সরকার গ্যাস, বিদ্যুৎ দিচ্ছে না বলেই আমাদের লংমার্চ: শফিকুর রহমান
সরকার গ্যাস, বিদ্যুৎ ঠিকমতো দিচ্ছে বলেই লংমার্চ করছেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। আজ শনিবার বিকেলে ঢাকা-রংপুর লংমার্চের অংশ হিসেবে বগুড়ার মাটিডালীতে ১১ দলীয় ঐক্যের পথসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
শফিকুর রহমান বলেন, আপনারা যদি জনগনের সাথে প্রতারণা না করতেন, তাহলে আমাদের লংমার্চের জন্য রাস্তায় নামার প্রয়োজন পড়ত না। আপনারা বলেছেন এক কোটি মানুষকে চাকরি দিবেন। আপনারা এক কোটি মানুষকে চাঁদাবাজ বানিয়েছেন। দুর্নীতির রেট বাড়িয়েছেন।
দেশের মানুষের চাকরির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের সন্তানদের চাকরির অধিকার কেড়ে নিয়েছেন। আমাদের সন্তানরা চাকরির অধিকারের জন্য আন্দোলন করেছে। ১৪'শ প্রাণ গেছে। আমরা আরেকবার প্রাণ দিতে প্রস্তুত। তবু এই বৈষম্য আমরা বরদাস্ত করব না।
লংমার্চের পথে বগুড়ার এই সভায় শফিকুর রহমান আরও বলেন, আমার কৃষক বন্ধু সার পায় না। ১৪'শ টাকার সার কিনতে হয় ২২'শ টাকায়। বিদ্যুৎ দিতে পারেন না, আবার ডাবল-ট্রিপল বিল তুলে দেন আমাদের হাতে।
পথসভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণ অঞ্চলের মূখ্য আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আমাদের এই লড়াই, আমাদের মুক্তির লড়াই। আমরা শুধু সরকার পরিবর্তন চাই নাই। আমরা বাংলাদেশের পরিবর্তনের চেয়েছি। আমাদের রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য আবার রাস্তায় নামতে হবে। সরকারের সংস্কার চেয়েছি। এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে, এই চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে আবার আমাদের রাস্তায় নামতে হবে।
এর আগে শনিবার সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে রংপুরের উদ্দেশে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লং মার্চ শুরু হয়। বিভিন্ন পথসভা শেষে লং মার্চের বহর বিকেল ৩ টার দিকে বগুড়ার মাটিডালী এলাকায় পৌঁছায়।
পথসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার প্রমুখ।
আমাদের একটি দাবিও দলের জন্য নয়, জনগণের জন্য: শফিকুর রহমান
এদিকে সন্ধ্যায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর চৌমাথা মোড়ে আয়োজিত পথসভায় শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের লংমার্চ কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর খায়েশ পূরণের জন্য নয়, ১৮ কোটি মানুষের দাবি আদায়ের জন্য। যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হতো, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করা হতো, দেশে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি বন্ধ হতো এবং কৃষকরা সার পেত, তাহলে লংমার্চ করতাম না।
তিনি বলেন, জনগণ আর জুলুম সহ্য করতে পারছে না। আমাদের একটি দাবিও দলের জন্য নয়, জনগণের জন্য। সরকার যদি দাবি মেনে না নেয়, তাহলে আমাদের ৮ দফা এক দফায় রূপ নেবে।
তিনি বলেন, ঢাকা থেকে আসার পথে হাজার হাজার মা-বোন ও শিশু সন্তানরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে আমাদের অভিবাদন ও মোবারকবাদ জানিয়েছে। মা-বোনেরা রাস্তায় যখন নেমেছে, তখন দাবি আদায় হবে ইনশাআল্লাহ।
কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বলেন, দেশটা সুন্দরভাবে চললে সবাই শান্তিতে থাকতে পারত। চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি হতো না, সবার চাকরি হতো। কিন্তু এখন পুরোনো চাকরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা চাই এদেশের মানুষ দেশটা চালাক। দেরিতে হলেও সংস্কার পরিষদ গঠন করে সংবিধান সংস্কার করে জনগণকে মুক্তি দিক সরকার।
