নারায়ণগঞ্জের বন্দরে চারদিনেও খোঁজ মেলেনি লোকালয়ে আসা কুমিরের, বাড়ছে আতঙ্ক
চারদিন পেরিয়ে গেলেও নারায়ণগঞ্জের বন্দরে লোকালয়ে চলে আসা কুমিরটির কোনো সন্ধান পাননি উদ্ধারকারীরা। এতে করে পুরো এলাকা জুড়ে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটির পর থেকে পুকুরের আশেপাশে যেতেও ভয় পাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার রাতে নারায়ণগঞ্জের বন্দরের তিনগাঁও এলাকায় প্রথম কুমিরটির দেখা মেলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে কুমিরটিকে রাতে চলাচল করতে দেখা যায়। ওই সময় এলাকাবাসী ধাওয়া দিয়ে কুমিরটিকে একটি কচুরিপানায় ভরপুর পুকুরের দিকে ঠেলে দেন। তবে এরপর থেকে আর সেটির দেখা মেলেনি।
ঘটনার রাতে স্বচক্ষে কুমির দেখা সেলুনকর্মী রুবেল জানান, 'কুমির দেখে তখন সবাই ভয় পাইছিলো। তাড়াতাড়ি করে পুকুরে নামাইছি। কিন্তু এখন তো আর কুমির দেখিনা। মানুষের গরু-ছাগল নিয়া চিন্তায় আছে, মাঠে ছেড়ে রাখতে পারছে না। বাচ্চাদের নিয়েও ভয়ে আছে সবাই। দ্রুত কুমির উদ্ধার করলে আমাদের টেনশনটা কমবে।'
কুমির উদ্ধারে গত সোমবার বন বিভাগ, প্রাণিসম্পদ ও বন্য প্রাণী সংরক্ষণ অধিদপ্তরের যৌথ একটি উদ্ধারকারী দল ওই পুকুরে জাল ফেলে অভিযান চালায়। তবে কচুরিপানায় ভরা পুকুরে কুমিরটি পানির নিচে লুকিয়ে আছে নাকি অন্য কোথাও চলে গেছে, তা এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি কেউ। পরিস্থিতি বিবেচনায় এখন পুকুরে টোপ হিসেবে মুরগি বেঁধে রেখে কিংবা প্রয়োজনে সেচ দিয়ে অবস্থান শনাক্ত করার পরিকল্পনা করছে প্রশাসন।
কুমিরটির উৎপত্তি সম্পর্কে উপজেলা বন কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম জানান, বন্দরের পশ্চিমে শীতলক্ষ্যা এবং পূর্বে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ রয়েছে। কিন্তু তিনগাঁও এলাকা থেকে এ দুটি নদীর দূরত্ব অনেক বেশি। উপরন্তু নদী থেকে লোকালয়ে সংযোগ স্থাপনের মতো আশেপাশে কোনো খালও নেই। ফলে কুমিরটি কোথা থেকে এলো, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ধারণা দিতে পারছে না বন বিভাগ।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আল মাহমুদ হাছান বলেন, 'কুমিরটি এখন কোথায় আছে তা আমরা শনাক্ত করতে পারিনি। সেটা পুকুরেই আছে নাকি অন্যত্র চলে গেছে, সে বিষয়ে নিয়মিত খোঁজখবর রাখা হচ্ছে। এলাকাবাসীকে সতর্ক করা হয়েছে এবং কোথাও কুমির দেখলে দ্রুত আমাদের জানাতে বলা হয়েছে।'
এ বিষয়ে বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিবানী সরকার জানান, 'কুমিরের আক্রমণ থেকে এলাকাবাসীকে সতর্ক করতে আমরা বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছি এবং এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। বন কর্মকর্তারা কুমিরের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করছেন। স্থানীয়দের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে—কুমির দেখতে পেলে কেউ যেন কাছে না যান, উত্ত্যক্ত না করেন কিংবা না তাড়িয়ে দ্রুত প্রশাসনকে খবর দেন।'
