স্টারলিঙ্ক গ্রাউন্ড স্টেশনসহ মধ্যপ্রাচ্যে মাস্কের কোম্পানিগুলোকে সামরিক লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি ইরানের
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্কের মালিকানাধীন সব কোম্পানিকে সামরিক লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিয়েছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের অভিযোগ, মার্কিন সামরিক বাহিনী মাস্কের কোম্পানিগুলোকে ব্যবহার করে ইরানে যুদ্ধাপরাধ চালিয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম 'ফারস' টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছে, এই অঞ্চলে থাকা মাস্কের সব স্থাপনাকে সামরিক লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় যুক্ত করবে তেহরান। এর মধ্যে কাতার, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানে থাকা স্টারলিংকের গ্রাউন্ড স্টেশন এবং স্পেসএক্সের অংশীদারদের স্থাপনাগুলোও থাকবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র ফারসকে বলেছে, 'ইরান এই অঞ্চল এবং অধিকৃত ভূখণ্ডগুলোতে (মাস্কের) ব্যবস্থাপনায় থাকা সব স্থাপনায় হামলা চালানোর অধিকার রাখে।' সূত্রটির অভিযোগ, চলতি সপ্তাহে দক্ষিণ ইরানে পানির অবকাঠামোতে হামলা চালাতে মাস্কের কোম্পানিগুলোকে ব্যবহার করা হয়েছিল।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে স্পেসএক্স (যাদের মালিকানায় স্টারলিংক রয়েছে) এবং ইলন মাস্কের একজন আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল নিউইয়র্ক পোস্ট, তবে তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেননি। হোয়াইট হাউসও এ বিষয়ে কোনো প্রশ্নের উত্তর দেয়নি।
মাস্কের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা দাতা প্রতিষ্ঠান স্টারলিংক এখন মার্কিন সরকারের অন্যতম বড় ঠিকাদার। ড্রোন হামলা এবং মনুষ্যবিহীন নজরদারি ও যুদ্ধজাহাজ পরিচালনায় নিজেদের নেটওয়ার্ক ব্যবহারের জন্য শত কোটি ডলারের সরকারি চুক্তি বাগিয়ে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের মতে, ইরানে 'কামিকাজি' (আত্মঘাতী) ড্রোন হামলা চালাতে মার্কিন সামরিক বাহিনী স্টারলিংক ব্যবহার করেছে।
এর আগে চলতি বছরের শুরুতে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড এনভিডিয়া, অ্যাপল, মাইক্রোসফট ও গুগলসহ আরও কয়েকটি আমেরিকান প্রযুক্তি কোম্পানিকে 'ধ্বংস' করার হুমকি দিয়েছিল।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর থেকে সামরিক বাহিনীগুলো ক্রমশ স্টারলিংকের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছে। ওই সময় ইউক্রেনীয় সেনাদের ইন্টারনেট সুবিধা দিতে স্টারলিংক একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠেছিল।
সবশেষ গত মাসে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর একটি শাখা 'স্পেস ফোর্স' মহাকাশে সামরিক ইন্টারনেট ব্যবস্থা তৈরি করতে স্পেসএক্সকে ২.২৯ বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি দিয়েছে।
