চীনের করিডোর প্রস্তাব পর্যালোচনায়, এখনো চূড়ান্ত অবস্থান নেওয়া হয়নি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করার বিষয়ে একমত হয়েছে দুই দেশ। এই উন্নয়নকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।
তিনি জানান, চীনের প্রস্তাবিত করিডোর নিয়ে বাংলাদেশ বর্তমানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে ঢাকা এখনো কোনো চূড়ান্ত অবস্থানে পৌঁছায়নি।
শনিবার (২৭ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান।
তিনি বলেন, 'আমরা চীনের করিডোর প্রস্তাবটি খতিয়ে দেখছি। তবে এখনো কোনো অবস্থান নিইনি।' করিডোর নিয়ে সরকারের আগ্রহের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে তিনি পরিবহন খরচ কমানোর বিষয়টি উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশ চীন সফর থেকে নগদ কী পেল—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'আমরা ভিক্ষার থলি নিয়ে যাই নাই। দুই দেশের সম্পর্কে অভিমুখ ঠিক করতে এই সফর। এটা ঠিক হলে বাকিগুলো ভবিষ্যতে আসবে। একটু আত্মসম্মানবোধ রাখেন। এ ধরনের বিব্রতকর প্রশ্ন করবেন না।'
তিস্তা নদী মহাপরিকল্পনা সম্পর্কে খলিলুর রহমান বলেন, 'এ বিষয়ে চীনের সঙ্গে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।' তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, 'তিস্তা প্রকল্প নিয়ে আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছে। আমরা আশা করছি, খুব দ্রুতই এই প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু হবে।'
দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের গভীরতা তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'বাংলাদেশ ও চীন তাদের সম্পর্ককে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে।' তিনি উল্লেখ করেন, বেইজিং খুব সীমিত সংখ্যক দেশের সঙ্গে এই স্তরের অংশীদারিত্ব বজায় রাখে।
খলিলুর রহমান বলেন, 'চীন সব দেশের সঙ্গে সর্বোচ্চ পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বজায় রাখে না। এশিয়ায় থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, কম্বোডিয়া, পাকিস্তান এবং ইন্দোনেশিয়ার মতো হাতেগোনা কয়েকটি দেশের সঙ্গে তাদের এমন অংশীদারিত্ব রয়েছে। এখন বাংলাদেশও সেই তালিকায় যুক্ত হলো।'
তিনি আরও বলেন, 'এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ও চীনের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্বের প্রতিফলন এবং এটি দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ।'
