চট্টগ্রামের রাউজানে ফের প্রকাশ্যে গুলি, যুবদল কর্মী নিহত
চট্টগ্রামের রাউজানে প্রকাশ্যে গুলি করে মুহাম্মদ করিম (৩৫) নামে এক যুবদল কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের কেরানীহাট বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত করিম উরকিরচর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হারপাড়া গ্রামের মুহাম্মদ শফির ছেলে। তিনি স্থানীয় যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, রাত সাড়ে ৯টার দিকে করিম কেরানীহাট বাজারে অবস্থান করছিলেন। এ সময় পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের দিক থেকে কয়েকটি মোটরসাইকেলে করে ১০ থেকে ১২ জন ব্যক্তি বাজারে আসে। তারা করিমকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। পরে মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
গুলিতে করিম ঘটনাস্থলেই নিহত হন। রাত ১০টা পর্যন্ত তার মরদেহ বাজারের সড়কের পাশে পড়ে ছিল। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল করে।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে টিবিএসকে বলেন, 'আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল করেছি। তার শরীরের পেছনের দিকে পিঠের মাঝখানে একটি এবং পেছন দিক থেকে পায়ের ঊরুতে (কোমরের কিছুটা নিচে) গুলির চিহ্ন রয়েছে।'
তিনি বলেন, 'আলামত হিসেবে লাশের পাশে থাকা একটি গুলির খালি খোসা জব্দ করা হয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। আমরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করছি। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে রাতে ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হবে।'
ওসি জানান, করিমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে প্রায় ১০টি মামলা রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে চুরি, ছিনতাই ও ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ রয়েছে। মামলাগুলো রাউজান থানাসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানা এবং রাঙামাটিতেও রয়েছে বলে জানান তিনি।
এর আগে গত ১৩ জুন রাউজানের পাহাড়তলী বাজারের চৌমুহনী এলাকায় অস্ত্রধারীদের গুলিতে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ (৪৮) নিহত হন।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল নেতাকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে রাউজানে ২৭টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ২০টি হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক বিরোধের জেরে হয়েছে।
একই সময়ে উপজেলায় শতাধিক গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হওয়াসহ সাড়ে তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
সর্বশেষ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কারা জড়িত এবং হত্যার কারণ কী, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হবে।
