ভারতে হিন্দুত্ববাদী মবের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো সেই মোহাম্মদ দীপককে গ্রেপ্তার করল পুলিশ
ভারতের উত্তরাখণ্ড পুলিশ কোটদ্বারের বাসিন্দা মোহাম্মদ দীপককে গ্রেপ্তার করেছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যবসায়ী সঞ্জীব টঙ্কের অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
৪২ বছর বয়সী দীপক ২০২৬ সালের প্রজাতন্ত্র দিবসে এক বয়স্ক মুসলিম দোকানদারকে তার দোকানের নামের মধ্যে 'বাবা' শব্দ থাকায় হয়রানি করা হিন্দুত্ববাদী কর্মীদের মুখোমুখি হয়েছিলেন।
বৃহস্পতিবারের এই গ্রেপ্তারের পেছনে উজ্জয়নে শাহি মসজিদকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্ক নিয়ে ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে দীপক ও টঙ্কের মধ্যে তৈরি হওয়া বিরোধের ভূমিকা রয়েছে বলে মনে হচ্ছে। দীপকের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ এবং 'হিন্দু সমাজ' সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগও এই বিরোধের সঙ্গে যুক্ত বলে বলা হচ্ছে।
একটি সংবাদমাধ্যমের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আরেকটি ভিডিওতে দীপক ও স্থানীয় ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত আরেক ব্যক্তির মধ্যে তর্কের দৃশ্য দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। ভিডিওর শুরুতে দেখা যায়, দীপক ঘটনাস্থলে আরও তিনজনের সঙ্গে কথা বলছেন। পরে ওই দুই ব্যক্তির মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়। এরপর তারা ক্যামেরার দৃষ্টিসীমা থেকে দূরে চলে যান।
এরপর বিপুলসংখ্যক স্থানীয় ব্যবসায়ী কোটওয়ালি থানার বাইরে জড়ো হন এবং দীপকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর স্থিরচিত্রে দাবি করা হয়েছে, ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর কোটদ্বারে স্কুটারে থাকা মোহাম্মদ দীপক সাদা কুর্তা-পায়জামা পরা সঞ্জীব টঙ্কের সঙ্গে তর্ক করছেন।
ঘটনার পর দীপককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং কোটদ্বারে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
আগস্টে উত্তরাখণ্ডে দীপকের বিরুদ্ধে দায়ের করা আগের একটি 'দাঙ্গা' মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেছিলেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। মুসলিম দোকানদারের পক্ষে দাঁড়িয়ে 'বাবা' শব্দটি নিয়ে হিন্দুত্ববাদী কর্মীদের সঙ্গে কথাকাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়ার পর তার বিরুদ্ধে ওই মামলা করা হয়েছিল।
হিন্দুত্ববাদী কর্মীরা দাবি করেছিলেন, কোনো মুসলিম 'বাবা' শব্দটি ব্যবহার করতে পারেন না। দীপকের কাছে তার নাম জানতে চাওয়া হলে তিনি সেখানে উপস্থিত লোকজনকে বলেছিলেন, "মোহাম্মদ দীপক।"
এরপর আরও বড় একটি জনতা সেখানে এসে মুসলিম দোকানদারের পক্ষে দাঁড়ানোর কারণে দীপককে আক্রমণ করতে উদ্যত হয়।
দীপক তার অভিযোগে আমান সোয়েদিয়া, সিদ্ধান্ত বাদোনি, ভূপি চৌধুরীসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেছিলেন। তবে রাজ্য পুলিশ শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার অভিযোগে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করে।
অভিযোগ রয়েছে, ৩ জানুয়ারিও আরেকটি জনতা তার ব্যায়ামাগারের বাইরে জড়ো হয়েছিল।
এরপর উত্তরাখণ্ড হাইকোর্টের ২০ মার্চের সেই আদেশও সুপ্রিম কোর্ট স্থগিত করেন, যে আদেশে ওই ঘটনা ও মামলা নিয়ে দীপককে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা থেকে বিরত রাখা হয়েছিল।
উত্তরাখণ্ড হাইকোর্ট দীপককে পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়ার আবেদন, যারা তাকে হুমকি দিয়েছিল তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার আবেদন এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের আবেদন—সবগুলোই খারিজ করে দিয়েছিল।
হাইকোর্ট দীপকের বিরুদ্ধে বিষয়টিকে "চাঞ্চল্যকর করে তোলার" চেষ্টা করার অভিযোগও এনেছিল।
