প্রতারণা মামলায় ফুডপান্ডার শীর্ষ ৫ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার পর হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন
প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেওয়ার পর হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন পেয়েছেন ফুডপান্ডা বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ (এমডি) শীর্ষ পাঁচ কর্মকর্তা। তবে নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ফুডপান্ডার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাণিজ্যিক বিরোধকে কেন্দ্র করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দায়ের করা এই মামলায় পরোয়ানা জারির আগেই উচ্চ আদালত থেকে তাদের কর্মকর্তারা আগাম জামিন লাভ করেছেন।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এই আদেশ দেন। মামলার বাদী শিহাব মাহমুদ বশির এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার আসামিরা হলেন—ফুডপান্ডা বাংলাদেশের কো-ফাউন্ডার ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দা আমবারীন রেজা (৪০), কো-ফাউন্ডার ও পরিচালক জুবায়ের সিদ্দিকী (৪৬), পান্ডামার্ট-এর পরিচালক মো. তাবরেজ খান (৪০), হেড অব ক্যাটাগরি দিলারা ফারুক (৪৫) এবং সিনিয়র ম্যানেজার মোহাম্মদ সাজেদুল হক (৪২)।
এদিকে কর্মীদের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিষয়ে ফুডপান্ডা বুধবার একে বিবৃতিতে জানিয়েছে, একটি আইনমান্যকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ফুডপান্ডা ও এর ভগিনী প্রতিষ্ঠান ডেলিভারি হিরো স্টোরস (বাংলাদেশ) দেশের প্রচলিত আইন ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল। আমাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, তা পুরোপুরি ভিত্তিহীন। আমরা আদালতের সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এই মিথ্যা অভিযোগের মোকাবিলা করব এবং প্রমাণ করব যে আমাদের কোনো কর্মী কোনো ধরনের ফৌজদারি অপরাধের সাথে জড়িত নন।
আদালত সুত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৩ জুলাই প্রায় ৬ কোটি টাকার আত্মসাতের অভিযোগে ব্যবসায়ী ও ফার্স্ট টেলি সেলস কোম্পানির স্বত্বাধিকারী শিহাব মাহমুদ বশির বাদী হয়ে ঢাকার আদালতে পৃথক চারটি মামলা করেন। ওই সময়ে মামলাগুলো আমলে নিয়ে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত গুলশান থানাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
মামলাটির তদন্ত শেষে এক মামলায় গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মশিউর রহমান ও আরেক মামলায় একই থানার এসআই মো. সাখাওয়াত হোসেন প্রতিবেদন দাখিল করেন। আজ বুধবার এই প্রতিবেদন আমলে গ্রহণ করে আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
তবে ফুডপান্ডার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত কর্তৃক ইস্যুকৃত পরোয়ানা এ ধরনের মামলার ক্ষেত্রে একটি স্বাভাবিক আইনি ধারা মাত্র। ইতোমধ্যে হাইকোর্ট থেকে আমাদের সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর জামিন মঞ্জুর হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, বাদী আইপিএলই ইলেকট্রনিক্সের মাধ্যমে হাউজহোল্ড ও কিচেন অ্যাকসেসরিজ, মোবাইল অ্যাকসেসরিজসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি করে ফুডপান্ডার সহযোগী প্রতিষ্ঠান পান্ডামার্টে সরবরাহ করতেন। ২০২২ সালের জুন থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন ক্রয়াদেশের মাধ্যমে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার পণ্য সরবরাহ করা হয়। এসব পণ্যের বিপরীতে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা পরিশোধ করা হলেও বাকি প্রায় ১ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়নি।
সর্বশেষ গত বছরের ২৬ জুন মামলার বাদী তার প্রতিনিধি আসামিদের অফিসে গিয়ে পাওনা টাকা চাইলে আসামিরা ভয়ভিতি দেখানোসহ মেরে ফেলের হুমকি দেয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এসব সরবরাহ করা পণ্য নষ্ট হয়েছে দেখিয়ে ভুয়া ফেরত চালান তৈরি করা হয়েছে। এভাবে পাওনা অর্থ কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি চুক্তির শর্ত ভেঙে ভ্যাট, ট্যাক্স ও বিজ্ঞাপন বাবদ প্রায় ১০ লাখ টাকা কেটে নেওয়ার অভিযোগও করে এই মামলার বাদী।
তবে বাদী শিহাব মাহমুদ বশিরের প্রদান করা চেকে বাউন্স হওয়া এবং তার কাছে কোম্পানির পাওনা টাকা সংক্রান্ত একটি বাণিজ্যিক বিরোধের জের ধরেই এই মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফুডপান্ডা। মূলত নিজের (শিহাব মাহমুদ বশির) ব্যবসায়িক আর্থিক দায় এড়ানো, প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদকে অহেতুক হয়রানি করা এবং কোম্পানির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যেই তিনি এই প্রতিশোধমূলক আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন দাবি ফুডপান্ডার।
