চট্টগ্রামে গণপরিবহনে বাড়তি ভাড়া আদায়: বিআরটিএর জরিমানা, গ্যাস সংকটের অজুহাত চালকদের
চট্টগ্রাম নগরের ৩ নম্বর রুটে বাসে যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি আদায়ের অভিযোগে অভিযান চালিয়ে ১৩টি মামলা করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। এসব মামলায় মোট ৩৫ হাজার ৫৫০ টাকা জরিমানা করা হয়।
রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেলে নগরের কাজীর দেউড়ি, সিআরবি এবং পরে আমবাগান এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। বিআরটিএ চট্টগ্রাম মেট্রো-২ ও জেলা সার্কেল কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা মুস্তফার নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়।
অভিযান পরিচালনাকালে ফাহমিদা মুস্তফা টিবিএসকে বলেন, '৩ নম্বর রুটের বাসে যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি নেওয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়সহ বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় ১৩টি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় মোট ৩৫ হাজার ৫৫০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।'
ফাহমিদা মুস্তফা জানান, এক চালক বলেন, উনি বেশি নিচ্ছে না, যাত্রীরাই খুশি হয়ে ২ টাকা ৫ টাকা বেশি দিচ্ছেন। কিন্তু যাত্রীরা বিষয়টি অস্বীকার করেন। বরং সব যাত্রীরাই প্রায় বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেন।
অভিযানে শুধু অতিরিক্ত ভাড়া আদায় নয়; গাড়ির ফিটনেস, রুট পারমিট, চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও যাচাই করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে গণপরিবহন চালকদের দাবি, ফিলিং স্টেশনগুলোতে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে গ্যাস নিতে হচ্ছে। এতে বাস-ট্রিপ কমে যাওয়ায় মালিকপক্ষকে নির্ধারিত ভাড়া পরিশোধ করতে গিয়ে চালকেরা চাপে পড়ছেন। এ কারণে কেউ কেউ বাড়তি ভাড়া আদায় করছেন বলে তাদের দাবি।
বিআরটিএর সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, 'গ্যাস সংকটের অজুহাতে যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার সুযোগ নেই। এ ধরনের সমস্যা হলে মালিকপক্ষ ও চালকেরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সমাধান করতে পারেন। এর চাপ কোনোভাবেই যাত্রীদের ওপর দেওয়া যাবে না। সরকারি পর্যায় থেকেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।'
অন্যদিকে গণপরিবহনে বাড়তি ভাড়া আদায়ের বিষয়ে কোনো সাংগঠনিক নির্দেশনা নেই বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহজাহান। টিবিএসকে তিনি বলেন, 'গ্যাসের জন্য চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এ কারণে কেউ কেউ নিজ উদ্যোগে বাড়তি ভাড়া নিচ্ছেন। তবে সংগঠনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার কোনো নির্দেশনা নেই।'
এ সময় গাড়ির কাগজপত্রের পাশাপাশি চালকদের দায়িত্বশীলতা, যাত্রীদের সঙ্গে আচরণ এবং গণপরিবহনে শৃঙ্খলার বিষয়েও নজর দেওয়া হয়। এছাড়া মোবাইল কোর্ট চলাকালে বিভিন্ন অসংগতি পরিলক্ষিত হওয়ায় একটি গণপরিবহনের মালিক ও চালককে বিআরটিএর আদালতে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যাত্রী ভোগান্তির বিষয়ে ফাহমিদা মুস্তফা বলেন, 'অতিরিক্ত ভাড়া আদায়সহ বিভিন্ন কারণে গণপরিবহনে যাত্রীদের ভোগান্তির অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় কিংবা যাত্রীদের সঙ্গে হয়রানিমূলক আচরণের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
তিনি আরও বলেন, 'গণপরিবহনে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে বিআরটিএর অভিযান অব্যাহত থাকবে। পরিবহন মালিক ও চালকদের নির্ধারিত ভাড়া, ফিটনেস ও রুট পারমিটসহ সংশ্লিষ্ট নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে।'
বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে চলতি বছরের জুনে সবচেয়ে বেশি মামলা (১৩৩টি) হয়েছে এবং সবচেয়ে বেশি (২৯টি) যানবাহন ডাম্পিং করা হয়েছে। এছাড়া গত মে থেকে জুলাই পর্যন্ত তিন মাসে মোট ৬৮টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ৩৩৬টি মামলায় ৭ লাখ ৯৯ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
বিআরটিএ কর্মকর্তারা জানান, নগরের অন্যান্য রুটেও গণপরিবহনে বাড়তি ভাড়া আদায় ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে অভিযান পরিচালনা করা হবে। এছাড়াও নিয়োমিত এই ধরণের ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয়।
