৯ শ্রমিকের মৃত্যু: ছাড়পত্র নবায়ন না করেই জাহাজ কাটায় ফেরদৌস স্টিলকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা
সীতাকুণ্ডের ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজকে পরিবেশগত ছাড়পত্র নবায়ন না করে স্ক্র্যাপ জাহাজ কাটার দায়ে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর (ডিওই)।
বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (২০১০ সালে সংশোধিত) এর অধীনে আয়োজিত এক শুনানি শেষে বুধবার পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয় এই জরিমানার আদেশ জারি করে।
আদেশে বলা হয়েছে, পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের একটি দল সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী এলাকার এইচ আকবর আলী রোডে অবস্থিত ফেরদৌস স্টিলের শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে 'এমটি রাসি' নামের একটি স্ক্র্যাপ জাহাজ পরিদর্শন করে। পরিদর্শনে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি পরিবেশগত ছাড়পত্র নবায়ন না করেই জাহাজটি কাটার কাজ পরিচালনা করছিল।
পরিবেশ অধিদপ্তর জানায়, এই কার্যক্রম পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের অধীনে একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ এবং পরিবেশের ক্ষতি করার জন্য কোম্পানির কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়যোগ্য। আইনের ৭ ধারা অনুযায়ী ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নের পর পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ ৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়। পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিচালক জমির উদ্দিন স্বাক্ষরিত আদেশে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
কোম্পানিটিকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে জরিমানার ৫ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পরিবেশগত ছাড়পত্র নবায়ন না করা পর্যন্ত স্ক্র্যাপ জাহাজটি কাটার কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর।
আদেশে সতর্ক করে বলা হয়েছে, এই নির্দেশ অমান্য করলে কোম্পানির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলা দায়েরসহ অন্যান্য আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে কোম্পানিটি পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের ১৪ ধারা এবং পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা, ২০২৩-এর ২৭ বিধি অনুযায়ী আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার অধিকার পাবে। আপিল দায়ের করতে হলে কোম্পানিকে ই-চালানের মাধ্যমে আরোপিত জরিমানার ২৫ শতাংশ অর্থ নির্ধারিত আপিল কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে হবে।
উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই এই শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে একটি ভয়াবহ গ্যাস লিকেজের ঘটনায় ৯ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনার পর থেকেই এই কারখানার নিরাপত্তা ও পরিবেশগত নিয়মকানুন মেনে চলার বিষয়টি কঠোর নজরদারিতে রয়েছে।
