চট্টগ্রামে বন্ধ জলিল টেক্সটাইলের জায়গায় হবে সেনাবাহিনী অস্ত্র কারখানা, রপ্তানির লক্ষ্য
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ফৌজদার হাটে বন্ধ হয়ে যাওয়া জলিল টেক্সটাইল মিলের জায়গায় আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্র উৎপাদনের কারখানা নির্মাণ করবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিকী মূল্য বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানার (বিওএফ) জন্য সেনাবাহিনীর কাছে ৫৪ দশমিক ৯৯ একর জায়গা হস্তান্তর করা হয়েছে।
জমি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। এ সময় তিনি জায়গাটি হস্তান্তরের জন্য প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
সেনাপ্রধান বলেন, বাংলাদেশের সমরাস্ত্রের চাহিদা মিটিয়ে এখানে তৈরি করা অস্ত্র রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, এটাকে রপ্তানিমুখী শিল্পে পরিণত করতে হবে। বর্তমানে বিশ্বের অনেক দেশে বাংলাদেশের সমরাস্ত্রের চাহিদা আছে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর হলে অস্ত্র রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় সম্ভব।
চট্টগ্রামের ফৌজদার হাটের এই পাহাড়ি এলাকাকে কেন সমরাস্ত্র কারখানা তৈরির জন্য বেছে নেওয়া হলো, তার কারণ উল্লেখ করে ওয়াকার উজ জামান বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের কাছাকাছি হওয়ায় এখানে আধুনিক ও শক্তিশালী সমরাস্ত্র তৈরি করে সক্ষমতা বাড়াবে সেনাবাহিনী। এ কারখানা দেশের কৌশলগত নিরাপত্তার বৃদ্ধির অংশ যেখানে একটি বন্ধ কারখানা নবরুপে চালু হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। এ সময় তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বের প্রতিরক্ষা শিল্প ও প্রযুক্তির বৈপ্লবিক পরিবর্তন হয়েছে। এখন অনেক কম মূল্যে ড্রোনসহ নানা অস্ত্রের ভালো চাহিদা আছে। সরকার অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা রপ্তানিতে সব ধরনের সহযোগিতা করবে এবং দেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
উল্লেখ্য, ১৯৬১ সালে ৫৫ একর জায়গাজুড়ে যাত্রা শুরু করেছিল সুতা ও কাপড় উৎপাদনের জন্য একসময়ের প্রসিদ্ধ প্রতিষ্ঠান জলিল টেক্সটাইল। দীর্ঘ পথচলায় প্রতিষ্ঠানটি দেশের বস্ত্রশিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও শেষদিকে একের পর এক লোকসানে জর্জরিত হয়ে পড়ে। নানা সংকট ও প্রতিকূলতার কারণে ২০০৪ সালে একেবারেই বন্ধ হয়ে যায় প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন কার্যক্রম। এরপর দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকার পর নানা প্রক্রিয়া ও আনুষ্ঠানিকতা শেষে অবশেষে জলিল টেক্সটাইলের সেই ৫৫ একর জায়গা যাচ্ছে সেনাবাহিনীর হাতে। ফলে দীর্ঘদিনের ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাক্ষী এই শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জায়গায় শুরু হতে যাচ্ছে নতুন এক অধ্যায়।
জমি হস্তান্তর উপলক্ষে জলিল টেক্সটাইল প্রাঙ্গণে আজ (বৃহস্পতিবার) বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও সেনাবাহিনীর বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি-বিএফওর মধ্যে চুক্তি সই হয়।
আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্র উৎপাদনের লক্ষ্যে এখানে নতুন প্ল্যান্ট স্থাপন করার পরিকল্পনার কথা জানান বিএফওর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল শাহিনুল হক ও সেনাবাহিনীর সামরিক উপদেষ্টা এ কে এম সামশুল ইসলাম।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান শেষে শিল্পমন্ত্রী ও সেনাপ্রধান পরিত্যক্ত কারখানাটি পরিদর্শন করেন এবং পরে তারা সেখানে বৃক্ষরোপণ করেন।
