বাবার কাছ থেকে ইস্টার্ন ব্যাংকের ১.৬৪ কোটি শেয়ার উপহার পাচ্ছেন চেয়ারম্যান আনিস আহমেদ
ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান আনিস আহমেদ তার বাবা গাজীউল হকের কাছ থেকে ব্যাংকটির ১ কোটি ৬৪ লাখ শেয়ার উপহার হিসেবে পেতে যাচ্ছেন। তার বাবা ব্যাংকটির একজন সাধারণ শেয়ারহোল্ডার।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এক ঘোষণায় জানানো হয়েছে, আগামী ২৯ অক্টোবর এর মধ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ট্রেডিং সিস্টেমের বাইরে এই লেনদেন সম্পন্ন হবে। এই ঘোষণার পর ডিএসইতে ইস্টার্ন ব্যাংকের শেয়ারের দাম ১.৭৫% বেড়ে ২৩ টাকা ২০ পয়সায় স্থির হয়।
উপহার হিসেবে পাওয়া এই শেয়ারগুলো বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকটির মোট শেয়ারের ১%। বর্তমানে ইস্টার্ন ব্যাংকে আনিস আহমেদের ব্যক্তিগত শেয়ারের পরিমাণ ৩.৯৮%।
শেয়ার হস্তান্তরের ঘোষণাটি এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন ২০২৬ সালের আগস্ট শেষে ব্যাংকটির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের সম্মিলিত শেয়ারের পরিমাণ ছিল ২৯.৪৪%, যা নিয়ন্ত্রক সংস্থার বেঁধে দেওয়া ন্যূনতম ৩০ শতাংশের চেয়ে কম।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তাদের সম্মিলিত শেয়ারের পরিমাণ ছিল ৩১.৪৪%। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে কোনো উদ্যোক্তা বা পরিচালক তাদের শেয়ার বিক্রি না করলেও, সম্মিলিত শেয়ারের পরিমাণ বাধ্যতামূলক সীমার নিচে নেমে গেছে।
ডিএসইর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উপহারের এই শেয়ার হস্তান্তর সম্পন্ন হলে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের সম্মিলিত শেয়ারের পরিমাণ আবারও নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত ন্যূনতম ৩০ শতাংশের সীমা অতিক্রম করবে।
উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের শেয়ার কমে যাওয়ার পেছনের কারণ জানতে ব্যাংকটির কোম্পানি সচিব আবদুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন কল বা হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার কোনো উত্তর দেননি।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান এমজিএইচ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও গ্রুপ সিইও আনিস আহমেদ শওকত আলী চৌধুরীর স্থলাভিষিক্ত হয়ে ২০২৬ সালের জুলাই মাসে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
এমজিএইচ গ্রুপ বিশ্বের ২৬টি দেশে সাপ্লাই চেইন, কার্গো ম্যানেজমেন্ট, ক্রস-বর্ডার ফ্রেইট, ট্রাভেল কমার্স এবং কমার্শিয়াল ব্যাংকিং খাতসহ নানা ক্ষেত্রে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেওয়ার আগে আনিস আহমেদ ব্যাংকটির নির্বাহী কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং এর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটিরও সভাপতিত্ব করেছেন।
আর্থিক খাতের হিসাবে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি-জুন সময়ে ইস্টার্ন ব্যাংক তাদের সমন্বিত নিট মুনাফায় বছরওয়ারি ২৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির কথা জানিয়েছে, যা ৪৩৯ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে ব্যাংকটির পুনর্নির্ধারিত সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ২ টাকা ১৪ পয়সা থেকে বেড়ে এখন ২ টাকা ৬৭ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।
ব্যাংকটি তাদের এই মুনাফা বৃদ্ধির পেছনে উচ্চ ট্রেজারি ইয়েল্ডের মধ্যে সরকারি সিকিউরিটিজ থেকে বেশি রিটার্ন, নন-ফান্ডেড আয়ের স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি এবং উন্নত পরিচালনাগত দক্ষতাকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
