটনায় আরো চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে দুইজন অভিযানের সময় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত আড়াইটার দিকে নবোদয় হাউজিং কাঁচাবাজারসংলগ্ন মেলার মাঠের পেছনে ফাঁকা জায়গায় খালপাড়ে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে আদাবর থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- রাজিব হাওলাদার (৩০), সাগর ওরফে ছোট বিগার (২৪), শাকিব (২৩) ও রাশেদ (২৪)। তাদের মধ্যে রাজিব ও সাগরের পায়ে গুলি লাগে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির মোহাম্মদপুর জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. জুয়েল রানা।
তিনি বলেন, 'শ্যামলী হাউজিং এলাকায় বাড়িতে হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে রাতে ওই খালপাড়ে অভিযান চালানো হয়৷ অভিযানের একপর্যায় ঘটনাস্থলে ৭-৮ জন দুষ্কৃতিকারীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করলে তারা চাপাতি দিয়ে পুলিশের ওপর আক্রমণ করে। তখন আত্মরক্ষার্থে পুলিশ ছুড়লে দুইজন দুষ্কৃতিকারী গুলিবিদ্ধ হয়। পরে তাদেরসহ মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।'
জুয়েল রানা আরো জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে স্টিলের ধারালো চাপাতি, সামুরাই ও কিরিচ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া আহত দুইজনকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তারকৃত সাগরের নামে আদাবর ও মোহাম্মদপুর থানায় মোট ৮টি মামলা রয়েছে। এছাড়া রাজিব আলোচিত মোহাম্মদপুরের বাবু হত্যা মামলার এজাহারনামী ১ নং আসামী। অন্য দুজনের নামে পাঁচটি করে মামলা রয়েছে।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর ভোর সাড়ে ৬টার দিকে খুরশিদ আলম খানের নেতৃত্বে হাবিবুল্লাহ ওরফে রাসেল, কালামসহ অজ্ঞাতনামা ১৫-২০ জন মুখোশধারী ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে শ্যামলী হাউজিং লিমিটেডের ৬ নম্বর রোডের ৪১ ও ৪২ নম্বর প্লটের ওপর নির্মিত একটি ভবনে হামলা চালায়। এ সময় তারা ভবনে জোরপূর্বক প্রবেশের চেষ্টা করে এবং প্রধান ফটকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে দরজা-জানালা ভাঙচুর করে ক্ষতিসাধন করে। এ ঘটনায় আদাবর থানায় একটি মামলা করে ভুক্তভোগী।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৯ জনকে পুলিশ ও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি।
