জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোয় ফিলিং স্টেশনগুলোতে কমতে শুরু করেছে দীর্ঘ লাইন
সরকার পাম্পে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানো শুরু করার পর সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেল থেকে সারা দেশের ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি নিতে আসা, বিশেষ করে গাড়ি ও মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ লাইন কমতে শুরু করেছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মনির হোসেন চৌধুরী টিবিএসকে বলেন, বর্ধিত হারে তেল সরবরাহ অব্যাহত থাকবে এবং এর প্রভাবে আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে দেশের সব পাম্পে নিয়মিত তেল পাওয়া যাবে। এতে পরিস্থিতিও স্বাভাবিক হবে।
তিনি বলেন, "সোমবার সকাল থেকেই পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার ডিপোগুলো থেকে সারা দেশের ফিলিং স্টেশনগুলোতে বর্ধিত হারে তেল সরবরাহ করা হয়েছে। ডিপো থেকে তেল নিয়ে ট্যাংক লরিগুলোর পাম্পে পৌঁছাতে কোথাও দুপুর, কোথাও বিকেল বা সন্ধ্যা হয়ে গেছে। ফলে বিকেল থেকে পাম্পগুলোর সামনে তেলের জন্য গাড়ির লাইন কমতে শুরু করেছে। আশা করি, দুই-তিন দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।"
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাতের কারণে দেশে জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। রাজধানীসহ সারা দেশের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে তেলের জন্য যানবাহনগুলোকে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত সিরিয়ালে অপেক্ষা করতে দেখা যায়।
শনিবার মধ্যরাত থেকে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা, পেট্রোলের দাম ১৯ টাকা এবং অকটেনের দাম ২০ টাকা বাড়ানো হয়। দাম বাড়ানোর পরও তেল পেতে ভোগান্তি না কমায় জাতীয় সংসদের ভেতরে ও বাইরে সমালোচনা শুরু হয়।
অনেকেই সরকারের দেওয়া তেলের মজুদের তথ্যের সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। এ প্রেক্ষাপটে সোমবার থেকে ডিজেল ও পেট্রোলের সরবরাহ ১০ শতাংশ এবং অকটেনের সরবরাহ ২০ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা দেয় সরকার।
রাজধানীর আসাদগেটের দুটি পেট্রোল পাম্পে তেলের জন্য এতদিন গাড়ির দীর্ঘ লাইন চন্দ্রিমা উদ্যান সংলগ্ন সড়ক পেরিয়ে সংসদ ভবনের পূর্ব-উত্তর কোণা পর্যন্ত পৌঁছাত। তবে সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ওই দুটি পাম্পে গাড়ির লাইন এতটাই কমে যে, তা চন্দ্রিমা উদ্যানের পাশের সড়ক পর্যন্তও পৌঁছায়নি।
সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর পরীবাগে মেঘনা মডেল সার্ভিসেস লিমিটেডে গিয়ে দেখা যায়, আগের মতো দীর্ঘ লাইন নেই এবং তেলেরও তেমন সংকট নেই।
পাম্পটির সহকারী ব্যবস্থাপক আহমদ রুশদ টিবিএসকে বলেন, "এতদিন প্রতিদিন এক ট্যাংক লরি তেল পাওয়া যেত, যাতে ১৩,৫০০ লিটার তেল থাকত। সোমবার ডিপো থেকে দুই ট্যাংক লরিতে ২৭,০০০ লিটার তেল এসেছে। বিকেল ৫টা পর্যন্ত যারা তেল নিতে আসবেন, তাদের সবাই তেল পাবেন।"
রাত ৮টার দিকে মৎস্যভবন সংলগ্ন রমনা ফিলিং স্টেশনের সামনে গিয়ে দেখা যায়, ডিপো থেকে তেল এনে পাম্পে খালাস করা হচ্ছে। তবে পাম্পটির সামনে গাড়ি ও মোটরসাইকেলের তেমন কোনো লাইন নেই।
গুলিস্তান ফিলিং স্টেশনের বিক্রেতা শমসের আলী টিবিএসকে বলেন, "রোববার সকালে এক গাড়ি তেল এসেছিল, যা চার ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। এরপর সোমবার সন্ধ্যার পর তেল নিয়ে পাম্পে গাড়ি আসে। তবে রাতে গাড়ি ও মোটরসাইকেলের লাইন অন্য দিনের তুলনায় কিছুটা কম ছিল।"
তবে কিছু পাম্প মালিকের অভিযোগ, তারা সোমবার ডিপো থেকে বাড়তি তেল পাননি।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত হাসান ফিলিং স্টেশনের মালিক এবং পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির একাংশের আহ্বায়ক সাজ্জাদুল করিম কাবুল টিবিএসকে বলেন, "আমি তেল সংগ্রহ করি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় যমুনা অয়েল কোম্পানির ডিপো থেকে। আমার ট্যাংক লরির ধারণক্ষমতা ১৩,৫০০ লিটার। গত তিন দিন আমাকে ৯,০০০ লিটার করে তেল দেওয়া হয়েছে। সোমবারও তেল নিতে গেলে ডিপো ৯,০০০ লিটার দেওয়ার কথা জানায়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আর তেল নিইনি।"
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র বলেন, "যদি কোনো পেট্রোল পাম্প মালিক অভিযোগ করেন যে তিনি সরকার ঘোষিত বর্ধিত হারে ডিপো থেকে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন পাননি, তাহলে সংশ্লিষ্ট ডিপোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
