নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জের দুই এসিল্যান্ডকে বদলি
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের দুই সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) বদলি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের এসিল্যান্ড দেবযানী করকে খুলনায় এবং ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের এসিল্যান্ড অংমাচিং মারমাকে চট্টগ্রামে বদলি করা হয়েছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জাকিয়া সরওয়ার লিমা।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দেবযানী করকে খুলনায় এবং অংমাচিং মারমাকে চট্টগ্রামে বদলি করা হয়েছে।
এর আগে নির্ধারিত সময়ে কার্যালয়ে উপস্থিত না থাকার অভিযোগে অংমাচিং মারমাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।
গত ৩১ আগস্ট সকালে নারায়ণগঞ্জ নগরের খানপুর এলাকায় অবস্থিত সদর উপজেলা ভূমি অফিসে আকস্মিক পরিদর্শনে যান ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।
একই এলাকায় সদর উপজেলা সহকারী কমিশনারের কার্যালয়ের পাশাপাশি ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের কার্যালয়ও রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী সকাল ৯টার কয়েক মিনিট আগে সেখানে পৌঁছান। তবে অফিস সময় শুরু হওয়ার পরও কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। এ সময় তিনি হাজিরা রেজিস্টার পরীক্ষা করেন।
পরিদর্শনের সময় কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর অনুপস্থিতি এবং কর্মস্থলে না এসেও হাজিরা খাতায় আগে থেকেই স্বাক্ষর করে রাখার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরে সদর, ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের মোট ১৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।
তবে ঘটনার দিন সিদ্ধিরগঞ্জের এসিল্যান্ড দেবযানী কর অফিসে না থাকলেও তিনি অসুস্থতার কারণে অনুমোদিত ছুটিতে ছিলেন বলে জানা গেছে।
বদলি প্রসঙ্গে দেবযানী কর দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, 'আমি সেদিন অসুস্থতার কারণে ছুটিতে ছিলাম এবং বিষয়টি জেলা প্রশাসক স্যার জানতেন। আমার বদলি হয়েছে, তবে এটি কোনো শাস্তিমূলক বদলি নয়।'
এদিকে ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের এসিল্যান্ড অংমাচিং মারমার সরকারি মোবাইল নম্বরে কল করে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
অন্যদিকে, অফিসে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার সাদিয়া আক্তারকেও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি এখনো স্বপদে দায়িত্ব পালন করছেন।
গত ৩১ আগস্ট ফতুল্লা ও সদর এসিল্যান্ডকে একসঙ্গে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জ থেকে ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জের এসিল্যান্ডকে একসঙ্গে বদলির নোটিশ প্রকাশ করা হয়। তাদের মধ্যে একজন এর আগে কারণ দর্শানোর নোটিশ পেলেও অপরজনের কর্মস্থল পরিবর্তন নিয়মিত বদলির অংশ হিসেবে হয়েছে।
