স্টারলিংকের প্রযুক্তিতে প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্যাটেলাইট মোবাইল সেবা চালুর অনুমোদন পেল বাংলালিংক
নেটওয়ার্কের আওতার বাইরে থাকা মানুষও শিগগিরই মেসেজ পাঠাতে এবং সীমিত মোবাইল ডেটা ব্যবহার করতে পারবেন।
বাংলাদেশে চালু হতে যাচ্ছে ডাইরেক্ট-টু-সেল (ডিটুসি) কানেক্টিভিটি। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকলেও উপযুক্ত মোবাইল ফোন সরাসরি স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারবে।
প্রাথমিকভাবে এই সেবা এসএমএস ও সীমিত ডেটা সংযোগ দেবে। পরে ভয়েস কল ও আরও বিস্তৃত ডেটা সেবা চালুর সুযোগ থাকবে।
স্টারলিংকের সঙ্গে অংশীদারত্বে দেশের প্রথম বাণিজ্যিক ডিটুসি সেবা চালুর জন্য বাংলালিংককে অনুমোদন দিয়েছে সরকার। কর্মকর্তারা দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
যেসব এলাকায় মোবাইল টাওয়ার স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ করা কঠিন, ব্যয়বহুল বা বাণিজ্যিকভাবে অলাভজনক—সেসব এলাকার মানুষের জন্য এই উদ্যোগ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এ ছাড়া জরুরি পরিস্থিতিতে টাওয়ার, ফাইবার সংযোগ বা বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সেবাটি কাজে আসতে পারে।
বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স কর্মকর্তা তৈমুর রহমান টিবিএসকে বলেন, 'আমরা গতকাল (বুধবার) লাইসেন্স পেয়েছি এবং শিগগিরই সেবা চালুর পরিকল্পনা করছি।'
বাংলালিংকের এই উদ্যোগের আগে বান্দরবান ও সন্দ্বীপসহ বিভিন্ন এলাকায় দুই মাসের প্রুফ-অব-কনসেপ্ট পরীক্ষা চালানো হয়। পরীক্ষায় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থার কর্মকর্তাদের সামনে এসএমএস, ওটিটি-ভিত্তিক মেসেজিং এবং ওটিটি ভয়েস কলিং প্রদর্শন করে কোম্পানিটি।
কর্মকর্তারা জানান, বিটিআরসি গত ৯ সেপ্টেম্বরের এক সভায় বাংলালিংকের প্রস্তাব অনুমোদন করে এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য তা মন্ত্রণালয়ে পাঠায়।
বিটিআরসির ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগের কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ইকবাল আহমেদ এই উদ্যোগকে বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতের জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তিনি টিবিএসকে বলেন, 'আমরা টেরিটোরিয়াল নেটওয়ার্ক সেবার জন্য একটি আবেদন পেয়েছিলাম এবং অনুমোদনের পর মূলত প্রত্যন্ত এলাকা থেকে এসএমএস ও ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার জন্য একটি আবেদন অনুমোদন করেছি।'
তিনি বলেন, 'স্টারলিংকও সরাসরি একই ধরনের সেবা দেওয়ার জন্য আবেদন করেছিল। তবে কমিশন সেই প্রস্তাব অনুমোদন করেনি। আমরা আমাদের দেশের স্বার্থ এবং স্থানীয় অপারেটরদের ব্যবসা নিশ্চিত করতে চাই।'
বাংলালিংক কর্মকর্তারা জানান, প্রথম ধাপে এসএমএস ও সীমিত ডেটার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। ৪জি বা ৫জি নেটওয়ার্কে ব্যবহারকারীরা যে উচ্চগতির মোবাইল ব্রডব্যান্ড পান, প্রাথমিক পর্যায়ে তেমন গতি পাওয়া যাবে না।
এই সেবা ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত হ্যান্ডসেট এবং স্যাটেলাইট সংযোগ প্রয়োজন হবে। স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযোগের ক্ষেত্রে আকাশের পরিষ্কার দৃশ্যমানতা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ফলে সব ধরনের ভৌগোলিক পরিবেশে সেবাটি সমানভাবে কাজ নাও করতে পারে।
প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন সাপেক্ষে পরে ভয়েস কল ও আরও বিস্তৃত ডেটা সেবা চালু করা হতে পারে।
জেলে, দ্বীপবাসী ও দুর্যোগকবলিত মানুষের জন্য সহায়তা
যেসব মানুষ স্থলভিত্তিক মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতার বাইরে বসবাস বা কাজ করেন, তাদের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ের এই সেবাটি জননিরাপত্তার ক্ষেত্রে ব্যবহারিক সুবিধা দিতে পারে।
বঙ্গোপসাগরের এমন কিছু এলাকায় কাজ করা জেলে, নৌযানের কর্মী এবং অন্যান্য সামুদ্রিক শ্রমিকরা উপকূলীয় মোবাইল টাওয়ারের আওতার বাইরে চলে গেলেও মৌলিক যোগাযোগ বজায় রাখতে পারবেন।
একইভাবে, প্রত্যন্ত চর, দ্বীপ ও পার্বত্য এলাকার বাসিন্দারাও এমন এলাকায় যোগাযোগের বিকল্প ব্যবস্থা পাবেন, যেখানে প্রচলিত মোবাইল সাইট স্থাপন করা প্রযুক্তিগতভাবে কঠিন বা বাণিজ্যিকভাবে চ্যালেঞ্জিং।
জরুরি পরিস্থিতিতেও প্রযুক্তিটি বিশেষভাবে কার্যকর হয়ে উঠতে পারে।
ঘূর্ণিঝড়, বন্যা বা অন্য কোনো দুর্যোগে মোবাইল টাওয়ার, ফাইবার-অপটিক সংযোগ কিংবা বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে ডিটুসি মৌলিক যোগাযোগের বিকল্প ব্যবস্থা দিতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে স্যাটেলাইট সেবা সচল থাকা এবং হ্যান্ডসেটের আকাশের দিকে পর্যাপ্ত পরিষ্কার দৃশ্যমানতা থাকা প্রয়োজন হবে।
