আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে, দ্বিমতের কিছু নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী
সাম্প্রতিক সময়ে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর। রোববার (২৪ মে) বিকেলে সিলেটে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে, এ বিষয়ে দ্বিমত করার কিছু নেই। যে ঘটনা আপনার-আমার চোখের সামনে ঘটছে, তা তো মানতেই হবে।"
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শাখার কর্মীদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, "সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বেশ কিছু অপরাধের বিষয়ে পুলিশ, র্যাব ও অন্যান্য বাহিনীর সমন্বয়ে দ্রুতই যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। শিগগিরই আপনারা এ ব্যাপারে পদক্ষেপ দেখতে পারবেন। এছাড়া অপরাধীদের শনাক্ত করতে সিলেট নগরে 'ফেস রিকগনিশন' ক্যামেরা বসানো হবে।"
অপরাধের বিচারে দীর্ঘসূত্রতা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর বলেন, "অপরাধীদের ধরতে সরকারের সদিচ্ছার অভাব নেই। তবে শাস্তি নিশ্চিত করতে বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়, যা কিছুটা সময়সাপেক্ষ। সাম্প্রতিক সময়ের ধর্ষণসহ অন্যান্য অপরাধের সাথে জড়িতদের বিচারিক প্রক্রিয়া মেনেই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে। এসব ঘটনায় অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।"
এর আগে নগর ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শাখার ১ হাজার ১৫৮ জন কর্মীর হাতে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের প্রায় ৫৮ লাখ টাকা তুলে দেন মন্ত্রী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, "পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাই সিটি কর্পোরেশনের প্রাণ। তাদের অবদানেই সিলেট শহর বাসযোগ্য থাকে। তাই সরকার তাদের সম্মান জানাতে প্রতি ঈদেই বিশেষ উপহার দিচ্ছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী সব সময় পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কথা ভাবেন। গত ঈদেও উপহার পাঠিয়েছিলেন, এবারও পাঠিয়েছেন। সরকারের সামর্থ্য সীমিত, তারপরও আপনাদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।"
মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো ৪১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা দিয়ে ৮৩১ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর জন্য উপহার নিশ্চিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে আরও ৩৩১ জন কর্মী যাতে এই উপহার থেকে বাদ না পড়েন, সেজন্য সিসিকের নিজস্ব তহবিল থেকে অতিরিক্ত ১৬ লাখ ৫৫ হাজার টাকা যোগ করা হয়েছে।
পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আবাসন সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, "নির্বাচনের আগে আমি তাদের বাসস্থানের অবস্থা ঘুরে দেখেছি। একটি ছোট কক্ষে ৮ থেকে ১০ জন পর্যন্ত থাকেন, যা স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে নতুন আবাসন প্রকল্প নেওয়ার আশ্বাস দিচ্ছি।"
আসন্ন ঈদুল আজহায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি বলেন, "কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত পরিষ্কার করে সিলেটকে আবার পরিচ্ছন্ন নগরীতে পরিণত করা হবে।" একইসাথে তিনি পশুর চামড়া সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। মন্ত্রী বলেন, "চামড়া দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ বছরে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে। কোরবানির পর চামড়া যেন নষ্ট না হয়, সে জন্য সবাইকে সচেতন হতে হবে।"
মাদ্রাসার শিক্ষক, মুহতামিম ও কোরবানিদাতাদের উদ্দেশে তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, "পশু জবাইয়ের চার ঘণ্টার মধ্যে চামড়ায় লবণ লাগিয়ে সংরক্ষণ করতে হবে। সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হলে সিলেট থেকে চামড়া সংগ্রহ নিশ্চিত করা হবে।"
সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকারসহ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
