গ্যাস, বিদ্যুৎ ও নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে চট্টগ্রামে ১১ দলীয় ঐক্যের স্মারকলিপি
গ্যাস সংকট, দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিং, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি ও 'ভুতুড়ে বিল' আদায় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে চট্টগ্রামে সমাবেশ, অবস্থান কর্মসূচি ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে নগরীর লালদিঘী জেলা পরিষদ চত্বরে সমাবেশ শেষে মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন জোটের নেতা-কর্মীরা। পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি জমা দেন তারা।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন সিনিয়র সহকারী কমিশনার (ভূমি অধিগ্রহণ) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনিছুর রহমান খান।
স্মারকলিপিতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসন, লোডশেডিং বন্ধ, বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি ও 'ভুতুড়ে বিল' প্রত্যাহার, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের গেজেট প্রকাশসহ জনদুর্ভোগ কমাতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করা হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, 'চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় কয়েকদিন ধরে গ্যাস সংকটে মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাসাবাড়ি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পকারখানায়। হঠাৎ করে কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো, সরকারকে তার জবাব দিতে হবে।'
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যেই বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং 'ভুতুড়ে বিল' আদায় সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেছে।
অনেক গ্রাহক প্রকৃত ব্যবহারের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিল পাচ্ছেন দাবি করে এসব অভিযোগ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
নজরুল ইসলাম বলেন, 'নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিও মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে। বাজারে কৃত্রিম সংকট, সিন্ডিকেট বা অবৈধ মজুতদারির মাধ্যমে কেউ মূল্য বাড়াচ্ছে কি না, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।'
তিনি জুলাই অভ্যুত্থানে নিহতদের পূর্ণাঙ্গ গেজেট দ্রুত প্রকাশ এবং তাদের পরিবারের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও অধিকার নিশ্চিত করারও দাবি জানান।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, এনসিপি, এলডিপি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি, লেবার পার্টি, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টিসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন নেতারা।
