বিসিএসসহ সরকারি চাকরির পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের কোনো অবকাশ নেই: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী
বিসিএসসহ সরকারি চাকরির পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের আর কোনো অবকাশ নেই বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী। আজ সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর সোনারগাঁওয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (বিপিএসসি) সংস্কার প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বিসিএস পরীক্ষার মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "বিসিএসসহ চাকরির পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি এখন আর কোনোভাবে আসে না। মূল্যায়ন পদ্ধতিটি কীভাবে সংস্কার বা কীভাবে এটিকে মানুষের কাছে আরও বিশ্বাসযোগ্য করা যায়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মৌখিক পরীক্ষা সম্পর্কে মানুষের অনেক প্রশ্ন থাকে; দেখা যায় মেধাবী ছাত্র বা ফার্স্ট ক্লাস পাওয়া শিক্ষার্থীও কোনোভাবে আসতে পারছে না।"
মৌখিক পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে বিপিএসসির চেয়ারম্যান ও সদস্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, "মৌখিক পরীক্ষার বিষয়টি মানুষের পক্ষে বিশ্বাসযোগ্য করতে কষ্ট হয়। দেখা যায় বারবার ভাইভা দিলেও হয়তো নম্বর কম হচ্ছে। মৌখিক পরীক্ষা কীভাবে বিশ্বাসযোগ্য করা যায়, এ বিষয়ে চেয়ারম্যান এবং সদস্যরা একটু খেয়াল রাখবেন।"
মৌখিক পরীক্ষার নম্বর পরিবর্তনের ইতিহাস তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী আরও বলেন, "মৌখিক পরীক্ষা আগে ২০০ নম্বর ছিল। আমি যখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলাম, তখন এটি ১০০ করার প্রস্তাব করেছিলাম। তখন পিএসসিকে সরকারের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হলে ১০০ নম্বর করা হয়। পরবর্তীতে সেটি আবার ২০০ হলেও বর্তমানে আবার ১০০ নম্বর করা হয়েছে।"
দেশের প্রশাসনিক কাঠামোর সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আমাদের দেশে সব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলো (অর্গানাইজেশন) নষ্ট হয়ে গেছে। মানুষের আস্থা কমে গেছে। এখন এগুলোকে ঠিক করে নিয়ে আসা আমাদের প্রধান দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রী বারবার বলছেন যে—সব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন এবং মেধা, সততা ও দক্ষতার ওপরেই কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন হওয়া উচিত।"
সরকারি কর্মকর্তাদের দক্ষতার অভাব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে যখন লোকজনকে নির্বাচনের জন্য দেওয়া হচ্ছে, তখন দেখা যাচ্ছে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের অনেকে একটা ভালো মিটিং বা বিদেশি দাতাদের (ডোনার) সাথে যোগাযোগও ঠিকভাবে করতে পারছেন না।"
পিএসসির স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "সিভিল সার্ভিসে অবশ্যই সবচেয়ে মেধাবীরা আসবে। মেধাভিত্তিক নিয়োগে স্বাধীনতা দিতে হবে এবং সেটি পালন করতে হবে। আমি যদি নিজে স্বাধীনভাবে কাজ না করি, তাহলে আমাকে কেউ স্বাধীনভাবে কাজ করাতে পারবে না। পিএসসি একটি সাংবিধানিক সংস্থা। স্বাধীনভাবে সততার সাথে দায়িত্ব পালন করলে এখানে কোনো সমস্যা থাকার কারণ নেই।"
দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে আব্দুল বারী বলেন, "আমাদের জনশক্তি (ম্যানপাওয়ার) হচ্ছে সবচেয়ে বড় সম্পদ। আমরা যদি মানবসম্পদের উন্নয়ন করতে না পারি, তবে কোনো কাজই সফলভাবে করতে পারব না। এজন্য নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ থাকবে না। মেধাভিত্তিক নিয়োগের জন্য আমরা প্রক্রিয়াগুলো সঠিকভাবে প্রতিপালন করব। নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকেও এক্ষেত্রে আরও সক্রিয় হতে হবে।"
